অ্যালকোহল পরীক্ষায় ব্যর্থ, এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলটকে সাসপেন্ড
- আপডেট সময় : ০৭:১৮:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 16
গত ৬ সেপ্টেম্বর সুইজারল্যান্ডের জুরিখ বিমানবন্দরে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বড় ধরনের নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। দিল্লিগামী ফ্লাইটটি উড্ডয়নের প্রাক্কালে সংশ্লিষ্ট ফার্স্ট অফিসারের বাধ্যতামূলক অ্যালকোহল পরীক্ষা করা হয়, যেখানে তিনি উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হন। পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসায় তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে বিমান পরিচালনার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। নিরাপত্তার খাতিরে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ওই ফ্লাইটটি পরিচালনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় এবং ওই পাইলটকে সাধারণ যাত্রী হিসেবে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ তাঁকে সাময়িকভাবে সাসপেন্ড করেছে।
এয়ার ইন্ডিয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় না দেওয়ার নীতিতে তারা অটল। নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর বিধি এবং প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত প্রোটোকল লঙ্ঘন করলে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা নিয়মভঙ্গ নিশ্চিত হলে প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জুরিখের এই ঘটনায় চূড়ান্ত মেডিক্যাল পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে কর্তৃপক্ষ। রিপোর্ট আসার আগে ওই পাইলটের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের চূড়ান্ত কোনো নিষ্পত্তি হয়নি। তবে তদন্ত কার্যক্রম চলাকালে দায়িত্ব থেকে তাঁকে দূরে রাখা হয়েছে।
উড্ডয়ন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাইলট এবং কেবিন ক্রুদের জন্য নিয়মিত মাদক ও অ্যালকোহল পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। এর আগে ফুকেত থেকে দিল্লিগামী অপর এক ফ্লাইটের পাইলটের মাদক পরীক্ষায় মারিজুয়ানার উপস্থিতি পাওয়ার ঘটনা এয়ার ইন্ডিয়ার জন্য বাড়তি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরপর দুটি ঘটনায় বিমান সংস্থাটি তাদের কর্মীদের দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নতুন করে সক্রিয় হয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়া দাবি করেছে, নিয়ম মেনে চলা এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখার জন্য কর্মীদের নিয়মিত সচেতনতা ও বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
পাইলটদের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা বিমান চলাচলের নিরাপত্তার অপরিহার্য অংশ। উড়োজাহাজ উড্ডয়নের আগে প্রতিটি কর্মীকে কঠোর স্বাস্থ্য পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। সাইকোঅ্যাক্টিভ পদার্থের প্রভাবমুক্ত থাকা প্রতিটি উড়ানকর্মীর দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। জুরিখ বিমানবন্দরের ঘটনার পর থেকে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে গভীর পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত কারণ এবং সংশ্লিষ্ট পাইলটের দায়বদ্ধতা নিরূপণ করা হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত ওই পাইলটের সাসপেনশন বহাল থাকবে বলে নিশ্চিত করেছে বিমান সংস্থাটি।

























