ঢাকা ০২:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কিম জং উনের কি কোনো ছেলে সন্তান আছে? উত্তর খুঁজছে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা

  • আপডেট সময় : ১১:১২:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 28
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের গোপন কোনো ছেলে সন্তান রয়েছে কি না, তা নিয়ে গোয়েন্দা তদন্ত চালাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (এনআইএস)। গত ১০ সেপ্টেম্বর সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কিম জং উনের কোনো পুত্রসন্তান আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে। ২০১১ সালে কিম জং ইলের মৃত্যুর পর ৪২ বছর বয়সী কিম জং উন উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতার ভার গ্রহণ করেন।

এনআইএসের ভাষ্য অনুযায়ী, যদি কিমের কোনো ছেলেও থেকে থাকে, তবে বর্তমান বাস্তবতায় তিনি উত্তরসূরি হওয়ার অবস্থানে নেই। সংস্থাটি তাদের পূর্বের মূল্যায়নে অটল যে, কিম জং উনের কন্যা কিম জু এ-ই পরবর্তী নেতৃত্বে আসার সবচেয়ে সম্ভাবনাময় উত্তরাধিকারী। আনুমানিক ১৩ বছর বয়সী কিম জু এ-র রাজনৈতিক অবস্থান ও গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত তথ্য না দিলেও, গোয়েন্দারা তার প্রকাশ্য রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করছেন। এছাড়া কিম জং উনের আরও একটি ছোট সন্তান রয়েছে, তবে সেই সন্তানের লিঙ্গ পরিচয় সম্পর্কে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, কিমের স্ত্রী রি সল জুর কোনো ছেলে সন্তান নেই। ওই প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতেই মূলত এনআইএস তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। ২০২৩ সালে এক দক্ষিণ কোরীয় আইনপ্রণেতা সংসদীয় কমিটিতে এনআইএসের বরাতে জানিয়েছিলেন যে, কিম জু এ-র একজন বড় ভাই আছেন। পরবর্তীতে গোয়েন্দা সংস্থাটি জানায়, বিষয়টি এখনো যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে এবং কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।

কিম জু এ-কে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জল্পনা-কল্পনা বাড়ছে ২০২২ সালের শেষ দিক থেকে। এরপর থেকে তিনি একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ও সামরিক কুচকাওয়াজের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বাবার সঙ্গে উপস্থিত হয়েছেন। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাকে ‘সবচেয়ে প্রিয়’ সন্তান হিসেবে উপস্থাপন করে এবং নিয়মিত তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ছবি ও ভিডিও প্রচার করে তার রাজনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে।

কিম জু এ-র বড় ভাইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে গোয়েন্দা মহলে আলোচনার পেছনে প্রধান কারণ হলো উত্তর কোরিয়ার গভীরভাবে প্রোথিত পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতা কাঠামো। ১৯৪৮ সালে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশটির তিনজন নেতাই ছিলেন কিম পরিবারের পুরুষ সদস্য। কিম ইল সুং, কিম জং ইল এবং বর্তমান নেতা কিম জং উন—এই ধারাবাহিকতাই দেশটির ক্ষমতার মূল ভিত্তি। ফলে কিম জু এ-র বিপরীতে কোনো পুরুষ উত্তরাধিকারী থাকা বা না থাকার বিষয়টি দেশটির ক্ষমতার পালাবদলের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিম জু এ-র বয়স প্রায় ১৩ বছর বলে ধারণা করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

কিম জং উনের কি কোনো ছেলে সন্তান আছে? উত্তর খুঁজছে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা

আপডেট সময় : ১১:১২:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের গোপন কোনো ছেলে সন্তান রয়েছে কি না, তা নিয়ে গোয়েন্দা তদন্ত চালাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (এনআইএস)। গত ১০ সেপ্টেম্বর সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কিম জং উনের কোনো পুত্রসন্তান আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে। ২০১১ সালে কিম জং ইলের মৃত্যুর পর ৪২ বছর বয়সী কিম জং উন উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতার ভার গ্রহণ করেন।

এনআইএসের ভাষ্য অনুযায়ী, যদি কিমের কোনো ছেলেও থেকে থাকে, তবে বর্তমান বাস্তবতায় তিনি উত্তরসূরি হওয়ার অবস্থানে নেই। সংস্থাটি তাদের পূর্বের মূল্যায়নে অটল যে, কিম জং উনের কন্যা কিম জু এ-ই পরবর্তী নেতৃত্বে আসার সবচেয়ে সম্ভাবনাময় উত্তরাধিকারী। আনুমানিক ১৩ বছর বয়সী কিম জু এ-র রাজনৈতিক অবস্থান ও গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত তথ্য না দিলেও, গোয়েন্দারা তার প্রকাশ্য রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করছেন। এছাড়া কিম জং উনের আরও একটি ছোট সন্তান রয়েছে, তবে সেই সন্তানের লিঙ্গ পরিচয় সম্পর্কে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, কিমের স্ত্রী রি সল জুর কোনো ছেলে সন্তান নেই। ওই প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতেই মূলত এনআইএস তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। ২০২৩ সালে এক দক্ষিণ কোরীয় আইনপ্রণেতা সংসদীয় কমিটিতে এনআইএসের বরাতে জানিয়েছিলেন যে, কিম জু এ-র একজন বড় ভাই আছেন। পরবর্তীতে গোয়েন্দা সংস্থাটি জানায়, বিষয়টি এখনো যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে এবং কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।

কিম জু এ-কে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জল্পনা-কল্পনা বাড়ছে ২০২২ সালের শেষ দিক থেকে। এরপর থেকে তিনি একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ও সামরিক কুচকাওয়াজের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বাবার সঙ্গে উপস্থিত হয়েছেন। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাকে ‘সবচেয়ে প্রিয়’ সন্তান হিসেবে উপস্থাপন করে এবং নিয়মিত তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ছবি ও ভিডিও প্রচার করে তার রাজনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে।

কিম জু এ-র বড় ভাইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে গোয়েন্দা মহলে আলোচনার পেছনে প্রধান কারণ হলো উত্তর কোরিয়ার গভীরভাবে প্রোথিত পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতা কাঠামো। ১৯৪৮ সালে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশটির তিনজন নেতাই ছিলেন কিম পরিবারের পুরুষ সদস্য। কিম ইল সুং, কিম জং ইল এবং বর্তমান নেতা কিম জং উন—এই ধারাবাহিকতাই দেশটির ক্ষমতার মূল ভিত্তি। ফলে কিম জু এ-র বিপরীতে কোনো পুরুষ উত্তরাধিকারী থাকা বা না থাকার বিষয়টি দেশটির ক্ষমতার পালাবদলের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিম জু এ-র বয়স প্রায় ১৩ বছর বলে ধারণা করা হয়।