ইউরোপে চীনের বাণিজ্যিক দাপট, ঘাটতি দিনে ১০০ কোটি ইউরো
- আপডেট সময় : ০৪:৪৩:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
ইউরোপের বাজারে চীনের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক দাপট এবং এর ফলে তৈরি হওয়া বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য বর্তমানে বড় ধরনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মডার্ন ডিপ্লোমেসির তথ্য অনুযায়ী, চীনের সাথে ইইউয়ের বাণিজ্য ঘাটতি এখন প্রতিদিন ১০০ কোটি ইউরো ছাড়িয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে বেইজিং এবং ব্রাসেলসের মধ্যে এই বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা উদ্বেগের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সম্প্রতি চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাওর সঙ্গে বৈঠক করতে চীন সফর করেছেন ইইউয়ের বাণিজ্যবিষয়ক কমিশনার মারোস সেফকোভিচ। বিষয়টি নিয়ে বিগত তিন মাস ধরে চলতে থাকা দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ধারাবাহিকতায় মারোস সেফকোভিচের এ সফর।
ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মূল অভিযোগ হলো, চীনা পণ্যের জন্য ইউরোপের বাজার অবারিত হলেও চীনে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর জন্য ব্যবসায়িক পরিবেশ বেশ প্রতিকূল। ইউরোপীয় সংস্থাগুলোর অভিযোগ, চীনে প্রবেশাধিকার অত্যন্ত কঠিন হওয়ায় তারা বাণিজ্য ক্ষেত্রে সমান সুবিধা পাচ্ছে না। অন্যদিকে, ইউরোপের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো চীনের সাথে এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত না করে কীভাবে নিজেদের অর্থনৈতিক ঝুঁকি কমিয়ে আনা যায়, তা নির্ধারণ করা। ইউরোপীয় সরকার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ইউরোপের বাজারে চীনা পণ্যের অতিরিক্ত আধিপত্য নিয়ে ক্রমাগত উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক দিন দিন অনিশ্চিত হয়ে ওঠার কারণে বেইজিংয়ের কাছে ইউরোপের সাথে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে সমমর্যাদার সংলাপ ও গভীর সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং এ বিষয়ে বলেন, আমরা আশা করি ইউরোপীয় পক্ষ চীনের সাথে একত্রিত হয়ে বাণিজ্য সংকট সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করবে। বেইজিংয়ের এই অবস্থানের মাধ্যমে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, তারা এই আলোচনাকে কেবল ইউরোপের একতরফা দাবির মুখে নতি স্বীকার হিসেবে দেখতে চায় না। বরং পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে ভারসাম্যপূর্ণ আলোচনার ওপর জোর দিচ্ছে চীন।
উভয় পক্ষের মধ্যকার এই উত্তেজনা প্রশমন এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে উচ্চ পর্যায়ের তৎপরতা শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর কূটনৈতিক উপদেষ্টা ইমানুয়েল বোন আগামী ৯ থেকে ১৩ অক্টোবর চীন সফর করবেন। এই সফরের মাধ্যমে উভয় পক্ষ তাদের বিদ্যমান বাণিজ্য বিতর্ক ও অর্থনৈতিক উদ্বেগের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। একটি স্থিতিশীল অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক উভয় পক্ষের যৌথ স্বার্থ রক্ষা করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
উল্লেখ্য যে, কেবল বাণিজ্য ঘাটতিই নয়, বরং বিরল খনিজ পণ্য রপ্তানিতে চীনের কড়াকড়ি এবং সার্বিক অর্থনৈতিক সম্পর্কে দিন দিন যে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে, তা ইউরোপের নীতিনির্ধারকদের ভাবিয়ে তুলছে। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনের কূটনৈতিক আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে উভয় পক্ষ কীভাবে এই জটিল অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠে এবং দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্যিক সমতা নিশ্চিত করে। চীন থেকে ইইউতে পণ্য আমদানির পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। তবে, দুই পক্ষের এই বিরোধ এখন কেবল সাধারণ পণ্যে সীমাবদ্ধ নেই।
























