ঢাকা ০২:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইরানের স্পিকার |: যুদ্ধের বিরুদ্ধে ‘না’ ভোট দিয়েছে মার্কিন জনগণ পোশাকশ্রমিকদের নতুন বেতন বাস্তবায়ন জানুয়ারিতে, ডিসেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত হবে কাঠামো প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা প্রতিনিধিদলের সৌজন্য বৈঠক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী রিপাবলিকানদের পরাজয়ে ইরান যুদ্ধের প্রভাব স্বীকার করলেন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে রিপাবলিকানদের হটিয়ে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয় এনআইডি জালিয়াতি রোধে কঠোর নির্বাচন কমিশন: অনেক কর্মকর্তা বরখাস্ত বড়দিন উদযাপনে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার, সীতাকুণ্ডে আশ্বাসে ফিরল স্বাভাবিক পরিবেশ স্লোগানকে হাদিসের সঙ্গে তুলনা করে পদ হারালেন ডিটিসিএ কর্মকর্তা

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা প্রতিনিধিদলের সৌজন্য বৈঠক

  • আপডেট সময় : ০১:২৮:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • / 4
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বুধবার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। সাক্ষাতের শুরুতেই লিউ হাইশিং চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংকে উষ্ণ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন। বুধবার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্কের যে ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল, তা দুই দেশের জনগণের হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন প্রজন্মের হাত ধরে এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতার ঐতিহ্য আরও সুদৃঢ় হবে। ঐতিহাসিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তা এগিয়ে নেওয়া বর্তমান নেতৃত্বের দায়িত্ব।

চীনা মন্ত্রী লিউ হাইশিং বেইজিং সফরের সময় গৃহীত যৌথ ঘোষণার কথা উল্লেখ করে বলেন, এই ঘোষণার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় চীনের সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের সক্ষমতার প্রতি তিনি গভীর আস্থা প্রকাশ করেন।

সাক্ষাতে কৃষি উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পরই বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছিল, যা পরবর্তীকালে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বর্তমান সরকারও ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যা জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে তিনি জানান। পরবর্তী সময়ে এ কর্মসূচি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং কৃষির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ কর্মসূচি কৃষক ও সাধারণ মানুষের উপকারে আসার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখবে।

রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১৩ লাখ রোহিঙ্গার কারণে দেশের অর্থনীতি ও সমাজকাঠামো বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। এই সংকটের টেকসই সমাধানে তিনি চীনের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন। জবাবে চীনা মন্ত্রী লিউ হাইশিং জানান, চীন রোহিঙ্গা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত এবং তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উদ্বেগের বিষয়টি প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংকে অবহিত করবেন।

দলীয় পর্যায়ে যোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে লিউ হাইশিং বিএনপির মহাসচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান। এছাড়া বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর এবং আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তিতে (আরসিইপি) বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে চীনের সমর্থনের কথা তিনি নিশ্চিত করেন।

বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.

আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, চীনা মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. লিউ ইউয়িন এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক পেং শিউবিনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা প্রতিনিধিদলের সৌজন্য বৈঠক

আপডেট সময় : ০১:২৮:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

বুধবার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। সাক্ষাতের শুরুতেই লিউ হাইশিং চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংকে উষ্ণ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন। বুধবার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্কের যে ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল, তা দুই দেশের জনগণের হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন প্রজন্মের হাত ধরে এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতার ঐতিহ্য আরও সুদৃঢ় হবে। ঐতিহাসিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তা এগিয়ে নেওয়া বর্তমান নেতৃত্বের দায়িত্ব।

চীনা মন্ত্রী লিউ হাইশিং বেইজিং সফরের সময় গৃহীত যৌথ ঘোষণার কথা উল্লেখ করে বলেন, এই ঘোষণার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় চীনের সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের সক্ষমতার প্রতি তিনি গভীর আস্থা প্রকাশ করেন।

সাক্ষাতে কৃষি উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পরই বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছিল, যা পরবর্তীকালে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বর্তমান সরকারও ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যা জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে তিনি জানান। পরবর্তী সময়ে এ কর্মসূচি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং কৃষির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ কর্মসূচি কৃষক ও সাধারণ মানুষের উপকারে আসার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখবে।

রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১৩ লাখ রোহিঙ্গার কারণে দেশের অর্থনীতি ও সমাজকাঠামো বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। এই সংকটের টেকসই সমাধানে তিনি চীনের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন। জবাবে চীনা মন্ত্রী লিউ হাইশিং জানান, চীন রোহিঙ্গা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত এবং তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উদ্বেগের বিষয়টি প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংকে অবহিত করবেন।

দলীয় পর্যায়ে যোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে লিউ হাইশিং বিএনপির মহাসচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান। এছাড়া বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর এবং আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তিতে (আরসিইপি) বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে চীনের সমর্থনের কথা তিনি নিশ্চিত করেন।

বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.

আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, চীনা মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. লিউ ইউয়িন এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক পেং শিউবিনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।