ইউটিউব দেখে জাল নোটের কারখানা গড়ে আটক চার
- আপডেট সময় : ১১:৪০:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
- / 4
ভারতের তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদের উপকণ্ঠে ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও দেখে জাল নোট তৈরির একটি কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো অভিযানে ৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা মূল্যের জাল নোট ও সরঞ্জামসহ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা হলেন মাদুপোজু কর্ণাকার, চিন্নোল্লা মানিক্য রেড্ডি, চেরুকুপেল্লি রত্নাকর রেড্ডি এবং করণম অজয় কুমার। চক্রের আরও তিনজন পলাতক রয়েছে, যাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। এ সময় গাড়িতে থাকা চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। ওই বাড়িতেই তৈরি করা হচ্ছিল জাল নোট। পরে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জাল নোট তৈরির কাজ শুরু করেন।
তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর রামোজি ফিল্ম সিটির কাছে ৬৫ নম্বর জাতীয় সড়কে একটি গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি চালায় আবদুল্লাপুরমেট থানা ও শাদনগর বিশেষ অভিযান দলের সদস্যরা। সে সময় গাড়ি থেকে ৫০০ টাকার নোটে ৮ লাখ টাকার জাল নোট জব্দ করা হয় এবং সন্দেহভাজনদের আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হায়দরাবাদের উপকণ্ঠে কুন্টলুর এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে হানা দিয়ে আরও ১৩৪ বান্ডিল জাল নোট উদ্ধার করা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা। উদ্ধার হওয়া সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে রঙিন প্রিন্টার, স্ক্যানার, কম্পিউটার ও লেমিনেশন মেশিন। এসব নোটের আনুমানিক মূল্য ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এরপর ভাড়া বাড়িতে গড়ে তোলেন জাল নোট ছাপানোর কারখানা। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্তের সূত্র ধরে হায়দরাবাদের উপকণ্ঠে কুন্টলুর এলাকার একটি ভাড়া বাড়ির সন্ধান পান তদন্তকারীরা।
ফিউচার সিটি পুলিশের কমিশনার তরুণ যোশী জানিয়েছেন, মূল অভিযুক্ত মাদুপোজু কর্ণাকার নিজেই ইউটিউব ভিডিও দেখে জাল নোট তৈরির প্রযুক্তি রপ্ত করেছিলেন। প্রাথমিক পরিকল্পনায় তারা আসল এক লাখ টাকার বিনিময়ে তিন থেকে চার লাখ টাকার জাল নোট সরবরাহের প্রলোভন দেখাত। তবে তাতে আশানুরূপ সাড়া না পেয়ে চক্রটি প্রতারণার ভিন্ন পথ বেছে নেয়।
অভিযোগ রয়েছে, সম্ভাব্য ক্রেতাদের বিশ্বাস অর্জনের জন্য শুরুতে কিছু আসল টাকা দেখিয়ে তাদের প্রলুব্ধ করা হতো। পরে ভুয়া পুলিশ পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও জিম্মি করে তাদের কাছ থেকে আসল টাকা হাতিয়ে নেওয়া হতো। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে দলটি ওয়াকিটকি, নকল আগ্নেয়াস্ত্র, ভুয়া পরিচয়পত্র ও জাল নম্বর প্লেটযুক্ত গাড়ি ব্যবহার করত। এ পদ্ধতিতে এখন পর্যন্ত দুই পৃথক ঘটনায় যথাক্রমে দুই লাখ ও তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

























