কাপ্তাই লেকের পানি ছাড়া নিয়ে শঙ্কা
- আপডেট সময় : ১০:৪০:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 21
কাপ্তাই লেকের পানি বর্ষায় যথাযথভাবে ধরে রাখার বদলে ধারণক্ষমতার অনেক নিচেই ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে আসন্ন শুষ্ক মৌসুমে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের অন্তত দুটি ইউনিট সচল রাখা এবং চট্টগ্রাম নগরীতে নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ বজায় রাখা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রাম ওয়াসা সতর্ক করেছে যে, লেকের পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে কমে গেলে কর্ণফুলী ও হালদা নদীতে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি প্রবেশ করবে, যা নগরীর শোধনাগারগুলোর উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে।
চলতি বছরে কাপ্তাই লেকের পানির উচ্চতা একবারও এর পূর্ণ ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুটের কাছাকাছি পৌঁছায়নি। অথচ ১০৫ ফুটের কিছুটা বেশি হলেই লেকের ১৬টি জলকপাট বা স্পিলওয়ে খুলে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। গত ৩০ আগস্ট পিডিবিকে চিঠি দিয়েও পানি ছাড়ার কার্যক্রম বন্ধ না হওয়ায় এখন মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে সংস্থাটি।
প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, বর্ষা মৌসুমের শেষে অর্থাৎ আগস্টের শেষ বা সেপ্টেম্বরের শুরুতে লেকে ১০৮ ফুট পানি সংরক্ষণের লক্ষ্য থাকে। বিগত বছরগুলোতে এই নিয়ম অনুসরণ করা হলেও চলতি বছর পানির উচ্চতা ১০৫ ফুট অতিক্রম করলেই জলকপাট খুলে দেওয়া হচ্ছে। ওয়াসা সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুলাই ১০৪.১২ ফুট উচ্চতায় পাঁচ দিন পানি ছাড়া হয়। এরপর ২৯ আগস্ট পানির উচ্চতা ১০৬.১ ফুটে উঠলে পুনরায় স্পিলওয়ে খুলে দেওয়া হয় এবং ১১ সেপ্টেম্বর আবারও জলকপাট খোলা হয়। বর্তমানে লেকের পানির উচ্চতা ১০৫.৫১ ফুট। এভাবে পানি ছাড়তে থাকলে সেপ্টেম্বরের মধ্যেই পানির স্তর ১০২ ফুটের নিচে নেমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ওয়াসার হিসাবমতে, আগামী এপ্রিলের আগেই পানির স্তর ৭০ ফুটের ‘ডেড স্টোরেজ’ পর্যায়ে নেমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম জানান, মোহরা ও মদুনাঘাট শোধনাগারের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ১৮ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা হয়। যদি কাপ্তাই লেকের দুটি টারবাইন সচল না থাকে, তবে প্রতিদিন আট থেকে ১০ কোটি লিটারের পানির ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা পূরণের কোনো বিকল্প উৎস নেই। ২০১৫ সালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, হালদায় লবণাক্ততা ঠেকাতে নভেম্বর থেকে মে পর্যন্ত অন্তত দুটি টারবাইন সচল রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
এদিকে, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ম্যানেজার মাহামুদ হাসান জানিয়েছেন, লেক ব্যবস্থাপনা সাব-কমিটির সভাপতি ও রাঙামাটির জেলা প্রশাসকের নির্দেশেই মূলত পানি ছাড়া হচ্ছে। জুলাই মাসের সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে পানির উচ্চতা ১০৫ ফুটের উপরে উঠলেই পানি ছেড়ে দিতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জলকপাট খোলার অন্তত আট ঘণ্টা আগে বন্দর, ওয়াসা ও নৌবাহিনীকে অবহিত করার নিয়ম থাকলেও, গত ২৯ আগস্ট রাত ১০টার পরিবর্তে জেলা প্রশাসকের চাপের মুখে রাত ৮টাতেই স্পিলওয়ে খুলতে হয়েছে।
এ বিষয়ে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক ও লেক ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নাজমা আশরাফী জানান, লেকের বিভিন্ন এলাকার জনবসতি ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি মাসিক বৈঠকে কমিটির সম্মিলিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পানি ছাড়া হয়। এটি তার একক কোনো সিদ্ধান্ত নয়। তিনি জানান, ১৫ সেপ্টেম্বর একটি ফলোআপ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে পানির উচ্চতা সংরক্ষণের বিষয়ে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত এলে তা বাস্তবায়ন করা হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সব মিলিয়ে বর্ষায় কতটুকু পানি জমা রাখা হবে, এই মাইক্রো ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অতিরিক্ত বৃষ্টি কিংবা পাহাড়ি ঢলে ১০৮ ফুটের উপরে পানি উঠে গেলে জলকপাট খুলে পানি ছেড়ে দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসার কপালে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কারণ, বর্ষা মৌসুমে লেকে পর্যাপ্ত পানি সংরক্ষণ করা না হলে শুষ্ক মৌসুমে পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ভয়াবহ পানি সংকট দেখা দেবে চট্টগ্রাম মহানগরীতে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০১৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হালদায় লবণাক্ততা ঠেকাতে নভেম্বর থেকে মে পর্যন্ত কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের অন্তত দুটি টারবাইন সচল রাখার নির্দেশনা রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে চলতি বছর জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত কাপ্তাই লেকে পানির মজুত আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কম ছিল এবং নির্ধারিত ‘রুল কার্ভ’-এর মানদণ্ডেরও নিচে ছিল বলে জানিয়েছে ওয়াসা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই স্তরকে লেকের ‘ডেড স্টোরেজ’ পর্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই স্তরে পৌঁছালে লেক কার্যত পানিশূন্য হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে পড়বে।

























