ঢাকা ১১:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকায় ভবন রং করার সময় রশি ছিঁড়ে প্রাণ হারালেন যুবক ডনের জামিন আবেদন আবারও নামঞ্জুর: সালমান শাহ মৃত্যুর ঘটনা মামলা নিউল্যান্ডসে দক্ষিণ আফ্রিকা-অস্ট্রেলিয়া টেস্টে স্নায়ুক্ষয়ী লড়াই এমপি আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্রে সুপারিশ করবে জেলা বিএনপি ইতালিতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজপথে হাজারো শিক্ষার্থী ও শ্রমিক কাল প্রকাশ হচ্ছে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফল ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন সব বিমানবন্দরে আধুনিক পাখি তাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বেবিচক রাহুল গান্ধী |: আন্দোলন নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত ইন্ডিয়া জোটের রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু

নিউল্যান্ডসে দক্ষিণ আফ্রিকা-অস্ট্রেলিয়া টেস্টে স্নায়ুক্ষয়ী লড়াই

  • আপডেট সময় : ১০:৪০:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  • / 7
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কেপটাউনের নিউল্যান্ডস স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার তৃতীয় টেস্ট ম্যাচটি কেবল খেলার মাঠের লড়াই নয়, বরং এটি ধৈর্যের কঠিন পরীক্ষা। টেবিল মাউন্টেনের ছায়ায় ২২ গজে ঘটা এই স্নায়ুযুদ্ধ টেস্ট ক্রিকেটের রোমাঞ্চকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ম্যাচের শুরু থেকেই দেখা গেছে পাল্টাপাল্টি লড়াই। কেপটাউনের নিউল্যান্ডস স্টেডিয়াম—যেখানে টেবিল মাউন্টেনের ছায়া পড়ে ২২ গজে, সেখানে ইতিহাস আর আধুনিক টেস্ট ক্রিকেটের রোমাঞ্চ যেন এক সুতোয় মিলেছে।

টস হেরে প্রথমে ব্যাট করা দক্ষিণ আফ্রিকা নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেয় দৃঢ় ব্যাটিংয়ে। মার্ক্কেস অ্যাকারম্যান সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়ে ৯৫ রানে আউট হলেও তার ইনিংসটি ছিল নান্দনিক। ডেভিড বেডিংহামের অর্ধশতকও দলকে ভালো অবস্থানে রাখে। তবে অস্ট্রেলিয়ার পেসার মিচেল স্টার্কের অসাধারণ বোলিংয়ে দৃশ্যপট বদলে যায়। ৭২ রানে ৬ উইকেট নিয়ে তিনি প্রোটিয়াদের ইনিংস ৩২৯ রানেই থামিয়ে দেন। জবাবে অস্ট্রেলিয়া ৪২৯ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ গড়ে ম্যাচে চালকের আসনে বসে। দলের পক্ষে জস ইংলিশ ১০২ রান, অ্যালেক্স ক্যারি ৮০ রান এবং ক্যামেরন গ্রিন ৬৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে সাইমন হারমার ৪টি এবং মার্কো ইয়ানসেন ৩টি উইকেট শিকার করেন। মার্ক্কেস অ্যাকারম্যান মাত্র ৫ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করলেও তার ৯৫ রানের ইনিংসটি ছিল নান্দনিকতায় ভরপুর। ৭২ রান খরচ করে একে একে ৬টি উইকেট তুলে নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন তিনি। মুহূর্তের ব্যবধানে দৃশ্যপট পাল্টে দিলেন মিচেল স্টার্ক। পাহাড়সম চাপের মুখে দাঁড়িয়ে অস্ট্রেলিয়া দেখাল তাদের চ্যাম্পিয়ন মানসিকতা। দলের এই রথযাত্রার মূল কারিগর ছিলেন জস ইংলিশ। তার ব্যাট থেকে আসে চোখ জুড়ানো এক সেঞ্চুরি (১০২)। তাকে দারুণ সঙ্গ দেন অভিজ্ঞ উইকেটকিপার অ্যালেক্স ক্যারি (৮০)। ক্যামেরন গ্রিনের ৬৫ রানের ইনিংসটি অজিদের লিডকে আরও সুদৃঢ় করে। দক্ষিণ আফ্রিকার সাইমন হারমার (৪ উইকেট) ও মার্কো ইয়ানসেন (৩ উইকেট) যথাসাধ্য চেষ্টা করলেও অজিদের এই রানের পাহাড় ভাঙতে বেশ ঘাম ঝরাতে হয়েছে তাদের।

ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় দ্বিতীয় ইনিংসে। প্রথম ইনিংসে পিছিয়ে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা হার মানতে নারাজ ছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে উইয়ান মুল্ডার ১১৫ এবং রিয়ান রিকেলটন ১০১ রানের দুর্দান্ত দুটি সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ম্যাচের চিত্রপট বদলে দেন। এছাড়া অ্যাকারম্যান দ্বিতীয় ইনিংসেও দায়িত্বশীল ৬২ রানের ইনিংস খেললে দক্ষিণ আফ্রিকা এক নিরাপদ অবস্থানে পৌঁছে যায়। প্রথম ইনিংসে পিছিয়ে পড়ার পর অনেকেই হয়তো দক্ষিণ আফ্রিকাকে খর্বশক্তি বলে ধরে নিয়েছিলেন।

কেপটাউনের এই মহাকাব্যিক লড়াই এখন এমন এক পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে প্রতিটি বলই যেন রহস্যে ঘেরা। একদিকে অস্ট্রেলিয়ার আক্রমণাত্মক মানসিকতা, অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার অদম্য জেদ—সব মিলিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীরা এমন এক টেস্ট ম্যাচ দেখছেন যা দীর্ঘকাল মনে রাখার মতো। টস হেরে উইকেটে নেমে প্রোটিয়া ব্যাটাররা অজি পেস আক্রমণকে শুরুতেই যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিলেন যে, ম্যাচ সহজে ছাড়া হবে না। অজি এই পেস সেনসেশন যেন তখন উইকেটের পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

নিউল্যান্ডসে দক্ষিণ আফ্রিকা-অস্ট্রেলিয়া টেস্টে স্নায়ুক্ষয়ী লড়াই

আপডেট সময় : ১০:৪০:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

কেপটাউনের নিউল্যান্ডস স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার তৃতীয় টেস্ট ম্যাচটি কেবল খেলার মাঠের লড়াই নয়, বরং এটি ধৈর্যের কঠিন পরীক্ষা। টেবিল মাউন্টেনের ছায়ায় ২২ গজে ঘটা এই স্নায়ুযুদ্ধ টেস্ট ক্রিকেটের রোমাঞ্চকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ম্যাচের শুরু থেকেই দেখা গেছে পাল্টাপাল্টি লড়াই। কেপটাউনের নিউল্যান্ডস স্টেডিয়াম—যেখানে টেবিল মাউন্টেনের ছায়া পড়ে ২২ গজে, সেখানে ইতিহাস আর আধুনিক টেস্ট ক্রিকেটের রোমাঞ্চ যেন এক সুতোয় মিলেছে।

টস হেরে প্রথমে ব্যাট করা দক্ষিণ আফ্রিকা নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেয় দৃঢ় ব্যাটিংয়ে। মার্ক্কেস অ্যাকারম্যান সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়ে ৯৫ রানে আউট হলেও তার ইনিংসটি ছিল নান্দনিক। ডেভিড বেডিংহামের অর্ধশতকও দলকে ভালো অবস্থানে রাখে। তবে অস্ট্রেলিয়ার পেসার মিচেল স্টার্কের অসাধারণ বোলিংয়ে দৃশ্যপট বদলে যায়। ৭২ রানে ৬ উইকেট নিয়ে তিনি প্রোটিয়াদের ইনিংস ৩২৯ রানেই থামিয়ে দেন। জবাবে অস্ট্রেলিয়া ৪২৯ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ গড়ে ম্যাচে চালকের আসনে বসে। দলের পক্ষে জস ইংলিশ ১০২ রান, অ্যালেক্স ক্যারি ৮০ রান এবং ক্যামেরন গ্রিন ৬৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে সাইমন হারমার ৪টি এবং মার্কো ইয়ানসেন ৩টি উইকেট শিকার করেন। মার্ক্কেস অ্যাকারম্যান মাত্র ৫ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করলেও তার ৯৫ রানের ইনিংসটি ছিল নান্দনিকতায় ভরপুর। ৭২ রান খরচ করে একে একে ৬টি উইকেট তুলে নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন তিনি। মুহূর্তের ব্যবধানে দৃশ্যপট পাল্টে দিলেন মিচেল স্টার্ক। পাহাড়সম চাপের মুখে দাঁড়িয়ে অস্ট্রেলিয়া দেখাল তাদের চ্যাম্পিয়ন মানসিকতা। দলের এই রথযাত্রার মূল কারিগর ছিলেন জস ইংলিশ। তার ব্যাট থেকে আসে চোখ জুড়ানো এক সেঞ্চুরি (১০২)। তাকে দারুণ সঙ্গ দেন অভিজ্ঞ উইকেটকিপার অ্যালেক্স ক্যারি (৮০)। ক্যামেরন গ্রিনের ৬৫ রানের ইনিংসটি অজিদের লিডকে আরও সুদৃঢ় করে। দক্ষিণ আফ্রিকার সাইমন হারমার (৪ উইকেট) ও মার্কো ইয়ানসেন (৩ উইকেট) যথাসাধ্য চেষ্টা করলেও অজিদের এই রানের পাহাড় ভাঙতে বেশ ঘাম ঝরাতে হয়েছে তাদের।

ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় দ্বিতীয় ইনিংসে। প্রথম ইনিংসে পিছিয়ে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা হার মানতে নারাজ ছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে উইয়ান মুল্ডার ১১৫ এবং রিয়ান রিকেলটন ১০১ রানের দুর্দান্ত দুটি সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ম্যাচের চিত্রপট বদলে দেন। এছাড়া অ্যাকারম্যান দ্বিতীয় ইনিংসেও দায়িত্বশীল ৬২ রানের ইনিংস খেললে দক্ষিণ আফ্রিকা এক নিরাপদ অবস্থানে পৌঁছে যায়। প্রথম ইনিংসে পিছিয়ে পড়ার পর অনেকেই হয়তো দক্ষিণ আফ্রিকাকে খর্বশক্তি বলে ধরে নিয়েছিলেন।

কেপটাউনের এই মহাকাব্যিক লড়াই এখন এমন এক পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে প্রতিটি বলই যেন রহস্যে ঘেরা। একদিকে অস্ট্রেলিয়ার আক্রমণাত্মক মানসিকতা, অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার অদম্য জেদ—সব মিলিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীরা এমন এক টেস্ট ম্যাচ দেখছেন যা দীর্ঘকাল মনে রাখার মতো। টস হেরে উইকেটে নেমে প্রোটিয়া ব্যাটাররা অজি পেস আক্রমণকে শুরুতেই যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিলেন যে, ম্যাচ সহজে ছাড়া হবে না। অজি এই পেস সেনসেশন যেন তখন উইকেটের পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন।