ঢাকা ১২:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে ভর্তি নিয়ে জাতিগত বৈষম্যের মামলা সুপ্রিম কোর্টে নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিতে নারাজ জেডি ভ্যান্স উত্তাল ফ্রান্স: বিভিন্ন শহরে কারফিউ ও জনসমাবেশ নিষিদ্ধ চলতি মাসের বেতনের সঙ্গেই মিলছে নতুন পে স্কেলের সুবিধা নাটোরের বড়াইগ্রামে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ১৪ শাহজালালসহ তিন বিমানবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নতুন ট্রলি ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে বাংলাদেশি পরিচয়ে দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল বিশ্বকাপ: গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য বাংলাদেশের তিন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এমডিদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল পেকুয়ায় নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

নতুন তথ্য: আফগানিস্তানের ১০টি লক্ষ্যবস্তুতে পাকিস্তানের বিমান ও ড্রোন

  • আপডেট সময় : ১২:২৯:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 18
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে আবারও বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে পাকিস্তান। গত ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার দিবাগত রাতে দেশটির সেনাবাহিনী আফগানিস্তানের অন্তত ১০টি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রয়টার্স এবং পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার হামলার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক বিবৃতিতে জানান, পাকিস্তান আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে ওই ১০টি স্থানে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে হামলা চালিয়েছে। তার দাবি, যেসব স্থানে আঘাত হানা হয়েছে, সেগুলো পাকিস্তানবিরোধী বিভিন্ন হামলায় ব্যবহৃত হতো। এই অভিযানে অন্তত ২৮ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে দেশটির ভূখণ্ডে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে। তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, পাকিস্তান বহু বছর ধরে তালেবান নেতাদের কাছে আফগান ভূখণ্ডে সন্ত্রাসীদের এই উপস্থিতি এবং তাদের সহযোগী নেটওয়ার্ক নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিল। তার অভিযোগ, পাকিস্তানে সাম্প্রতিক সময়ে সন্ত্রাসী হামলা বৃদ্ধির পেছনে টিটিপিসহ বিভিন্ন সশস্ত্র সংগঠনের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

তবে পাকিস্তানের এই দাবি নাকচ করে আফগান কর্মকর্তারা উল্টো অভিযোগ তুলেছেন। তাদের ভাষ্যমতে, পাকিস্তানই বরং বৈরী গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দিয়ে থাকে এবং তারা আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের প্রতি কোনো সম্মান প্রদর্শন করছে না। প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা ইস্যুতে এই মতবিরোধই এখন দীর্ঘস্থায়ী সংকটের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে, জাতিসংঘের আফগানিস্তান মিশন (ইউএনএএমএ) এই সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের শুরুতে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে চালানো সামরিক হামলায় অন্তত তিনজন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া গত কয়েক সপ্তাহের ধারাবাহিক সহিংসতায় শত শত সাধারণ আফগান নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

নতুন তথ্য: আফগানিস্তানের ১০টি লক্ষ্যবস্তুতে পাকিস্তানের বিমান ও ড্রোন

আপডেট সময় : ১২:২৯:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে আবারও বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে পাকিস্তান। গত ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার দিবাগত রাতে দেশটির সেনাবাহিনী আফগানিস্তানের অন্তত ১০টি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রয়টার্স এবং পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার হামলার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক বিবৃতিতে জানান, পাকিস্তান আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে ওই ১০টি স্থানে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে হামলা চালিয়েছে। তার দাবি, যেসব স্থানে আঘাত হানা হয়েছে, সেগুলো পাকিস্তানবিরোধী বিভিন্ন হামলায় ব্যবহৃত হতো। এই অভিযানে অন্তত ২৮ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে দেশটির ভূখণ্ডে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে। তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, পাকিস্তান বহু বছর ধরে তালেবান নেতাদের কাছে আফগান ভূখণ্ডে সন্ত্রাসীদের এই উপস্থিতি এবং তাদের সহযোগী নেটওয়ার্ক নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিল। তার অভিযোগ, পাকিস্তানে সাম্প্রতিক সময়ে সন্ত্রাসী হামলা বৃদ্ধির পেছনে টিটিপিসহ বিভিন্ন সশস্ত্র সংগঠনের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

তবে পাকিস্তানের এই দাবি নাকচ করে আফগান কর্মকর্তারা উল্টো অভিযোগ তুলেছেন। তাদের ভাষ্যমতে, পাকিস্তানই বরং বৈরী গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দিয়ে থাকে এবং তারা আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের প্রতি কোনো সম্মান প্রদর্শন করছে না। প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা ইস্যুতে এই মতবিরোধই এখন দীর্ঘস্থায়ী সংকটের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে, জাতিসংঘের আফগানিস্তান মিশন (ইউএনএএমএ) এই সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের শুরুতে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে চালানো সামরিক হামলায় অন্তত তিনজন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া গত কয়েক সপ্তাহের ধারাবাহিক সহিংসতায় শত শত সাধারণ আফগান নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।