কুয়াকাটায় বৌদ্ধ বিহারের সভাপতির ওপর হামলা: দর্শনার্থী প্রবেশ বন্ধ
- আপডেট সময় : ০৯:৪২:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
পটুয়াখালীর কুয়াকাটার মিশ্রিপাড়ায় অবস্থিত ঐতিহাসিক সীমা বৌদ্ধ বিহারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিহারের সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে পরিচালনা কমিটির সভাপতি মংলাচিনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দুই ব্যক্তি—সামসুল আলম ও নাসির হাওলাদারের বিরুদ্ধে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবিতে বিহার কর্তৃপক্ষ পর্যটক ও দর্শনার্থীদের প্রবেশ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। বুধবার বিহার প্রাঙ্গণে আয়োজিত রাখাইন সম্প্রদায়ের এক প্রতিবাদ সভা থেকে এই কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার সকালে, যখন বিহার সীমানার ভেতরে একটি দোকানঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ। বিহার সভাপতি মংলাচিনের অভিযোগ অনুযায়ী, বিহারের সামনের দোকানগুলো থেকে সীমানার ভেতরে ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছিল, যা সমাধানের লক্ষ্যেই দোকানঘরটি তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে কাজ শুরুর সময় সামসুল আলম ও নাসির হাওলাদার জমির মালিকানা দাবি করে বাধা দেন। একপর্যায়ে বাগ্বিতণ্ডার সময় মংলাচিনের ওপর চড়াও হয়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
মংলাচিন আরও জানান, শতবর্ষী এই বিহারের জমির বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও বিএস জরিপে কিছু জায়গা অন্যদের নামে ভুলবশত রেকর্ড হয়ে গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, সেই রেকর্ডকে পুঁজি করে বিহারের জমি দখলের একটি গভীর ষড়যন্ত্র দীর্ঘদিন ধরে চলছে। পটুয়াখালী জেলা রাখাইন বুদ্ধিস্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এমং তালুকদার এই হামলাকে দীর্ঘদিনের জমি দখলের অপচেষ্টার অংশ হিসেবেই দেখছেন এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে সামসুল আলম ও নাসির হাওলাদারের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। এদিকে, হামলার ঘটনায় মহিপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামীম হাওলাদার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বিহারে দর্শনার্থীদের প্রবেশাধিকার বন্ধ থাকবে বলে আয়োজক কমিটি জানিয়েছে। সভায় হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নাসির হাওলাদার ও সামসুল আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
























