ঢাকা ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শাহজালাল বিমানবন্দরেই দায়িত্ব পালন করছেন ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ খান সিরাজগঞ্জে মাদক মামলায় দুই যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড তিন সিটির উন্নয়নসহ ১৬ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন লটারি বাতিল করে স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ রসায়নে নোবেল পেলেন জাপান ও ফ্রান্সের দুই বিজ্ঞানী দেশের চারটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে কমছে যাত্রী সংখ্যা জেট ফুয়েলের দাম বাড়ল, লিটারে বৃদ্ধি ১৭ টাকা বড়াইগ্রামের সানাউল্লাহ বাবু নিহতের ১৬ বছর: বিচারের অপেক্ষায় পরিবার দিল্লিতে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর উচ্চপর্যায়ের সিরিজ বৈঠক রাজাপুরে যুবদল নেতাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

দেশের চারটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে কমছে যাত্রী সংখ্যা

  • আপডেট সময় : ০৭:২০:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / 2
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের অভ্যন্তরীণ বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। গত দুই বছরে বরিশাল, যশোর, রাজশাহী ও সৈয়দপুর—এই চারটি বিমানবন্দরে ধারাবাহিকভাবে যাত্রী সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন এবং আকাশপথের তুলনায় সড়কপথে যাতায়াত খরচ কম হওয়ায় যাত্রীরা বিমান ভ্রমণের চেয়ে সড়কপথকেই বেশি বেছে নিচ্ছেন। যদিও দেশের অন্যান্য কিছু বিমানবন্দরে যাত্রী সংখ্যা বেড়েছে, তবে উল্লেখিত চারটি রুটে এই নিম্নমুখী প্রবণতা স্পষ্ট।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্যমতে, সবচেয়ে নাজুক অবস্থা যশোর বিমানবন্দরের। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এখান দিয়ে ২ লাখ ২১ হাজার যাত্রী ভ্রমণ করলেও দুই বছরের ব্যবধানে সেই সংখ্যা ৯২ হাজার ২০০-তে নেমে এসেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত যাত্রী সংখ্যা ছিল মাত্র ৪৪ হাজার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। একই চিত্র বরিশাল বিমানবন্দরেও, যেখানে ২০২৩ অর্থবছরের তুলনায় দুই বছরের মাথায় যাত্রী সংখ্যা অর্ধেকের নিচে নেমে গেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মে মাস পর্যন্ত এই বিমানবন্দর ব্যবহার করেছেন মাত্র ৮ হাজার ৭০০ যাত্রী, যা আগের বছরের চেয়ে ৬৫ শতাংশ কম।

রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরের যাত্রী সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। দুই বছর আগেও সেখানে বার্ষিক দেড় লাখের বেশি যাত্রী যাতায়াত করতেন, কিন্তু ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত তা কমে ৮২ হাজার ২০০-তে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩০ শতাংশ কম। উত্তরের সৈয়দপুর বিমানবন্দরের চিত্রও ভিন্ন নয়; গত অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত সেখানে ৩ লাখের বেশি যাত্রী চলাচল করেছেন, যা তার আগের বছরের তুলনায় ১৯ শতাংশ কম।

এয়ার অ্যাস্ট্রার প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মেসবাহ-উল ইসলাম যাত্রী কমার পেছনে ফ্লাইট ভাড়া ও সড়কপথের উন্নতিকে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, পদ্মা সেতু চালুর ফলে ঢাকা-যশোর ও ঢাকা-বরিশাল রুটে সড়কপথে ভ্রমণ সহজ ও সাশ্রয়ী হওয়ায় আকাশপথের যাত্রীরা কমেছে। একসময় যশোর রুটে আসন পূরণের হার প্রায় ১০০ শতাংশ থাকলেও তা এখন ১০ শতাংশে নেমে এসেছে, আর বরিশাল রুটটি প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

তবে সামগ্রিকভাবে দেশের বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রী চলাচল কমেনি। বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত দেশে ১ কোটি ৫৮ লাখেরও বেশি যাত্রী চলাচল করেছেন, যার বড় অংশই শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করেছেন। এছাড়া কক্সবাজারে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় ফ্লাইট বেড়েছে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস সৈয়দপুরে ফ্লাইট ও আসন সংখ্যা কমালেও রাজশাহীতে সপ্তাহে ছয়টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়কপথের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে অভ্যন্তরীণ বিমান খাতকে নতুন করে কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

দেশের চারটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে কমছে যাত্রী সংখ্যা

আপডেট সময় : ০৭:২০:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

দেশের অভ্যন্তরীণ বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। গত দুই বছরে বরিশাল, যশোর, রাজশাহী ও সৈয়দপুর—এই চারটি বিমানবন্দরে ধারাবাহিকভাবে যাত্রী সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন এবং আকাশপথের তুলনায় সড়কপথে যাতায়াত খরচ কম হওয়ায় যাত্রীরা বিমান ভ্রমণের চেয়ে সড়কপথকেই বেশি বেছে নিচ্ছেন। যদিও দেশের অন্যান্য কিছু বিমানবন্দরে যাত্রী সংখ্যা বেড়েছে, তবে উল্লেখিত চারটি রুটে এই নিম্নমুখী প্রবণতা স্পষ্ট।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্যমতে, সবচেয়ে নাজুক অবস্থা যশোর বিমানবন্দরের। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এখান দিয়ে ২ লাখ ২১ হাজার যাত্রী ভ্রমণ করলেও দুই বছরের ব্যবধানে সেই সংখ্যা ৯২ হাজার ২০০-তে নেমে এসেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত যাত্রী সংখ্যা ছিল মাত্র ৪৪ হাজার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। একই চিত্র বরিশাল বিমানবন্দরেও, যেখানে ২০২৩ অর্থবছরের তুলনায় দুই বছরের মাথায় যাত্রী সংখ্যা অর্ধেকের নিচে নেমে গেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মে মাস পর্যন্ত এই বিমানবন্দর ব্যবহার করেছেন মাত্র ৮ হাজার ৭০০ যাত্রী, যা আগের বছরের চেয়ে ৬৫ শতাংশ কম।

রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরের যাত্রী সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। দুই বছর আগেও সেখানে বার্ষিক দেড় লাখের বেশি যাত্রী যাতায়াত করতেন, কিন্তু ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত তা কমে ৮২ হাজার ২০০-তে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩০ শতাংশ কম। উত্তরের সৈয়দপুর বিমানবন্দরের চিত্রও ভিন্ন নয়; গত অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত সেখানে ৩ লাখের বেশি যাত্রী চলাচল করেছেন, যা তার আগের বছরের তুলনায় ১৯ শতাংশ কম।

এয়ার অ্যাস্ট্রার প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মেসবাহ-উল ইসলাম যাত্রী কমার পেছনে ফ্লাইট ভাড়া ও সড়কপথের উন্নতিকে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, পদ্মা সেতু চালুর ফলে ঢাকা-যশোর ও ঢাকা-বরিশাল রুটে সড়কপথে ভ্রমণ সহজ ও সাশ্রয়ী হওয়ায় আকাশপথের যাত্রীরা কমেছে। একসময় যশোর রুটে আসন পূরণের হার প্রায় ১০০ শতাংশ থাকলেও তা এখন ১০ শতাংশে নেমে এসেছে, আর বরিশাল রুটটি প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

তবে সামগ্রিকভাবে দেশের বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রী চলাচল কমেনি। বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত দেশে ১ কোটি ৫৮ লাখেরও বেশি যাত্রী চলাচল করেছেন, যার বড় অংশই শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করেছেন। এছাড়া কক্সবাজারে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় ফ্লাইট বেড়েছে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস সৈয়দপুরে ফ্লাইট ও আসন সংখ্যা কমালেও রাজশাহীতে সপ্তাহে ছয়টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়কপথের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে অভ্যন্তরীণ বিমান খাতকে নতুন করে কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।