ঢাকা ০৯:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ ও বিজ্ঞানীদের সুযোগ বাড়ানোর নির্দেশ রাষ্ট্রপতির বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদারে আট সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে চায়না এক্সিম ব্যাংকের অর্থায়ন চাইলেন জ্বালানিমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ নিরাপত্তায় ড. মুহাম্মদ ইউনূস লালমোহনে নজরুল বর্ষ উদযাপন এআই দিয়ে মিথ্যা কনটেন্ট তৈরি ও ছড়ানোকে অপরাধ বললেন শাহজালালে ৪ কেজি কুশসহ ভারতীয় নাগরিক আটক অবিবাহিতদের মধ্যে ক্যানসারের ঝুঁকি ও মৃত্যুর হার বেশি তথ্য ফাঁসকারীদের ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া উচিত: ট্রাম্প মক্কায় মসজিদে অনৈতিক কাজে জড়িত দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি রাখা ও অব্যবস্থাপনার ঘটনায় তদন্ত কমিটি

  • আপডেট সময় : ০৯:২২:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 25
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের সাবেক গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও ছাত্রসংঘ নেতা আবদুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের ঘটনায় ক্ষুব্ধ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ডাকসুর নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে যেসব প্রতিবেদন উঠে এসেছে, তা কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। এসব কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন ও প্রশাসনিক কাঠামোর পরিপন্থী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩-এর অনুচ্ছেদ ২৪(এ) অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ দায়িত্ব সিন্ডিকেটের। এছাড়া অধ্যাদেশের চতুর্দশ অধ্যায়ের ৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী, ছাত্র সংসদের যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভাইস চ্যান্সেলরের (ভিসি) নির্দেশনা ও অনুমতি থাকা বাধ্যতামূলক।

ডাকসুর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের মধ্যে রয়েছে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ‘নির্ভীক জুলাই’ নামে একটি স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন। কলাভবনের পশ্চিম পাশে ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এই স্থাপনা তৈরির আগে সিন্ডিকেট বা ভিসির সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী এখতিয়ারবহির্ভূত কাজ। এছাড়া সংগ্রহশালায় জিন্নাহ ও আবদুল মালেকের ছবি প্রদর্শনকে ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে চরম সাংঘর্ষিক হিসেবে অভিহিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়েছে, এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তদন্তের আওতায় আরও রয়েছে ডাকসুর উদ্যোগে শিক্ষক মূল্যায়নের ওয়েবসাইট চালু করার বিষয়টি। প্রশাসন বলছে, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শিক্ষক মূল্যায়ন একটি একাডেমিক ও স্পর্শকাতর বিষয়, যেখানে ছাত্র সংসদ ব্যক্তিগত বা নিজস্ব উদ্যোগে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে না। এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়েছে, যা আইন অনুযায়ী একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

উল্লেখ্য, ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি রাখা নিয়ে বিতর্কের জেরে শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার সেই ছবি ভেঙে ফেলেন। এরপর ওই স্থানে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আজমকে জুতা মারার একটি ছবি সাঁটিয়ে দেওয়া হয়। এসব অনিয়ম ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে প্রশাসন পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি রাখা ও অব্যবস্থাপনার ঘটনায় তদন্ত কমিটি

আপডেট সময় : ০৯:২২:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের সাবেক গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও ছাত্রসংঘ নেতা আবদুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের ঘটনায় ক্ষুব্ধ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ডাকসুর নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে যেসব প্রতিবেদন উঠে এসেছে, তা কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। এসব কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন ও প্রশাসনিক কাঠামোর পরিপন্থী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩-এর অনুচ্ছেদ ২৪(এ) অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ দায়িত্ব সিন্ডিকেটের। এছাড়া অধ্যাদেশের চতুর্দশ অধ্যায়ের ৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী, ছাত্র সংসদের যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভাইস চ্যান্সেলরের (ভিসি) নির্দেশনা ও অনুমতি থাকা বাধ্যতামূলক।

ডাকসুর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের মধ্যে রয়েছে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ‘নির্ভীক জুলাই’ নামে একটি স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন। কলাভবনের পশ্চিম পাশে ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এই স্থাপনা তৈরির আগে সিন্ডিকেট বা ভিসির সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী এখতিয়ারবহির্ভূত কাজ। এছাড়া সংগ্রহশালায় জিন্নাহ ও আবদুল মালেকের ছবি প্রদর্শনকে ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে চরম সাংঘর্ষিক হিসেবে অভিহিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়েছে, এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তদন্তের আওতায় আরও রয়েছে ডাকসুর উদ্যোগে শিক্ষক মূল্যায়নের ওয়েবসাইট চালু করার বিষয়টি। প্রশাসন বলছে, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শিক্ষক মূল্যায়ন একটি একাডেমিক ও স্পর্শকাতর বিষয়, যেখানে ছাত্র সংসদ ব্যক্তিগত বা নিজস্ব উদ্যোগে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে না। এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়েছে, যা আইন অনুযায়ী একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

উল্লেখ্য, ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি রাখা নিয়ে বিতর্কের জেরে শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার সেই ছবি ভেঙে ফেলেন। এরপর ওই স্থানে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আজমকে জুতা মারার একটি ছবি সাঁটিয়ে দেওয়া হয়। এসব অনিয়ম ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে প্রশাসন পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।