ঢাকা ০১:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দলের পারফরম্যান্সে খুশি কোচ থমাস ডুলি ভূমিধস জয়ের পর ডেমোক্রেটদের সামনে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর বড় চ্যালেঞ্জ ভার্জিনিয়ায় স্ত্রী নিখোঁজের ঘটনায় আদালতে মুখ খুললেন অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি নরেশ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুনর্গঠনে সরকারের বিশাল কর্মপরিকল্পনা ও বাজেট বরাদ্দ দেশে সার উৎপাদন বাড়াতে তিনটি নতুন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা চ্যালেঞ্জের মুখেও এমিরেটস গ্রুপের ১.১ বিলিয়ন ডলার মুনাফা নেতানিয়াহুর চেয়ে জনপ্রিয় জোহরান মামদানি, বলছে জিবিএওর জরিপ ইরানের ওপর নতুন সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভুটানকে হারিয়ে জয় দিয়ে সাফ মিশন শুরু বাংলাদেশের সাঁথিয়ায় ভাগ্নিকে নিরাপত্তা ঘটনায়: মামা আটক

দুবাইয়ের রাজপুত্রের পরিচয়ে প্রেমের ফাঁদ, এআইভিত্তিক প্রতারণা

  • আপডেট সময় : ০৫:৫৪:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
  • / 48
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

মারিয়া বিশ্বাস করেছিলেন তিনি দুবাইয়ের এক রাজপুত্রের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন। লাইভ ভিডিও কলে তার মোহনীয় হাসি এবং ভালোবাসার কথায় তিনি গভীরভাবে আকৃষ্ট হন।

কিন্তু বাস্তবে সেই ‘প্রেমিক’ ছিলেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি একটি ডিপফেক, যা একটি অনলাইন প্রতারণার অংশ।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

গবেষকদের মতে, এই ধরনের প্রতারণায় অপরাধীরা বাস্তব জীবনের দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্সের ছদ্মবেশ ধারণ করে অনলাইনে সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং পরে টাকা হাতিয়ে নেয়। কিছু ঘটনার সঙ্গে নাইজেরিয়ার অপরাধচক্র জড়িত থাকতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

মারিয়া প্রিন্স হামদান বিন মোহাম্মদের ছদ্মবেশে থাকা প্রতারকের সাথে একটি ডেটিং সাইটে পরিচিত হন। এই প্রতারক ফাজ্জা ছদ্মনামেও পরিচিত। এরপর তাদের কথোপকথন একটি মেসেজিং অ্যাপে গড়ায়। এখানে সে মারিয়াকে অসংখ্য রোমান্টিক বার্তা পাঠাতে শুরু করে।

ভুক্তভোগী ফিলিপাইনের গৃহকর্মী মারিয়া এএফপি’কে জানান, আমি ঘুমিয়ে থাকলেও সে বারবার আমাকে মেসেজ করত। তিনি তার প্রকৃত নাম ও বয়স গোপন রাখার অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছিল যেন কোনো ভালোবাসার জাদু আমাদের মনকে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত করে দিয়েছে।’

এএফপি’র দেখা একটি হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও কলের রেকর্ডিংয়ে দেখা যায়, প্রতারকটি এআইয়ের সহায়তায় ওই প্রিন্সের চেহারার মতো রূপ নিয়ে স্ক্রিনে উপস্থিত ছিল। তার কথাগুলো ঠোঁটের নড়াচড়ার সঙ্গে মিললেও, কণ্ঠস্বরটি আসল প্রিন্সের ছিল না।

কণ্ঠস্বরটি মারিয়াকে বলে, ‘হ্যালো প্রিয়তমা। তোমার ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ।’

মারিয়া শুরুতে ভালোবাসার আবেগে এতটাই আচ্ছন্ন ছিলেন যে প্রতারণা সন্দেহ করেননি, পরে তার এক বছরের সঞ্চয় হারান।

প্রতারক তাকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে ১ লাখ পেসো (প্রায় ১ হাজার ৬২৫ মার্কিন ডলার) দিতে বাধ্য করে। ওই অর্থ তিনি দাবি করেছিলেন বিয়ে নিবন্ধন ও একটি ‘রয়্যাল মেম্বারশিপ কার্ড’-এর জন্য, যা তার ভাষায় মারিয়াকে দুবাইয়ে চাকরি পেতে সাহায্য করবে।

তার সন্দেহ তখনই শুরু হয় যখন প্রতারক তাকে একটি হোটেলে দেখা করার প্রস্তাব দেয় এবং বুকিংয়ের জন্য আরও ৬০ হাজার পেসো (প্রায় ৯৭৪ মার্কিন ডলার) দাবি করে। পরে তিনি তার ফেসবুক প্রোফাইলটি ভালোভাবে যাচাই করে দেখেন, যা পরে মুছে ফেলা হয়। তখন তিনি লক্ষ্য করেন, ওই অ্যাকাউন্টটি সম্ভবত নাইজেরিয়া থেকে পরিচালিত হচ্ছিল।

পরে তিনি যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেন এবং শেষ একটি বার্তা পাঠান: ‘জাহান্নামে যাও, প্রতারক।’
বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

দুবাইয়ের রাজপুত্রের পরিচয়ে প্রেমের ফাঁদ, এআইভিত্তিক প্রতারণা

আপডেট সময় : ০৫:৫৪:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

মারিয়া বিশ্বাস করেছিলেন তিনি দুবাইয়ের এক রাজপুত্রের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন। লাইভ ভিডিও কলে তার মোহনীয় হাসি এবং ভালোবাসার কথায় তিনি গভীরভাবে আকৃষ্ট হন।

কিন্তু বাস্তবে সেই ‘প্রেমিক’ ছিলেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি একটি ডিপফেক, যা একটি অনলাইন প্রতারণার অংশ।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

গবেষকদের মতে, এই ধরনের প্রতারণায় অপরাধীরা বাস্তব জীবনের দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্সের ছদ্মবেশ ধারণ করে অনলাইনে সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং পরে টাকা হাতিয়ে নেয়। কিছু ঘটনার সঙ্গে নাইজেরিয়ার অপরাধচক্র জড়িত থাকতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

মারিয়া প্রিন্স হামদান বিন মোহাম্মদের ছদ্মবেশে থাকা প্রতারকের সাথে একটি ডেটিং সাইটে পরিচিত হন। এই প্রতারক ফাজ্জা ছদ্মনামেও পরিচিত। এরপর তাদের কথোপকথন একটি মেসেজিং অ্যাপে গড়ায়। এখানে সে মারিয়াকে অসংখ্য রোমান্টিক বার্তা পাঠাতে শুরু করে।

ভুক্তভোগী ফিলিপাইনের গৃহকর্মী মারিয়া এএফপি’কে জানান, আমি ঘুমিয়ে থাকলেও সে বারবার আমাকে মেসেজ করত। তিনি তার প্রকৃত নাম ও বয়স গোপন রাখার অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছিল যেন কোনো ভালোবাসার জাদু আমাদের মনকে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত করে দিয়েছে।’

এএফপি’র দেখা একটি হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও কলের রেকর্ডিংয়ে দেখা যায়, প্রতারকটি এআইয়ের সহায়তায় ওই প্রিন্সের চেহারার মতো রূপ নিয়ে স্ক্রিনে উপস্থিত ছিল। তার কথাগুলো ঠোঁটের নড়াচড়ার সঙ্গে মিললেও, কণ্ঠস্বরটি আসল প্রিন্সের ছিল না।

কণ্ঠস্বরটি মারিয়াকে বলে, ‘হ্যালো প্রিয়তমা। তোমার ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ।’

মারিয়া শুরুতে ভালোবাসার আবেগে এতটাই আচ্ছন্ন ছিলেন যে প্রতারণা সন্দেহ করেননি, পরে তার এক বছরের সঞ্চয় হারান।

প্রতারক তাকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে ১ লাখ পেসো (প্রায় ১ হাজার ৬২৫ মার্কিন ডলার) দিতে বাধ্য করে। ওই অর্থ তিনি দাবি করেছিলেন বিয়ে নিবন্ধন ও একটি ‘রয়্যাল মেম্বারশিপ কার্ড’-এর জন্য, যা তার ভাষায় মারিয়াকে দুবাইয়ে চাকরি পেতে সাহায্য করবে।

তার সন্দেহ তখনই শুরু হয় যখন প্রতারক তাকে একটি হোটেলে দেখা করার প্রস্তাব দেয় এবং বুকিংয়ের জন্য আরও ৬০ হাজার পেসো (প্রায় ৯৭৪ মার্কিন ডলার) দাবি করে। পরে তিনি তার ফেসবুক প্রোফাইলটি ভালোভাবে যাচাই করে দেখেন, যা পরে মুছে ফেলা হয়। তখন তিনি লক্ষ্য করেন, ওই অ্যাকাউন্টটি সম্ভবত নাইজেরিয়া থেকে পরিচালিত হচ্ছিল।

পরে তিনি যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেন এবং শেষ একটি বার্তা পাঠান: ‘জাহান্নামে যাও, প্রতারক।’
বিডিসংবাদ/এএইচএস