ইস্তাম্বুলে বকেয়া ঋণের দায়ে ইরানি কাসপিয়ান এয়ারলাইন্সের বিমান জব্দ
- আপডেট সময় : ১২:৪০:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 1
তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে ২৯ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার ইরানের কাসপিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজ জব্দ করা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ প্রায় ৩০ লাখ ইউরো বকেয়া ঋণ পরিশোধ সংক্রান্ত একটি আইনি আদেশের ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা নিয়েছে। ইরান ও তুরস্কের সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি সেই সময় ইস্তাম্বুল থেকে তেহরান যাওয়ার প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে ছিল এবং যাত্রীরা উড্ডয়নের অপেক্ষায় বিমানে বসে ছিলেন। এমন মুহূর্তে আদালতের প্রতিনিধিরা বিমানে প্রবেশ করেন এবং উড্ডয়নের পূর্বেই বিমানটি জব্দ করেন। দ্য ইউরো নিউজ এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
এই ঘটনার পর ফ্লাইটটির কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা হয় এবং যাত্রীদের বিমান থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। কাসপিয়ান এয়ারলাইন্স তাদের এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তাদের বোয়িং উড়োজাহাজটি ইস্তাম্বুলে আটকে পড়েছে। বিমান সংস্থাটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরকে পরিষেবা বাবদ পাওনা প্রায় ৩০ লাখ ইউরোর হিসাব নিষ্পত্তির জন্য তারা ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করেছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সংকটের সমাধান করে বিমানটি ইরানে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে তারা আশাবাদী। এতে আরও বলা হয়, ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর পরিষেবা বাবদ প্রায় ৩০ লাখ ইউরোর বকেয়া অর্থের হিসাব নিষ্পত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বিমান চলাচল খাতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের কয়েক দিনের মাথায় এই ঘটনা ঘটল। যদিও প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, বিমান জব্দের এই আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। তবে নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানি এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক ডলারভিত্তিক বাণিজ্যে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে, যা ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন ব্যবস্থায় নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অর্থ ব্যবস্থার প্রভাব কাজে লাগিয়ে ইরানের বিমান সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইরানি এয়ারলাইন্সের সঙ্গে বাণিজ্য করা প্রতিষ্ঠানগুলো ডলারভিত্তিক আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
তুরস্ক অবশ্য এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সব নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে কার্যকর করেনি এবং দুই দেশের মধ্যে আকাশপথের যোগাযোগও সচল রয়েছে। ইরান এয়ারের মতো বেশ কিছু সংস্থা এখনো নিয়মিত যাত্রী পরিবহন করছে। তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের বৃহৎ পণ্য পরিবহনকারী সংস্থা মহান এয়ার ঘোষণা দিয়েছে যে, আঙ্কারার অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে তারা তুরস্কে তাদের সব ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে। সব মিলিয়ে বকেয়া অর্থ, প্রশাসনিক জটিলতা এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তুরস্ক-ইরান বিমান যোগাযোগ এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। দেশটির সঙ্গে ইরানের বিমান যোগাযোগও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।






















