ঢাকা ০৩:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চীনা কমিউনিস্ট পার্টি কংগ্রেস তৃতীয়বারের মতো নেতা হচ্ছেন জিনপিং

  • আপডেট সময় : ১১:১৯:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২২
  • / 158
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

চীনে করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে দেশটির কর্তৃপক্ষ যে বিতর্কিত ‘জিরো-কোভিড’ নীতি অনুসরণ করছে তা অব্যাহত রাখা হবে বলেই ইঙ্গিত দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

রোববার রাজধানী বেইজিং এ কড়া নিরাপত্তার মধ্যে শুরু হয়েছে চীনে কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রেস। সেখানে প্রেসিডেন্ট শি তার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেয়ার কথা বলেন।

এই কংগ্রেস হচ্ছে পাঁচ বছর পর, এবং সেখানে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তৃতীয় মেয়াদের জন্য পার্টির নেতা হবেন বলেই মনে করা হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংএর ‘জিরো কোভিড’ নীতি একদিকে যেমন চীনে মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে – অন্যদিকে কঠোর লকডাউন ও লোক চলাচল-ভ্রমণের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা মানুষের জীবনে বিরাট দুর্ভোগ ডেকে এনেছে, ক্ষতি হয়েছে অর্থনীতিরও। এসব কড়া বিধিনিষেধ নিয়ে মানুষের ক্ষোভ ক্রমশঃই বাড়ছে।

কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রেস শুরুর সময় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেই এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই বেইজিংএ কিছু বিরল প্রতিবাদের ঘটনা ঘটতে দেখা যায়।

অনলাইনে শেয়ার হওয়া ভিডিওতে একজন লোককে লাউডস্পিকারে শ্লোগান দিতে দেখা যায়, বেইজিং-এ একটি ব্রিজে দেখা যায় দু’টি প্রতিবাদসূচক ব্যানার ঝুলছে। একটি ব্রিজের ওপর থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলিও পাকিয়ে উঠতে দেখা যায়, কিন্তু কি কারণে ধোঁয়া উঠছে তা জানা যায়নি।

ব্যানারগুলোতে প্রতিবাদী বার্তায় কোভিড বিধিনিষেধ অবসানের দাবি যেমন ছিল, তেমনি শি জিনপিংকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করার আহ্বানের মতো রাজনৈতিক বার্তাও ছিল। এ ধরনের প্রতিবাদ খুবই বিরল – তবে প্রেসিডেন্ট শি এগুলো আমলে নিচ্ছেন না বলেই মনে হচ্ছে।

তিনি বলেছেন, তার বিতর্কিত জিরো কোভিড কৌশল তিনি পাল্টাবেন না বা একে শিথিল করবেন না। শি বলেন, এই জিরো কোভিড পলিসি দিয়েই চীনের মানুষ ভাইরাসের বিস্তারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

কমিউনিস্ট বিপ্লবের পর চীনের সাত দশকের ইতিহাসে মাও জেদং ছাড়া আর কোনো নেতাই কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান হিসেবে এত দীর্ঘ সময় নেতৃত্বে থাকেননি। এটা হতে যাচ্ছে এবার, এবং পার্টির ডেলিগেটরা শিকে আরো পাঁচ বছরের জন্য কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক হসেবে নির্বাচিত করবেন- এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে শি জিনপিং হবেন মাও জেদং-এর পর চীনের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নেতা।

চীনা কমিউনিস্ট পার্টি কয়েকদিন আগে একটি ইশতেহার প্রকাশ করে- যাতে শিকে পার্টি ও নেতৃত্বের ‘কেন্দ্রবিন্দু’ বলে বলা হয় এবং তার পেছনে পার্টিকে একত্রিত হবার আহ্বান জানানো হয়।

শি এখন চীনের তিনটি সর্বাধিক ক্ষমতাধর পদে আছেন- চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক, দেশটির সশস্ত্রবাহিনীর চেয়ারম্যান এবং প্রেসিডেন্ট। চীনের প্রেসিডেন্ট পদের ক্ষেত্রেও আগে এমন নিয়ম ছিল যে, এক ব্যক্তি দু’মেয়াদের বেশি থাকতে পারবেন না। চীনের সংস্কারক নেতা দেং শিয়াও পিং এটা করেছিলেন এই জন্য যেন চীনে আর কখনো মাও জেদং-এর মতো একক নেতৃত্বের উত্থান না হয়। কিন্তু চীনে নেতা হিসেবে শি জিনপিং-এর উত্থানের পর ২০১৮ সালে দেশটির রাবার-স্ট্যাম্প পার্লামেন্ট এ নিয়ম বিলোপ করে। ফলে কার্যত শি যতদিন খুশি প্রেসিডেন্ট থাকতে পারবেন।

শি ২০১২ সালে ক্ষমতায় বসার পর থেকে চীন এমন এক পথ নিয়েছে- যা একদিকে উচ্চাভিলাষী- আর অন্যদিকে তেমনি কর্তৃত্ববাদী। তাইওয়ানের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা বাতিল করেননি শি
তাই্ওয়ান নিয়ে গত কিছুদিন ধরেই পুরো অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

স্বশাসিত তাইওয়ান দ্বীপটিকে চীন তার নিজের অংশ মনে করে এবং এটিকে তাদের মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত করার ব্যাপারটি বহুকাল ধরেই চীনের অন্যতম লক্ষ্য। শি এ ব্যাপারে বলেন, তার দেশের ‘পূর্ণাঙ্গ পুনরেকত্রীকরণ’ অবশ্যই হবে এবং হতেই হবে, এবং ‘চীন এ জন্য শক্তি প্রয়োগ করবে না- এমন অঙ্গীকার কখনো করা হবে না।’

এ সময় কংগ্রেসে আগত ডেলিগেটরা অনেকক্ষণ ধরে করতালি দেন।

সূত্র : বিবিসি

বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

চীনা কমিউনিস্ট পার্টি কংগ্রেস তৃতীয়বারের মতো নেতা হচ্ছেন জিনপিং

আপডেট সময় : ১১:১৯:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২২

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

চীনে করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে দেশটির কর্তৃপক্ষ যে বিতর্কিত ‘জিরো-কোভিড’ নীতি অনুসরণ করছে তা অব্যাহত রাখা হবে বলেই ইঙ্গিত দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

রোববার রাজধানী বেইজিং এ কড়া নিরাপত্তার মধ্যে শুরু হয়েছে চীনে কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রেস। সেখানে প্রেসিডেন্ট শি তার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেয়ার কথা বলেন।

এই কংগ্রেস হচ্ছে পাঁচ বছর পর, এবং সেখানে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তৃতীয় মেয়াদের জন্য পার্টির নেতা হবেন বলেই মনে করা হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংএর ‘জিরো কোভিড’ নীতি একদিকে যেমন চীনে মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে – অন্যদিকে কঠোর লকডাউন ও লোক চলাচল-ভ্রমণের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা মানুষের জীবনে বিরাট দুর্ভোগ ডেকে এনেছে, ক্ষতি হয়েছে অর্থনীতিরও। এসব কড়া বিধিনিষেধ নিয়ে মানুষের ক্ষোভ ক্রমশঃই বাড়ছে।

কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রেস শুরুর সময় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেই এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই বেইজিংএ কিছু বিরল প্রতিবাদের ঘটনা ঘটতে দেখা যায়।

অনলাইনে শেয়ার হওয়া ভিডিওতে একজন লোককে লাউডস্পিকারে শ্লোগান দিতে দেখা যায়, বেইজিং-এ একটি ব্রিজে দেখা যায় দু’টি প্রতিবাদসূচক ব্যানার ঝুলছে। একটি ব্রিজের ওপর থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলিও পাকিয়ে উঠতে দেখা যায়, কিন্তু কি কারণে ধোঁয়া উঠছে তা জানা যায়নি।

ব্যানারগুলোতে প্রতিবাদী বার্তায় কোভিড বিধিনিষেধ অবসানের দাবি যেমন ছিল, তেমনি শি জিনপিংকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করার আহ্বানের মতো রাজনৈতিক বার্তাও ছিল। এ ধরনের প্রতিবাদ খুবই বিরল – তবে প্রেসিডেন্ট শি এগুলো আমলে নিচ্ছেন না বলেই মনে হচ্ছে।

তিনি বলেছেন, তার বিতর্কিত জিরো কোভিড কৌশল তিনি পাল্টাবেন না বা একে শিথিল করবেন না। শি বলেন, এই জিরো কোভিড পলিসি দিয়েই চীনের মানুষ ভাইরাসের বিস্তারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

কমিউনিস্ট বিপ্লবের পর চীনের সাত দশকের ইতিহাসে মাও জেদং ছাড়া আর কোনো নেতাই কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান হিসেবে এত দীর্ঘ সময় নেতৃত্বে থাকেননি। এটা হতে যাচ্ছে এবার, এবং পার্টির ডেলিগেটরা শিকে আরো পাঁচ বছরের জন্য কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক হসেবে নির্বাচিত করবেন- এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে শি জিনপিং হবেন মাও জেদং-এর পর চীনের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নেতা।

চীনা কমিউনিস্ট পার্টি কয়েকদিন আগে একটি ইশতেহার প্রকাশ করে- যাতে শিকে পার্টি ও নেতৃত্বের ‘কেন্দ্রবিন্দু’ বলে বলা হয় এবং তার পেছনে পার্টিকে একত্রিত হবার আহ্বান জানানো হয়।

শি এখন চীনের তিনটি সর্বাধিক ক্ষমতাধর পদে আছেন- চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক, দেশটির সশস্ত্রবাহিনীর চেয়ারম্যান এবং প্রেসিডেন্ট। চীনের প্রেসিডেন্ট পদের ক্ষেত্রেও আগে এমন নিয়ম ছিল যে, এক ব্যক্তি দু’মেয়াদের বেশি থাকতে পারবেন না। চীনের সংস্কারক নেতা দেং শিয়াও পিং এটা করেছিলেন এই জন্য যেন চীনে আর কখনো মাও জেদং-এর মতো একক নেতৃত্বের উত্থান না হয়। কিন্তু চীনে নেতা হিসেবে শি জিনপিং-এর উত্থানের পর ২০১৮ সালে দেশটির রাবার-স্ট্যাম্প পার্লামেন্ট এ নিয়ম বিলোপ করে। ফলে কার্যত শি যতদিন খুশি প্রেসিডেন্ট থাকতে পারবেন।

শি ২০১২ সালে ক্ষমতায় বসার পর থেকে চীন এমন এক পথ নিয়েছে- যা একদিকে উচ্চাভিলাষী- আর অন্যদিকে তেমনি কর্তৃত্ববাদী। তাইওয়ানের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা বাতিল করেননি শি
তাই্ওয়ান নিয়ে গত কিছুদিন ধরেই পুরো অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

স্বশাসিত তাইওয়ান দ্বীপটিকে চীন তার নিজের অংশ মনে করে এবং এটিকে তাদের মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত করার ব্যাপারটি বহুকাল ধরেই চীনের অন্যতম লক্ষ্য। শি এ ব্যাপারে বলেন, তার দেশের ‘পূর্ণাঙ্গ পুনরেকত্রীকরণ’ অবশ্যই হবে এবং হতেই হবে, এবং ‘চীন এ জন্য শক্তি প্রয়োগ করবে না- এমন অঙ্গীকার কখনো করা হবে না।’

এ সময় কংগ্রেসে আগত ডেলিগেটরা অনেকক্ষণ ধরে করতালি দেন।

সূত্র : বিবিসি

বিডিসংবাদ/এএইচএস