এআই নজরদারি ও ১০ লেনে উন্নীতকরণে বদলে যাচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক
- আপডেট সময় : ০৫:২১:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 17
দেশের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে আধুনিক, নিরাপদ এবং যানজটমুক্ত করার লক্ষ্যে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এই প্রকল্পের আওতায় প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সমৃদ্ধ ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি, স্বয়ংক্রিয় জরিমানা ব্যবস্থা, নতুন ওভারপাস-আন্ডারপাস নির্মাণ এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় মহাসড়কটিকে ১০ লেনে উন্নীত করার কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরার পাশাপাশি দুর্ঘটনা ও যানজট উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত ১৮ আগস্ট থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের শনাক্ত করতে এআই ক্যামেরা ও ‘অটো ফাইন’ ব্যবস্থা চালু হয়েছে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর সাইনবোর্ড থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত প্রায় ২৫০ কিলোমিটার এলাকা এই নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। সড়ক ও জনপদ বিভাগ মহাসড়কের ৪৯০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মোট ১ হাজার ৪২৭টি এআই ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। এই ক্যামেরাগুলো অতিরিক্ত গতি, নির্ধারিত লেন না মানা, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, উল্টো পথে গাড়ি চালানো এবং অবৈধ পার্কিংসহ বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করছে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব জানান, দেশের অর্থনীতির প্রাণস্বরূপ এই মহাসড়কে যাতায়াত নিরাপদ করতে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। তিনি বলেন, এআই ক্যামেরা ও অটো ফাইন ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে ট্রাফিক আইন প্রয়োগে নতুন যুগের সূচনা হয়েছে, যা চালকদের মধ্যে আইন মেনে চলার প্রবণতা বাড়াবে। এই ব্যবস্থা চালুর প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই ৪৪৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং মোট ১৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এর মধ্যে অতিরিক্ত গতির জন্য মামলার সংখ্যাই ছিল সবচেয়ে বেশি।
জরিমানা আদায়ের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা গেছে, আইন লঙ্ঘনের তথ্য পাওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ির নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে জরিমানার নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে সহজেই এই অর্থ পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে আইন লঙ্ঘনের ঘটনা বেশি ধরা পড়লেও নিয়মিত নজরদারির ফলে চালকদের সচেতনতা বাড়বে। এই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা ট্রাফিক আইন প্রয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করবে এবং চালক বা মালিকদের হয়রানি কমাবে।
মহাসড়কের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব জানান, ভবিষ্যতের যানবাহনের চাপ বিবেচনায় নিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে ১০ লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়ে সরকার এগোচ্ছে। বর্তমানে এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। এছাড়া, মহাসড়কের যানজটপ্রবণ পদুয়াবাজার এলাকার বিদ্যমান ওভারপাস সম্প্রসারণের জন্য নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে। পদুয়াবাজারসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় যানজট ও দুর্ঘটনা কমাতে পাঁচটি আন্ডারপাস নির্মাণের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।
সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ২৩২ কিলোমিটার অংশকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে রূপান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পাওয়ার পর এরই মধ্যে এর ডিজাইন সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন অর্থায়নের বিষয়টি নিশ্চিত হলে ডিপিপি প্রণয়নের কাজ শুরু হবে। এই আধুনিক অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে সময় সাশ্রয় হবে এবং দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শুধু সড়ক প্রশস্ত করাই নয়, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণকে আমরা সমান গুরুত্ব দিচ্ছি।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ তথ্য থেকেই বোঝা যায়, মহাসড়কে উচ্চগতিতে গাড়ি চালানোর প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দেশের প্রধান দুই বাণিজ্যিক কেন্দ্র ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যান চলাচল করে।


























