ঢাকা ০৮:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উড়োজাহাজের কার্গো নিরাপত্তা জোরদারে আইএটিএর কড়াকড়ি

  • আপডেট সময় : ০৮:২২:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 4
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

উড়োজাহাজের কার্গো পরিবহনে নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে আইএটিএ সরবরাহ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, কার্গোতে ঘোষণা না করা বা ইচ্ছাকৃতভাবে লুকিয়ে রাখা বিপজ্জনক পণ্য প্রবেশ একটি বড় উদ্বেগ। শুধু বিমানবন্দরের তল্লাশি বাড়িয়ে এই ঝুঁকি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়; বরং পণ্য পরিবহন শুরু থেকে উড়োজাহাজে ওঠানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসের তথ্য অনুযায়ী, আইএটিএ-র কাছে আসা বিপজ্জনক পণ্যসংক্রান্ত প্রতিবেদনের প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রেই পণ্যগুলো হয় ঘোষণা করা হয়নি, নয়তো গোপন করা হয়েছিল। এগুলোর মধ্যে লিথিয়াম ব্যাটারি, অ্যারোসল এবং ই-সিগারেটের মতো পণ্যগুলো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখা গেছে। প্রচলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা মূলত বিস্ফোরক শনাক্তের জন্য তৈরি হওয়ায়, উড়োজাহাজে আগুন বা বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম এমন পণ্য শনাক্তে তা সবসময় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না।

আইএটিএ-র কার্গো বিভাগের বৈশ্বিক প্রধান ব্রেন্ডান সুলিভান জানিয়েছেন, বিপজ্জনক পণ্য প্রতিরোধে সরবরাহ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি পক্ষের সমন্বিত দায়িত্ব রয়েছে। কোনো একটি নির্দিষ্ট বিভাগের ওপর নির্ভর না করে পুরো পরিবহন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। সংস্থাটি নতুন একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছে, যেখানে পণ্য উৎপাদন, প্যাকেজিং, বুকিং থেকে শুরু করে চূড়ান্ত পরিবহন পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে তথ্যের স্বচ্ছতা ও সঠিক সনদায়ন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

সরকারগুলোর প্রতি আইএটিএ-র আহ্বান, বিপজ্জনক পণ্য নিয়ন্ত্রণ ও আইন প্রয়োগে নজরদারি আরও শক্তিশালী করতে হবে। পাশাপাশি অনলাইন মার্কেটপ্লেস ও উৎপাদকদের তাদের পণ্যের সঠিক তথ্য সরবরাহ করতে বলা হয়েছে। শিপার, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার এবং ডাকসেবা কর্মীরা যাতে আরও দক্ষভাবে ঝুঁকি শনাক্ত করতে পারেন, সেজন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ওপরও জোর দিয়েছে সংস্থাটি।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, এয়ারলাইন এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলারদের উদ্দেশ্যে আইএটিএ জানিয়েছে, কার্গো তোলার আগে তল্লাশি ব্যবস্থা আরও কঠোর করতে হবে এবং নিজেদের মধ্যে তথ্য বিনিময়ের ক্ষেত্র বাড়াতে হবে। কার্গোতে ভুল বা মিথ্যা ঘোষণায় শুধু একটি চালান নয়, পুরো উড়োজাহাজ ও যাত্রীদের জীবনের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে। তাই ঝুঁকি কমাতে সরবরাহ ব্যবস্থায় সম্মিলিত ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি।

নিউজটি শেয়ার করুন

উড়োজাহাজের কার্গো নিরাপত্তা জোরদারে আইএটিএর কড়াকড়ি

আপডেট সময় : ০৮:২২:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উড়োজাহাজের কার্গো পরিবহনে নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে আইএটিএ সরবরাহ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, কার্গোতে ঘোষণা না করা বা ইচ্ছাকৃতভাবে লুকিয়ে রাখা বিপজ্জনক পণ্য প্রবেশ একটি বড় উদ্বেগ। শুধু বিমানবন্দরের তল্লাশি বাড়িয়ে এই ঝুঁকি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়; বরং পণ্য পরিবহন শুরু থেকে উড়োজাহাজে ওঠানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসের তথ্য অনুযায়ী, আইএটিএ-র কাছে আসা বিপজ্জনক পণ্যসংক্রান্ত প্রতিবেদনের প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রেই পণ্যগুলো হয় ঘোষণা করা হয়নি, নয়তো গোপন করা হয়েছিল। এগুলোর মধ্যে লিথিয়াম ব্যাটারি, অ্যারোসল এবং ই-সিগারেটের মতো পণ্যগুলো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখা গেছে। প্রচলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা মূলত বিস্ফোরক শনাক্তের জন্য তৈরি হওয়ায়, উড়োজাহাজে আগুন বা বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম এমন পণ্য শনাক্তে তা সবসময় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না।

আইএটিএ-র কার্গো বিভাগের বৈশ্বিক প্রধান ব্রেন্ডান সুলিভান জানিয়েছেন, বিপজ্জনক পণ্য প্রতিরোধে সরবরাহ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি পক্ষের সমন্বিত দায়িত্ব রয়েছে। কোনো একটি নির্দিষ্ট বিভাগের ওপর নির্ভর না করে পুরো পরিবহন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। সংস্থাটি নতুন একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছে, যেখানে পণ্য উৎপাদন, প্যাকেজিং, বুকিং থেকে শুরু করে চূড়ান্ত পরিবহন পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে তথ্যের স্বচ্ছতা ও সঠিক সনদায়ন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

সরকারগুলোর প্রতি আইএটিএ-র আহ্বান, বিপজ্জনক পণ্য নিয়ন্ত্রণ ও আইন প্রয়োগে নজরদারি আরও শক্তিশালী করতে হবে। পাশাপাশি অনলাইন মার্কেটপ্লেস ও উৎপাদকদের তাদের পণ্যের সঠিক তথ্য সরবরাহ করতে বলা হয়েছে। শিপার, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার এবং ডাকসেবা কর্মীরা যাতে আরও দক্ষভাবে ঝুঁকি শনাক্ত করতে পারেন, সেজন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ওপরও জোর দিয়েছে সংস্থাটি।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, এয়ারলাইন এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলারদের উদ্দেশ্যে আইএটিএ জানিয়েছে, কার্গো তোলার আগে তল্লাশি ব্যবস্থা আরও কঠোর করতে হবে এবং নিজেদের মধ্যে তথ্য বিনিময়ের ক্ষেত্র বাড়াতে হবে। কার্গোতে ভুল বা মিথ্যা ঘোষণায় শুধু একটি চালান নয়, পুরো উড়োজাহাজ ও যাত্রীদের জীবনের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে। তাই ঝুঁকি কমাতে সরবরাহ ব্যবস্থায় সম্মিলিত ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি।