ঢাকা ১২:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইউরোপে ভুয়া বোমা হামলার হুমকিতে ব্যাহত ৩০ ফ্লাইট জামালগঞ্জে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২ রাজধানীর ক্লিনিকে ইনকিউবেটরের আগুনে নবজাতকের শরীর ঝলসে যাওয়ার অভিযোগ দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার যেকোনো মূল্যে রক্ষা করব: প্রধানমন্ত্রী রান্নার অ্যালুমিনিয়াম পাত্রে সিসার ঝুঁকি: মিলছে না সমাধান সেবায় রূপান্তরই মূল লক্ষ্য, জানালেন তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় ফ্লাই দুবাইয়ের দুই রুটে ফ্লাইট স্থগিত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপনের সঙ্গে বায়োফার্মার এমডির সৌজন্য সাক্ষাৎ ওয়েলিংটনে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের জয় ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

পুরোনো দামের সিগারেট বিক্রি করে রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে তামাক কোম্পানি

  • আপডেট সময় : ১১:০৬:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / 35
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রাজস্ব বৃদ্ধিতে তামাক কর নীতি’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা বলেছেন, বাজেট ঘোষণার দুই মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও দেশের তামাক কোম্পানিগুলো এখনো পুরোনো দামের সিগারেট নতুন দামে বিক্রি করে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে।

তারা বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জারি করা এসআরও-তে বলা হয়েছে, পূর্বের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য মুদ্রিত সিগারেটের প্যাকেটে সিল দ্বারা নতুন সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য মুদ্রণ করে দিতে হবে। কিন্তু প্যাকেটে নতুন দামের সিল না দিয়েই বাজারে প্রকাশ্যে সব সিগারেট আগের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

আজ রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরোর সম্মেলন কক্ষে ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রাজস্ব বৃদ্ধিতে তামাক কর নীতি’ শীর্ষক একটি কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরো (বিইআর) ও বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি) যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরোর পরিচালক মাসুদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মো. এনামুল হক বক্তব্য রাখেন।

কর্মশালায় ‘তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ, প্রোপাগান্ডা ও বাস্তবতা’ বিষয়ক সেশনে বিএনটিটিপির টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য ও সাংবাদিক সুশান্ত সিনহা এবং ‘বাংলাদেশের তামাক কর ব্যবস্থা’ বিষয়ক সেশনে বিএনটিটিপির প্রকল্প পরিচালক হামিদুল ইসলাম হিল্লোল সহায়ক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ড. এনামুল হক বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর তামাক নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি কম্প্রিহেনসিভ তামাক কর নীতি থাকা আবশ্যক। আমরা স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে তামাক কর নীতির রূপরেখাসহ সুপারিশ পাঠিয়েছি। আমরা প্রত্যাশা করছি, এনবিআর জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ও সরকারের কর বৃদ্ধিতে একটি তামাক কর নীতি প্রণয়ন করবে।

অধ্যাপক মাসুদা ইয়াসমিন বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য সরকারকে তামাক নিয়ন্ত্রণে আরও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে। তামাকের ওপর থেকে পর্যায়ক্রমে নির্ভরতা কমিয়ে এনে বিকল্পভাবে রাজস্ব আদায়ের উপায় খুঁজে বের করতে হবে। তামাকের কারণে রাজস্বের চেয়ে স্বাস্থ্য ব্যয় অনেক বেশি। সুতরাং কীভাবে তামাকে আরও বাস্তবিকভাবে কর বৃদ্ধি করা যায় সেটার উপায় বের করতে হবে। সবসময় সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য খাতে সরকারের গুরুত্বারোপ করতে হবে।

কর্মশালায় হামিদুল ইসলাম হিল্লোল বলেন, তামাক কোম্পানিগুলো তামাকজাত দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি ঠেকাতে চোরাচালানের মিথ্যা তথ্য ছড়ায়।

তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে বাংলাদেশে সিগারেটের দাম অনেক কম। ফলে এ ধরনের সিগারেট চোরাচালানের মিথ্যা ও সাজানো তথ্য কেবল বিভ্রান্ত করার জন্যই প্রচার করছে তামাক কোম্পানিগুলো।

সরকারের উচিত বাজেট প্রস্তাবনা থেকে তদূর্ধ্ব শব্দের বিলুপ্তি করে তামাকজাত দ্রব্যে সুনির্দিষ্ট করারোপ করা এবং একটি জাতীয় কর নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা।

কর্মশালায় বক্তারা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও তামাকজাত দ্রব্যে কর বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনার সুপারিশ করেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিইআরের সিনিয়র প্রজেক্ট ও কমিউনিকেশন অফিসার ইব্রাহীম খলিল।
বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

পুরোনো দামের সিগারেট বিক্রি করে রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে তামাক কোম্পানি

আপডেট সময় : ১১:০৬:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রাজস্ব বৃদ্ধিতে তামাক কর নীতি’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা বলেছেন, বাজেট ঘোষণার দুই মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও দেশের তামাক কোম্পানিগুলো এখনো পুরোনো দামের সিগারেট নতুন দামে বিক্রি করে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে।

তারা বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জারি করা এসআরও-তে বলা হয়েছে, পূর্বের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য মুদ্রিত সিগারেটের প্যাকেটে সিল দ্বারা নতুন সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য মুদ্রণ করে দিতে হবে। কিন্তু প্যাকেটে নতুন দামের সিল না দিয়েই বাজারে প্রকাশ্যে সব সিগারেট আগের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

আজ রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরোর সম্মেলন কক্ষে ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রাজস্ব বৃদ্ধিতে তামাক কর নীতি’ শীর্ষক একটি কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরো (বিইআর) ও বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি) যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরোর পরিচালক মাসুদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মো. এনামুল হক বক্তব্য রাখেন।

কর্মশালায় ‘তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ, প্রোপাগান্ডা ও বাস্তবতা’ বিষয়ক সেশনে বিএনটিটিপির টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য ও সাংবাদিক সুশান্ত সিনহা এবং ‘বাংলাদেশের তামাক কর ব্যবস্থা’ বিষয়ক সেশনে বিএনটিটিপির প্রকল্প পরিচালক হামিদুল ইসলাম হিল্লোল সহায়ক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ড. এনামুল হক বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর তামাক নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি কম্প্রিহেনসিভ তামাক কর নীতি থাকা আবশ্যক। আমরা স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে তামাক কর নীতির রূপরেখাসহ সুপারিশ পাঠিয়েছি। আমরা প্রত্যাশা করছি, এনবিআর জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ও সরকারের কর বৃদ্ধিতে একটি তামাক কর নীতি প্রণয়ন করবে।

অধ্যাপক মাসুদা ইয়াসমিন বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য সরকারকে তামাক নিয়ন্ত্রণে আরও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে। তামাকের ওপর থেকে পর্যায়ক্রমে নির্ভরতা কমিয়ে এনে বিকল্পভাবে রাজস্ব আদায়ের উপায় খুঁজে বের করতে হবে। তামাকের কারণে রাজস্বের চেয়ে স্বাস্থ্য ব্যয় অনেক বেশি। সুতরাং কীভাবে তামাকে আরও বাস্তবিকভাবে কর বৃদ্ধি করা যায় সেটার উপায় বের করতে হবে। সবসময় সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য খাতে সরকারের গুরুত্বারোপ করতে হবে।

কর্মশালায় হামিদুল ইসলাম হিল্লোল বলেন, তামাক কোম্পানিগুলো তামাকজাত দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি ঠেকাতে চোরাচালানের মিথ্যা তথ্য ছড়ায়।

তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে বাংলাদেশে সিগারেটের দাম অনেক কম। ফলে এ ধরনের সিগারেট চোরাচালানের মিথ্যা ও সাজানো তথ্য কেবল বিভ্রান্ত করার জন্যই প্রচার করছে তামাক কোম্পানিগুলো।

সরকারের উচিত বাজেট প্রস্তাবনা থেকে তদূর্ধ্ব শব্দের বিলুপ্তি করে তামাকজাত দ্রব্যে সুনির্দিষ্ট করারোপ করা এবং একটি জাতীয় কর নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা।

কর্মশালায় বক্তারা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও তামাকজাত দ্রব্যে কর বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনার সুপারিশ করেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিইআরের সিনিয়র প্রজেক্ট ও কমিউনিকেশন অফিসার ইব্রাহীম খলিল।
বিডিসংবাদ/এএইচএস