এক বছর পর ছাতকের রেলওয়ে স্লিপার কারখানায় উৎপাদন শুরু
- আপডেট সময় : ০১:১৯:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
- / 1
সুনামগঞ্জের ছাতকে অবস্থিত বাংলাদেশ রেলওয়ের একমাত্র সরকারি কংক্রিট স্লিপার প্ল্যান্টে দীর্ঘ এক বছর পর পুনরায় উৎপাদন কার্যক্রম সচল হয়েছে। গত রবিবার থেকে কারখানাটিতে পুরোদমে স্লিপার তৈরির কাজ শুরু হয়। এর ফলে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের জন্য প্রয়োজনীয় স্লিপার সরবরাহে নতুন গতির সঞ্চার হয়েছে। মূলত এই প্লান্টে উৎপাদিত স্লিপার বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
কারখানাটির এমন দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার পেছনে যান্ত্রিক ত্রুটি, কাঁচামালের সংকট এবং দক্ষ জনবলের অভাবসহ নানা জটিলতা দায়ী ছিল। বিশেষ করে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যার সময় প্ল্যান্টটি তলিয়ে যাওয়ায় এর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল মেশিনারিজের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিশ্বাস কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের পরিচালক মো. আশরাফ উদ্দিন জানান, বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রাংশ মেরামত ও কঠোর পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করতেই দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয়েছে। এখন সব প্রস্তুতি শেষে নিয়মিত উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়েছে। রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ছাতকের এই প্লান্টটি দীর্ঘদিন ধরেই যান্ত্রিক ত্রুটি, কাঁচামালের তীব্র সংকট ও জনবল ঘাটতিসহ নানান জটিলতায় জর্জরিত ছিল। মূলত বন্যাদুর্গত মেশিনারিজ মেরামত ও ধাপে ধাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করতেই সময় গড়িয়ে কারখানা চালু করতে দীর্ঘ বিলম্ব হয়।
১৯৮৮ সালে রেললাইনের মজবুত ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে ছাতকের এই প্ল্যান্টটি যাত্রা শুরু করে। সেই সময়ে দৈনিক ২৬৪টি কংক্রিট স্লিপার তৈরির সক্ষমতা নিয়ে কারখানাটি চালু হয়েছিল। সময়ের ব্যবধানে ২০০০ সাল পর্যন্ত স্বাভাবিক গতিতে চললেও পরবর্তীতে ২০১২, ২০১৪, ২০১৬ ও ২০২০ সালেও বিভিন্ন মেয়াদে এটি বন্ধ ও সচল হওয়ার মধ্য দিয়ে গেছে। এমনকি গত বছরেও কয়েকবার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও যান্ত্রিক ক্রুটি ও কাঁচামালের স্বল্পতায় তা ব্যাহত হয়। ইতিপূর্বে গত বছরেও কয়েক দফায় প্লান্টটিতে উৎপাদন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও যান্ত্রিক ক্রুটি ও কাঁচামাল সংকটে অল্প সময়ের ব্যবধানে তা আবারও অচল হয়ে পড়েছিল। কাঠের স্লিপারের তুলনায় কংক্রিটের স্থায়িত্ব বহুগুণ বেশি হওয়ায় রেলপথে এর ভূমিকা অপরিসীম।
নতুন করে চালুর পর আগামী এক বছরের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে ৬ দিন ২৪০টি করে মোট ২৫ হাজার স্লিপার উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব নিশ্চিত করেছেন যে, মেরামত কাজ শেষে কারখানা এখন নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
উৎপাদন শুরুর পরপরই কারখানা এলাকা পরিদর্শনে যান বিশ্বাস কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের পরিচালক মো. আশরাফ উদ্দিন এবং রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের অতিরিক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে কারখানাটি যখন দীর্ঘ সময় ধরে নানা সংকটে ছিল, তখন পঞ্চগড়, বাংলাবান্ধা ও জামালপুরে বেসরকারি খাতে কয়েকটি নতুন স্লিপার প্ল্যান্ট গড়ে ওঠে। সেখান থেকেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ স্লিপার সংগ্রহ করছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

























