প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে অস্বচ্ছতা ও বৈষম্যের অভিযোগ জামায়াতের
- আপডেট সময় : ০৮:৫১:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 34
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও শত শত প্রার্থীর নিয়োগপত্র না পাওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, প্রকাশিত তথ্যমতে দেশের ২৭টি জেলায় অন্তত ৭৭৮ জন চূড়ান্ত প্রার্থী নিয়োগবঞ্চিত হয়েছেন। অনেক প্রার্থীর দাবি, ভেরিফিকেশনের অজুহাতে তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় নিয়োগ পদ্ধতির স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি এই প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২৭ জেলায় অন্তত ৭৭৮ জন চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর এবং রাষ্ট্রীয় নিয়োগব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার জন্য অশনিসংকেত।
মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রশ্ন তোলেন, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষাসহ নিয়োগের সব ধাপ সফলভাবে পার হওয়ার পর কোন আইনি ভিত্তি ও মানদণ্ডে তাদের বাদ দেওয়া হলো। অনেকের অভিযোগ, মেধা থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক পরিচয়, পারিবারিক পটভূমি, দলীয় মতাদর্শ কিংবা সামাজিক অবস্থানের কারণে তাদের নিয়োগ আটকে দেওয়া হয়েছে। জামায়াত নেতার ভাষ্যমতে, সরকারি চাকরি কোনো নির্দিষ্ট দলের আনুগত্যের পুরস্কার নয় এবং মেধা ও যোগ্যতার ঊর্ধ্বে দলীয় পরিচয়কে স্থান দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, চূড়ান্ত তালিকা থেকে কাদের বাদ দেওয়া হয়েছে, কেন বাদ দেওয়া হয়েছে এবং এর পেছনে কোন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ছিল, তা জানার পূর্ণ অধিকার জনগণের রয়েছে। তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ধরনের গোপন সিদ্ধান্ত, দলীয়করণ বা বৈষম্য জনগণ মেনে নেবে না। ভেরিফিকেশনের নামে মেধাবীদের হয়রানি করার দায় সরকারকেই বহন করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে জামায়াতের এই নেতা সরকারের কাছে অবিলম্বে তিনটি দাবি উত্থাপন করেছেন। তিনি নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ, সিদ্ধান্তের সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা এবং ভেরিফিকেশনের মানদণ্ড জনগণের সামনে স্পষ্ট করার আহ্বান জানান। এছাড়া কোনো নিরপরাধ প্রার্থী অন্যায়ভাবে বঞ্চিত হয়ে থাকলে দ্রুত তার প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও বৈষম্যের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।


























