ঢাকা ১২:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইউরোপে ভুয়া বোমা হামলার হুমকিতে ব্যাহত ৩০ ফ্লাইট জামালগঞ্জে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২ রাজধানীর ক্লিনিকে ইনকিউবেটরের আগুনে নবজাতকের শরীর ঝলসে যাওয়ার অভিযোগ দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার যেকোনো মূল্যে রক্ষা করব: প্রধানমন্ত্রী রান্নার অ্যালুমিনিয়াম পাত্রে সিসার ঝুঁকি: মিলছে না সমাধান সেবায় রূপান্তরই মূল লক্ষ্য, জানালেন তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় ফ্লাই দুবাইয়ের দুই রুটে ফ্লাইট স্থগিত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপনের সঙ্গে বায়োফার্মার এমডির সৌজন্য সাক্ষাৎ ওয়েলিংটনে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের জয় ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

চীনে ২০৩১ সালের মধ্যে ঋণ দেওয়া বন্ধের পরিকল্পনা বিশ্বব্যাংকের

  • আপডেট সময় : ১১:০৫:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
  • / 38
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীনে ঋণ দেওয়ার কার্যক্রম ২০৩১ সালের মধ্যে ধীরে ধীরে বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে বিশ্বব্যাংক।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত চীনের জন্য নতুন কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক (সিপিএফ)-এ বিশ্বব্যাংক জানায়, আগামী কয়েক বছরে চীনে তাদের ঋণ কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনা হবে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপ (ডব্লিউবিজি) জানায়, সিপিএফ কার্যকালের মধ্যে আন্তর্জাতিক ব্যাংক ফর রিকনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইবিআরডি)-এর মাধ্যমে দেওয়া ঋণের পরিমাণ ধীরে ধীরে কমানো হবে। এই সময়ে আইবিআরডির ঋণ সহায়তা সর্বোচ্চ ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের মধ্যে সীমিত থাকবে।

সিপিএফ হলো বিশ্বব্যাংক ও কোনো অংশীদার দেশের মধ্যে সম্মত একটি বহু বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা, যেখানে উন্নয়নের অগ্রাধিকার ক্ষেত্রগুলো নির্ধারণ করা হয়।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপ জানায়, নীতিগতভাবে সিপিএফের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আইবিআরডি থেকে নতুন করে কোনো ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন হবে বলে আশা করা হচ্ছে না।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপ জানায়, পাঁচ বছর মেয়াদি এই পরিকল্পনা চীনের সঙ্গে তাদের ৪৫ বছরের অংশীদারত্বের নতুন এক পর্যায়ের সূচনা করবে। চীন এখন আর প্রধানত অর্থায়নের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং দেশটির প্রয়োজন হচ্ছে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও জ্ঞান বিনিময়।

বিশ্বব্যাংকের পরিচালন বিষয়ক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনা বিয়েরদে বলেন, ‘আমাদের অংশীদারত্বের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আমরা ক্রমেই জ্ঞান, উদ্ভাবন ও যৌথ সমাধানের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।’

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের অর্থনীতির দ্রুত প্রবৃদ্ধি এবং দারিদ্র্যের হার কমে আসার কারণে দেশটিতে বিশ্বব্যাংকের ঋণ দেওয়ার পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে কমেছে।

বিয়েরদে বলেন, ‘চীন যখন বয়স্ক জনসংখ্যা, পরিবর্তনশীল অর্থনীতি এবং অন্যান্য উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে, তখন আমরা তার সঙ্গে কাজ করে এমন ধারণা ও সমাধান তৈরি করতে চাই, যা শুধু চীন নয়, বিশ্বের অন্যান্য উদীয়মান অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হবে।’

চীনের উপ-অর্থমন্ত্রী লিয়াও মিন বলেন, ঋণ বিষয়ক সম্পর্কের পরিবর্তন হলেও চীন বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সহযোগিতা আরও গভীরভাবে চালিয়ে যাবে।

বিশ্বব্যাংক ও চীনের মধ্যে নতুন পাঁচ বছর মেয়াদি এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার পাশাপাশি উন্নত কর্মসংস্থান, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং কম কার্বন নিঃসরণভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে চীনকে ঋণ দেওয়া পুরোপুরি বন্ধ করতে বিশ্বব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। তখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন।

ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদেও একই ধরনের অবস্থান বজায় রেখেছেন, তবে এবার তিনি সেই দাবিটির পুনরাবৃত্তি করেননি।

বিশ্বব্যাংকের চীনকে দেওয়া ঋণ ২০১৭ সালে সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছিল। তবে ২০২৫ সালে তা কমে ৭৫০ মিলিয়ন ডলারে নেমে আসে।

এদিকে বিশ্বের স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) তহবিলেও চীন অর্থ সহায়তা দিয়ে থাকে। সর্বশেষ তহবিল পুনর্গঠন কার্যক্রমে চীন ১৫০ কোটি মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছে। এর ফলে বেইজিং আইডিএর পঞ্চম বৃহত্তম দাতা দেশে পরিণত হয়েছে।
বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

চীনে ২০৩১ সালের মধ্যে ঋণ দেওয়া বন্ধের পরিকল্পনা বিশ্বব্যাংকের

আপডেট সময় : ১১:০৫:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীনে ঋণ দেওয়ার কার্যক্রম ২০৩১ সালের মধ্যে ধীরে ধীরে বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে বিশ্বব্যাংক।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত চীনের জন্য নতুন কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক (সিপিএফ)-এ বিশ্বব্যাংক জানায়, আগামী কয়েক বছরে চীনে তাদের ঋণ কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনা হবে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপ (ডব্লিউবিজি) জানায়, সিপিএফ কার্যকালের মধ্যে আন্তর্জাতিক ব্যাংক ফর রিকনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইবিআরডি)-এর মাধ্যমে দেওয়া ঋণের পরিমাণ ধীরে ধীরে কমানো হবে। এই সময়ে আইবিআরডির ঋণ সহায়তা সর্বোচ্চ ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের মধ্যে সীমিত থাকবে।

সিপিএফ হলো বিশ্বব্যাংক ও কোনো অংশীদার দেশের মধ্যে সম্মত একটি বহু বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা, যেখানে উন্নয়নের অগ্রাধিকার ক্ষেত্রগুলো নির্ধারণ করা হয়।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপ জানায়, নীতিগতভাবে সিপিএফের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আইবিআরডি থেকে নতুন করে কোনো ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন হবে বলে আশা করা হচ্ছে না।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপ জানায়, পাঁচ বছর মেয়াদি এই পরিকল্পনা চীনের সঙ্গে তাদের ৪৫ বছরের অংশীদারত্বের নতুন এক পর্যায়ের সূচনা করবে। চীন এখন আর প্রধানত অর্থায়নের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং দেশটির প্রয়োজন হচ্ছে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও জ্ঞান বিনিময়।

বিশ্বব্যাংকের পরিচালন বিষয়ক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনা বিয়েরদে বলেন, ‘আমাদের অংশীদারত্বের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আমরা ক্রমেই জ্ঞান, উদ্ভাবন ও যৌথ সমাধানের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।’

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের অর্থনীতির দ্রুত প্রবৃদ্ধি এবং দারিদ্র্যের হার কমে আসার কারণে দেশটিতে বিশ্বব্যাংকের ঋণ দেওয়ার পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে কমেছে।

বিয়েরদে বলেন, ‘চীন যখন বয়স্ক জনসংখ্যা, পরিবর্তনশীল অর্থনীতি এবং অন্যান্য উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে, তখন আমরা তার সঙ্গে কাজ করে এমন ধারণা ও সমাধান তৈরি করতে চাই, যা শুধু চীন নয়, বিশ্বের অন্যান্য উদীয়মান অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হবে।’

চীনের উপ-অর্থমন্ত্রী লিয়াও মিন বলেন, ঋণ বিষয়ক সম্পর্কের পরিবর্তন হলেও চীন বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সহযোগিতা আরও গভীরভাবে চালিয়ে যাবে।

বিশ্বব্যাংক ও চীনের মধ্যে নতুন পাঁচ বছর মেয়াদি এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার পাশাপাশি উন্নত কর্মসংস্থান, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং কম কার্বন নিঃসরণভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে চীনকে ঋণ দেওয়া পুরোপুরি বন্ধ করতে বিশ্বব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। তখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন।

ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদেও একই ধরনের অবস্থান বজায় রেখেছেন, তবে এবার তিনি সেই দাবিটির পুনরাবৃত্তি করেননি।

বিশ্বব্যাংকের চীনকে দেওয়া ঋণ ২০১৭ সালে সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছিল। তবে ২০২৫ সালে তা কমে ৭৫০ মিলিয়ন ডলারে নেমে আসে।

এদিকে বিশ্বের স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) তহবিলেও চীন অর্থ সহায়তা দিয়ে থাকে। সর্বশেষ তহবিল পুনর্গঠন কার্যক্রমে চীন ১৫০ কোটি মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছে। এর ফলে বেইজিং আইডিএর পঞ্চম বৃহত্তম দাতা দেশে পরিণত হয়েছে।
বিডিসংবাদ/এএইচএস