চীনের ঋণ কমিয়ে যৌথ বিনিয়োগে আগ্রহী বাংলাদেশ: অর্থমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৪:০৫:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
চীনের সঙ্গে বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্কের ধরণ বদলানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। এখন থেকে ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমিয়ে যৌথ মূলধনি বিনিয়োগ ও সরাসরি অংশীদারত্বের দিকে মনোযোগ বাড়াতে চায় সরকার। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী জানান, চীনের অর্থায়ন কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সার্বভৌম ঋণ বা প্রথাগত ঋণ ব্যবস্থার পরিবর্তে ইক্যুইটি বিনিয়োগ ও অংশীদারত্বের ভিত্তিতে প্রকল্প বাস্তবায়নে ঢাকা বেশি আগ্রহী। চীনের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সব ধরনের বিনিয়োগ আলোচনায় ঋণের চেয়ে মূলধনি বিনিয়োগের অংশীদারিত্ব বাড়াতেই বর্তমান সরকার কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ঋণ ব্যবস্থাপনা ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তার আলোচনা হয়েছে। বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়োজাহাজ, জ্বালানি তেল এবং সয়াবিনের মতো প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করছে। এ অবস্থায় দুই দেশের বাণিজ্য ভারসাম্য ও আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা পাওয়া যেতে পারে বলে অর্থমন্ত্রী আশা ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে, যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার অপেক্ষায় রয়েছে সরকার।
একই সফরে কৃষিখাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (ইফাদ) সঙ্গেও বৈঠক করেছেন অর্থমন্ত্রী। বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন ও অবকাঠামো উন্নয়নে ইফাদ থেকে কী ধরনের সহায়তা পাওয়া সম্ভব, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী এই বৈঠককে অত্যন্ত ইতিবাচক বলে অভিহিত করেছেন।
সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে বিনিয়োগ আকর্ষণকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেবল ঋণ নয়, বরং যৌথ ও সরাসরি বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করাই এখন মূল লক্ষ্য। উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সম্পর্কের এই নতুন মেরুকরণ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

























