ঢাকা ১২:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইউরোপে ভুয়া বোমা হামলার হুমকিতে ব্যাহত ৩০ ফ্লাইট জামালগঞ্জে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২ রাজধানীর ক্লিনিকে ইনকিউবেটরের আগুনে নবজাতকের শরীর ঝলসে যাওয়ার অভিযোগ দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার যেকোনো মূল্যে রক্ষা করব: প্রধানমন্ত্রী রান্নার অ্যালুমিনিয়াম পাত্রে সিসার ঝুঁকি: মিলছে না সমাধান সেবায় রূপান্তরই মূল লক্ষ্য, জানালেন তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় ফ্লাই দুবাইয়ের দুই রুটে ফ্লাইট স্থগিত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপনের সঙ্গে বায়োফার্মার এমডির সৌজন্য সাক্ষাৎ ওয়েলিংটনে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের জয় ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বাংলাদেশ ব্যাংকের বড় সুখবর, সুদ ছাড়াই মিলবে ৫ হাজার টাকার ডিজিটাল ঋণ

  • আপডেট সময় : ০৯:২২:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
  • / 34
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সংসারের ছোটখাটো জরুরি খরচ; বিশেষ করে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি কিংবা মোবাইল ফোনের বিল পরিশোধ ও রিচার্জের মতো তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে ‘ডিজিটাল ঋণ’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এই ব্যবস্থায় মোবাইল ব্যাংকিং বা ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহকরা ৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

এই ঋণের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো, এর ওপর কোনো সুদ আরোপ করা হবে না। তবে ঋণের পরিমাণ অনুযায়ী ব্যাংকগুলো নির্দিষ্ট হারে সেবামূল্য বা সার্ভিস চার্জ নিতে পারবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের খসড়া নীতিমালায় সেবামূল্যের যে কাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছে তা হলো:

  • ৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত: সর্বোচ্চ ৫ টাকা
  • ২৫১ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত: ১০ টাকা
  • ৫০১ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত: ১৫ টাকা
  • ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত: ২৫ টাকা
  • ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত: ৩৫ টাকা
  • ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত: সর্বোচ্চ ৫০ টাকা

এর বাইরে ব্যাংকগুলো কোনো ধরনের সুদ বা অতিরিক্ত চার্জ নেওয়ার সুযোগ পাবে না। ঋণ নেওয়ার পর তা পরিশোধের জন্য গ্রাহককে ৩০ দিন সময় দেওয়া হবে।

নতুন এই ব্যবস্থায় ঋণ নিতে গ্রাহককে ব্যাংকের শাখায় গিয়ে কোনো কাগজপত্র জমা দিতে হবে না। কাগুজে স্বাক্ষরের পরিবর্তে গ্রাহকের বায়োমেট্রিক পরিচয় যাচাই এবং ডিজিটাল সম্মতি নেওয়া হবে। অর্থাৎ, পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমেই ঋণের আবেদন, অনুমোদন, অর্থ ছাড় এবং পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে।

ডিজিটাল ঋণের এই সুবিধা এখনই চালু হচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে খসড়া নীতিমালা প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও জনসাধারণের মতামত নিচ্ছে। মতামত ও পরামর্শ পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত নীতিমালা জারি করা হবে। চূড়ান্ত নীতিমালায় ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা, গ্রাহকসীমা, পরিশোধের পদ্ধতি, তথ্য সংরক্ষণ, গ্রাহক সুরক্ষা এবং ঋণ খেলাপি হলে করণীয় বিষয়গুলো আরও স্পষ্ট করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, এটি কোনো বড় অঙ্কের ভোগ্যঋণ নয়; বরং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ছোট ও তাৎক্ষণিক আর্থিক প্রয়োজন মেটানোর একটি স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থা। এর ফলে ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা বা প্রচলিত ঋণ পাওয়ার সুযোগ না থাকা বহু মানুষ এই সুবিধার আওতায় আসতে পারবেন। সবকিছু ঠিকঠাক বাস্তবায়ন করা গেলে, এটি দেশের নগদবিহীন (Cashless) অর্থনীতি গড়ে তুলতে এবং ডিজিটাল আর্থিক সেবার প্রসারে এক যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বাংলাদেশ ব্যাংকের বড় সুখবর, সুদ ছাড়াই মিলবে ৫ হাজার টাকার ডিজিটাল ঋণ

আপডেট সময় : ০৯:২২:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

সংসারের ছোটখাটো জরুরি খরচ; বিশেষ করে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি কিংবা মোবাইল ফোনের বিল পরিশোধ ও রিচার্জের মতো তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে ‘ডিজিটাল ঋণ’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এই ব্যবস্থায় মোবাইল ব্যাংকিং বা ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহকরা ৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

এই ঋণের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো, এর ওপর কোনো সুদ আরোপ করা হবে না। তবে ঋণের পরিমাণ অনুযায়ী ব্যাংকগুলো নির্দিষ্ট হারে সেবামূল্য বা সার্ভিস চার্জ নিতে পারবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের খসড়া নীতিমালায় সেবামূল্যের যে কাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছে তা হলো:

  • ৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত: সর্বোচ্চ ৫ টাকা
  • ২৫১ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত: ১০ টাকা
  • ৫০১ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত: ১৫ টাকা
  • ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত: ২৫ টাকা
  • ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত: ৩৫ টাকা
  • ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত: সর্বোচ্চ ৫০ টাকা

এর বাইরে ব্যাংকগুলো কোনো ধরনের সুদ বা অতিরিক্ত চার্জ নেওয়ার সুযোগ পাবে না। ঋণ নেওয়ার পর তা পরিশোধের জন্য গ্রাহককে ৩০ দিন সময় দেওয়া হবে।

নতুন এই ব্যবস্থায় ঋণ নিতে গ্রাহককে ব্যাংকের শাখায় গিয়ে কোনো কাগজপত্র জমা দিতে হবে না। কাগুজে স্বাক্ষরের পরিবর্তে গ্রাহকের বায়োমেট্রিক পরিচয় যাচাই এবং ডিজিটাল সম্মতি নেওয়া হবে। অর্থাৎ, পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমেই ঋণের আবেদন, অনুমোদন, অর্থ ছাড় এবং পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে।

ডিজিটাল ঋণের এই সুবিধা এখনই চালু হচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে খসড়া নীতিমালা প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও জনসাধারণের মতামত নিচ্ছে। মতামত ও পরামর্শ পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত নীতিমালা জারি করা হবে। চূড়ান্ত নীতিমালায় ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা, গ্রাহকসীমা, পরিশোধের পদ্ধতি, তথ্য সংরক্ষণ, গ্রাহক সুরক্ষা এবং ঋণ খেলাপি হলে করণীয় বিষয়গুলো আরও স্পষ্ট করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, এটি কোনো বড় অঙ্কের ভোগ্যঋণ নয়; বরং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ছোট ও তাৎক্ষণিক আর্থিক প্রয়োজন মেটানোর একটি স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থা। এর ফলে ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা বা প্রচলিত ঋণ পাওয়ার সুযোগ না থাকা বহু মানুষ এই সুবিধার আওতায় আসতে পারবেন। সবকিছু ঠিকঠাক বাস্তবায়ন করা গেলে, এটি দেশের নগদবিহীন (Cashless) অর্থনীতি গড়ে তুলতে এবং ডিজিটাল আর্থিক সেবার প্রসারে এক যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।