আর্থিক সংকটে চীনের তিন শীর্ষ উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা
- আপডেট সময় : ০৩:৪২:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
- / 0
চীনের উড়োজাহাজ পরিবহন খাতের তিন জায়ান্ট—এয়ার চায়না, চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনস ও চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইনস বর্তমানে গভীর আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাধারণত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়কাল চীনের এই খাতে পর্যটন ও ছুটির কারণে সবচেয়ে বেশি মুনাফাজনক হিসেবে পরিচিত। কিন্তু চলতি বছর গ্রীষ্মকালীন পর্যটন মৌসুমে প্রত্যাশিত আয় হয়নি, বরং বাড়তি পরিচালন ব্যয় ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সংস্থাগুলোর আর্থিক অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। বছরের প্রথম নয় মাসজুড়েই এই কোম্পানিগুলো লোকসানের ধাক্কা সামাল দিচ্ছে। এমনকি বছরের প্রথম নয় মাসেও লোকসানের মুখে পড়েছে তিনটি সংস্থা। গ্রীষ্মকালীন ছুটি ও পর্যটন মৌসুমকে কেন্দ্র করে এ সময়ে যাত্রীদের ভ্রমণ চাহিদা বাড়ে। বরং বাড়তি জ্বালানি ব্যয়, কম টিকিটের দাম এবং টাইফুনের কারণে ফ্লাইট পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটায় উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে চলতি বছর আবারও লোকসানে পড়তে পারে সংস্থাটি।
পরিসংখ্যান বলছে, এয়ার চায়নার নিট মুনাফা জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ৯২ দশমিক ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ২৭ কোটি ৬ লাখ ইউয়ানে নেমেছে। একই চিত্র দেখা গেছে চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনসের ক্ষেত্রেও, যাদের নিট মুনাফা ৯৮ দশমিক ২ শতাংশ কমে মাত্র ৬ কোটি ৪০ লাখ ইউয়ানে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইনস। গত বছরের একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি ৩৮৪ কোটি ইউয়ান মুনাফা করলেও, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে তাদের ৬০ কোটি ৯০ লাখ ইউয়ান লোকসান গুনতে হয়েছে।
লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, করোনা মহামারির পর থেকেই এয়ার চায়না ও চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনস ধারাবাহিকভাবে লোকসানি ধারায় রয়েছে। ২০১৯ সালের পর প্রথমবারের মতো গত বছর চায়না সাউদার্ন মুনাফায় ফিরে এলেও, চলতি বছর আবারো তারা লোকসানের মুখ দেখছে। এই তিন সংস্থারই দাবি, জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি তাদের পরিচালন খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে ফেব্রুয়ারির শেষ ভাগে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর বিশ্ববাজারে উড়োজাহাজের জ্বালানি তেলের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ সংস্থাগুলো জ্বালানি তেলের দামের অস্থিরতা মোকাবিলায় যেভাবে আগাম মূল্য নির্ধারণ বা হেজিং কৌশল অবলম্বন করে, চীনা এয়ারলাইনসগুলো সেই তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। এ কারণে জ্বালানির বাজার অস্থির হলেই দ্রুত তাদের পরিচালন ব্যয় বেড়ে যায়, যা সরাসরি মুনাফায় প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, বর্তমানের এই আর্থিক চাপ ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত বজায় থাকতে পারে, যা দেশটির এই বড় সংস্থাগুলোর ঘুরে দাঁড়ানোর পথকে আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং করে তুলতে পারে।























