ঢাকা ০১:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জাপানে ভারী বৃষ্টিতে ৫ জনের মৃত্যু পরমাণু অস্ত্র ঠেকানো নয়, তেলের দাম কম রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য : জেডি ভ্যান্স ১০ কোটি ভিউ পার করলো ইমরান-পড়শীর ‘জনম জনম’ যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার আগে নতুন প্রতিরোধ হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার নিউজিল্যান্ডের গোয়েন্দা সংস্থার গোয়েন্দাগিরির অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ : চীন ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নয়, যুদ্ধে তেলের দাম কমানোই এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেঞ্চুরি তানজিদের বেগম খালেদা জিয়া : গৃহবধূ থেকে আপসহীন নেত্রী মুরাদনগরে দুই দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে এফটিএ নিয়ে আলোচনা

ইসরায়েলের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে উত্তপ্ত মার্কিন রাজনীতি

  • আপডেট সময় : ১২:৪৪:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
  • / 22
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার দাবি তুলেছেন একদল ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য। ইসরায়েলের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে মার্কিন সরকারের কয়েক দশকের রহস্যময় নীরবতা বা ‘অস্পষ্টতার নীতি’ ভাঙার জন্য তারা জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।

সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-র কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তারা এই স্পর্শকাতর বিষয়টি সামনে আনেন। তাদের মতে, বর্তমানে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

চিঠিতে স্বাক্ষরকারী ৩০ জন আইনপ্রণেতা উল্লেখ করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো ধরনের সংঘাতের ভয়াবহতা এবং পারমাণবিক ভারসাম্যের বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। তারা দাবি করেন, বর্তমান সংঘাতের সময় পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি বা এ নিয়ে প্রশাসনের কাছে কী ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে, সে সম্পর্কে তাদের পর্যাপ্ত তথ্য দেওয়া হয়নি। সরকারিভাবে ইসরায়েলের এই সক্ষমতাকে এড়িয়ে যাওয়ার নীতি এই অঞ্চলে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ প্রচেষ্টাকে প্রায় অসম্ভব করে তুলছে বলে তারা মনে করেন।

আইনপ্রণেতারা পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও-র কাছে সরাসরি জানতে চেয়েছেন, ইসরায়েলের কাছে বর্তমানে ঠিক কী পরিমাণ পারমাণবিক অস্ত্র এবং সেগুলো ছোড়ার উপযোগী সরঞ্জাম রয়েছে। চিঠিতে বিশেষভাবে নেগেভ নিউক্লিয়ার রিসার্চ সেন্টারের কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের পারমাণবিক কর্মসূচির মূল কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এছাড়া ইসরায়েল বর্তমানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ করছে কি না এবং করলে তার মাত্রা ঠিক কত, তা নিয়ে স্বচ্ছতা দাবি করা হয়েছে এই চিঠিতে।

এই দাবির একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো সংঘাতের রেড লাইন বা সীমা নির্ধারণ। আইনপ্রণেতারা জানতে চেয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েল কি তাদের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কোনো নির্দিষ্ট শর্ত বা সীমা মার্কিন প্রশাসনের কাছে স্পষ্ট করেছে। একইসঙ্গে বর্তমান বা অতীতে কোনো যুদ্ধ চলাকালীন ইসরায়েল কখনো পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন বা ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছিল কি না, সে বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্যের দাবিও জানানো হয়েছে এই নথিতে।

ঐতিহাসিকভাবে ইসরায়েল তাদের পারমাণবিক অস্ত্র সম্পর্কে কখনো সরাসরি স্বীকারোক্তি দেয়নি। ১৯৬০-এর দশক থেকেই তারা পারমাণবিক অস্পষ্টতার নীতি বজায় রেখে আসছে। ১৯৬৯ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী গোল্ড মেয়ারের মধ্যে এক গোপন সমঝোতা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়, যেখানে ওয়াশিংটন এই অস্ত্র কর্মসূচির ওপর চাপ না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে বিভিন্ন গোয়েন্দা নথি ও সাবেক কর্মকর্তাদের বক্তব্যে বারবার ইসরায়েলের এই বিশাল অস্ত্রাগারের অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়েছে।

নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভ-এর তথ্যমতে, ইসরায়েলের কাছে বর্তমানে অন্তত ৯০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। এছাড়া তাদের কাছে বিপুল পরিমাণ প্লুটোনিয়াম মজুদ এবং এমন শক্তিশালী সাবমেরিন রয়েছে যা থেকে পারমাণবিক হামলা চালানো সম্ভব। তাদের হাতে থাকা ব্যালিস্টিক মিসাইলগুলো তিন হাজার থেকে চার হাজার মাইল পর্যন্ত লক্ষ্যভেদে সক্ষম। মার্কিন আইনপ্রণেতারা এই বিপুল ধ্বংসক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্রের অস্তিত্বকে আর আড়ালে রাখার কোনো যুক্তি খুঁজে পাচ্ছেন না।
বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ইসরায়েলের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে উত্তপ্ত মার্কিন রাজনীতি

আপডেট সময় : ১২:৪৪:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার দাবি তুলেছেন একদল ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য। ইসরায়েলের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে মার্কিন সরকারের কয়েক দশকের রহস্যময় নীরবতা বা ‘অস্পষ্টতার নীতি’ ভাঙার জন্য তারা জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।

সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-র কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তারা এই স্পর্শকাতর বিষয়টি সামনে আনেন। তাদের মতে, বর্তমানে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

চিঠিতে স্বাক্ষরকারী ৩০ জন আইনপ্রণেতা উল্লেখ করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো ধরনের সংঘাতের ভয়াবহতা এবং পারমাণবিক ভারসাম্যের বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। তারা দাবি করেন, বর্তমান সংঘাতের সময় পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি বা এ নিয়ে প্রশাসনের কাছে কী ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে, সে সম্পর্কে তাদের পর্যাপ্ত তথ্য দেওয়া হয়নি। সরকারিভাবে ইসরায়েলের এই সক্ষমতাকে এড়িয়ে যাওয়ার নীতি এই অঞ্চলে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ প্রচেষ্টাকে প্রায় অসম্ভব করে তুলছে বলে তারা মনে করেন।

আইনপ্রণেতারা পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও-র কাছে সরাসরি জানতে চেয়েছেন, ইসরায়েলের কাছে বর্তমানে ঠিক কী পরিমাণ পারমাণবিক অস্ত্র এবং সেগুলো ছোড়ার উপযোগী সরঞ্জাম রয়েছে। চিঠিতে বিশেষভাবে নেগেভ নিউক্লিয়ার রিসার্চ সেন্টারের কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের পারমাণবিক কর্মসূচির মূল কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এছাড়া ইসরায়েল বর্তমানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ করছে কি না এবং করলে তার মাত্রা ঠিক কত, তা নিয়ে স্বচ্ছতা দাবি করা হয়েছে এই চিঠিতে।

এই দাবির একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো সংঘাতের রেড লাইন বা সীমা নির্ধারণ। আইনপ্রণেতারা জানতে চেয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েল কি তাদের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কোনো নির্দিষ্ট শর্ত বা সীমা মার্কিন প্রশাসনের কাছে স্পষ্ট করেছে। একইসঙ্গে বর্তমান বা অতীতে কোনো যুদ্ধ চলাকালীন ইসরায়েল কখনো পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন বা ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছিল কি না, সে বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্যের দাবিও জানানো হয়েছে এই নথিতে।

ঐতিহাসিকভাবে ইসরায়েল তাদের পারমাণবিক অস্ত্র সম্পর্কে কখনো সরাসরি স্বীকারোক্তি দেয়নি। ১৯৬০-এর দশক থেকেই তারা পারমাণবিক অস্পষ্টতার নীতি বজায় রেখে আসছে। ১৯৬৯ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী গোল্ড মেয়ারের মধ্যে এক গোপন সমঝোতা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়, যেখানে ওয়াশিংটন এই অস্ত্র কর্মসূচির ওপর চাপ না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে বিভিন্ন গোয়েন্দা নথি ও সাবেক কর্মকর্তাদের বক্তব্যে বারবার ইসরায়েলের এই বিশাল অস্ত্রাগারের অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়েছে।

নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভ-এর তথ্যমতে, ইসরায়েলের কাছে বর্তমানে অন্তত ৯০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। এছাড়া তাদের কাছে বিপুল পরিমাণ প্লুটোনিয়াম মজুদ এবং এমন শক্তিশালী সাবমেরিন রয়েছে যা থেকে পারমাণবিক হামলা চালানো সম্ভব। তাদের হাতে থাকা ব্যালিস্টিক মিসাইলগুলো তিন হাজার থেকে চার হাজার মাইল পর্যন্ত লক্ষ্যভেদে সক্ষম। মার্কিন আইনপ্রণেতারা এই বিপুল ধ্বংসক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্রের অস্তিত্বকে আর আড়ালে রাখার কোনো যুক্তি খুঁজে পাচ্ছেন না।
বিডিসংবাদ/এএইচএস