পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী: প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে ৬৩০ কোটি ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনা
- আপডেট সময় : ০৩:১৭:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চার দিনের সরকারি জাপান সফরে দেশটির সাথে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
এই সফরের ফলাফল নিয়ে শুক্রবার বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, জাপান বাংলাদেশের উন্নয়ন সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ ও মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। শুক্রবার বিকালে (৩০ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবরের জাপান সফরের ফলাফল তুলে ধরে তিনি এ কথা বলেন। সেখানে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা বাংলাদেশে গাড়ি ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি উৎপাদনের কারখানা স্থাপনে তাদের আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেন।
২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এই সফর দুই দেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগিতাকে পারস্পরিক কল্যাণকর অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে রূপান্তরের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করেছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সফরের অন্যতম বড় প্রাপ্তি হলো আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ এক লাখ কোটি ইয়েন বা প্রায় ৬৩০ কোটি ডলারের জাপানি বেসরকারি বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হওয়া। এর ফলে বাংলাদেশে প্রায় দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এটি কোনো সরকারি ঋণ নয়, বরং বেসরকারি খাতের স্বতঃস্ফূর্ত বিনিয়োগের সম্ভাবনা। তবে এসব বিনিয়োগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জাতীয় অগ্রাধিকার, আর্থিক সাশ্রয়যোগ্যতা এবং দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। কবে নাগাদ এসব বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পারস্পরিক পরামর্শ ও মন্ত্রী পর্যায়ের যৌথ আলোচনার পর উভয় পক্ষের সুবিধাজনক সময়ে শিগগিরই জাপানের একটি অর্থনৈতিক প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার এমন বিনিয়োগকেই অগ্রাধিকার দেবে, যা ব্যয়ের বিপরীতে যথাযথ সুফল নিশ্চিত করবে এবং দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করবে।
সফরের মূল অর্জন ও ক্ষেত্রসমূহ
- বিনিয়োগ সম্ভাবনা: আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ৬৩০ কোটি ডলারের জাপানি বেসরকারি বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা।
- কর্মসংস্থান: প্রস্তাবিত বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে প্রায় দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি।
- সহযোগিতা চুক্তি: অর্থনৈতিক সম্পর্ক, কৃষি, মৎস্য, তথ্যপ্রযুক্তি ও উপকূলীয় নিরাপত্তাসহ মোট ছয়টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই।
হুমায়ুন কবির বলেন, সরকার এখন আর কেবল প্রচলিত সহজ শর্তের ঋণের ওপর নির্ভর করতে চায় না। বরং প্রযুক্তি হস্তান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পারস্পরিক সমান অংশীদারত্বের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলাই এখন পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সফরকালে ফুৎসুতে জেরা-এর এলএনজি টার্মিনাল, টয়োটার উৎপাদন কারখানা এবং চিবা প্রিফেকচারের লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করেছেন, যা দুই দেশের শিল্প ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার নতুন পথ প্রশস্ত করেছে। যার সঙ্গেই আমরা ব্যবসা করবো, প্রকৃত পারস্পরিক বিনিয়োগ অংশীদারত্বের ভিত্তিতেই তা করবো।’। হুমায়ুন কবির বলেন, করব্যবস্থা, শুল্ক ছাড়করণ, রেমিট্যান্স ও লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং সংস্কারের মাধ্যমে ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, ঢাকার এমআরটি প্রকল্প এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনায় জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। এখানে কোনও দেশ অধস্তন বা নির্ভরশীল অবস্থানে থাকবে না।
এছাড়া অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় জাপানের দেওয়া প্রায় ৩১ কোটি ৪০ লাখ ডলারের জরুরি সহায়তা ঋণের জন্য প্রধানমন্ত্রী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। জাইকা প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সাথে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন এবং কারিগরি সহায়তা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অর্থনৈতিক সহনশীলতা জোরদার এবং জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে জাপানের ৫ হাজার কোটি ইয়েন বা প্রায় ৩১ কোটি ৪০ লাখ ডলারের জরুরি সহায়তা ঋণের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ফাস্ট রিটেইলিং, মারুবেনি, মিতসুবিশি ও টয়োটার মতো জাপানের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করেছেন।
এসব আলোচনায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ পেয়েছে।
তবে বিআইজি-বি বা অনুরূপ কোনো আঞ্চলিক উদ্যোগে তৃতীয় কোনো দেশের সম্পৃক্ততা নিয়ে সফরে কোনো আলোচনা হয়নি বলে তিনি স্পষ্ট করেন। অন্য কোনও দেশকে যুক্ত করে আঞ্চলিক কোনও ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে আলোচনায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানেও জাপানকে পাশে পাওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছে বাংলাদেশ।
উভয় দেশ বৈশ্বিক শান্তি, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও মত বিনিময় করেছে।

























