বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত: নিউইয়র্কে বিনিয়োগকারীদের বললেন প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৫:৫২:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 2
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে নিউইয়র্ক সফর করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরের অংশ হিসেবে গত শুক্রবার সকালে ম্যানহাটনের ২৭০ পার্ক এভিনিউয়ে অবস্থিত জেপি মর্গানের সদর দপ্তরে এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন তিনি। ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সাথে এই সভায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিয়ে আলোচনা করেন সরকারপ্রধান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৫ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) স্থানীয় সময় সকালে ম্যানহাটনে জেপি মর্গানের সদর দপ্তর ২৭০ পার্ক অ্যাভিনিউয়ে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ ব্। এটি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি এবং তা অব্যাহত থাকবে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, বাংলাদেশে বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে তার সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, আমাদের বার্তা অত্যন্ত স্বচ্ছ—বাংলাদেশ এখন ব্যবসার জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত। নিজের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিনিয়োগের জন্য সবসময়ই একটি নির্ভরযোগ্য পরিবেশ, স্বচ্ছতা এবং পূর্বানুমেয়তা প্রয়োজন। তিনি বলেন, রাজনীতিতে আসার আগে আমি নিজেও ব্যবসা করেছি, তাই একজন ব্যবসায়ী হিসেবে আমি বুঝি বিনিয়োগকারীদের ঠিক কী প্রয়োজন। দায়িত্ব ভিন্ন হলেও উভয়ের মূলনীতি একই-সাফল্য নিশ্চিত করা।
নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওয়াল স্ট্রিটের কোনো প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং একজন বাংলাদেশি ও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে আমি এখানে এসেছি দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা করতে। তিনি বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ব্যবসায়ীরা যেমন তাদের বিনিয়োগ ও প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেন, তেমনি আমার প্রথম অগ্রাধিকার হলো বাংলাদেশের মানুষের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা। জাতিসংঘ অধিবেশনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের যেসব অগ্রাধিকার রয়েছে, তিনি সেগুলো তুলে ধরেন বলেও জানান।
তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের বসবাস, যার বড় একটি অংশই তরুণ ও কর্মঠ। বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে বড় উৎপাদন ও তৈরি পোশাক শিল্পের হাব হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর এবং বিশ্বব্যাপী উৎপাদন ও বিনিয়োগের একটি কেন্দ্রে পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন। দেশটির রয়েছে তরুণ ও কর্মঠ জনগোষ্ঠী, ক্রমবর্ধমান বাজার এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান। তবে আজকের বাংলাদেশ এর চেয়েও অনেক বেশি সম্ভাবনা ধারণ করে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশকে আরও সহজ ও স্থিতিশীল করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সহজীকরণ, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের আধুনিকায়ন এবং মুনাফা প্রত্যাবর্তনের সুবিধা নিশ্চিত করার কাজ চলছে। জ্বালানি, অবকাঠামো, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি, কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবার মতো ক্ষেত্রগুলোতে ব্যাপক বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও গভীর হবে।
ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে এমন একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, যেখান থেকে বিনিয়োগকারীরা দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তর বাজারে সহজেই কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন। তিনি পরিষ্কার করেন যে, সরকারের লক্ষ্য হলো আরও বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগকারীরা শেষ পর্যন্ত কোনো বক্তব্যের পর কী ঘটে, তার ভিত্তিতেই একটি দেশকে মূল্যায়ন করেন।
বিনিয়োগকারীদের সহায়তায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি তাদের সাথে সমন্বয় করবেন বলেও প্রধানমন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, আপনাদের যেকোনো বাধা দূর করতে সরকার প্রস্তুত। সভায় জেপি মর্গানের আয়োজনের প্রশংসা করে তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদী ব্যবসায়িক সম্পর্কের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা সম্ভব।


















