ভারতে বিমানের অস্বাভাবিক ভাড়া নিয়ন্ত্রণে সরকারকে এক মাস সময়
- আপডেট সময় : ১১:১৪:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
- / 4
ভারতে অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইটের আকাশচুম্বী ভাড়া নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় সরকার বর্তমানে কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, সে বিষয়ে এক মাসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি আর মহাদেবন এবং বিচারপতি অপরেশ কুমার সিংয়ের সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের বেঞ্চে শুনানি চলাকালে এই নির্দেশনা আসে। মামলার পরবর্তী শুনানি ১৬ নভেম্বর নির্ধারণ করেছে আদালত।
শুনানিতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, সরকার ভাড়া নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিয়েছে। ‘ভারতীয় বায়ুযান অধিনিয়ম, ২০২৪’-এর অধীনে নতুন বিধি প্রণয়নের প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া গেছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এই নতুন খসড়া বিধি প্রকাশ করা হতে পারে। আদালত জানতে চেয়েছেন, সাধারণ যাত্রীদের এই বাড়তি ভাড়ার চাপ থেকে মুক্তি দিতে সরকার কী ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
দেশটির অভ্যন্তরীণ রুটে টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির চিত্র খুবই স্পষ্ট। উদাহরণস্বরূপ, ২১ অক্টোবর দিল্লি-বেঙ্গালুরু রুটের টিকিটের দাম পৌঁছেছে ১০ হাজার রুপিতে। এছাড়া ২৪ অক্টোবর মুম্বাই-পুনে রুটে ভাড়া ১২ হাজার ৫০০ রুপির বেশি এবং ২৫ অক্টোবর কলকাতা-হায়দরাবাদ রুটে ভাড়া প্রায় ১৫ হাজার রুপিতে দাঁড়িয়েছে। উৎসবের মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে সংস্থাগুলো এমন ভাড়া নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে বিমান সংস্থাগুলোর দাবি, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে তাদের পরিচালন ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়েছে। পাকিস্তান ও ইরানের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় দীর্ঘ পথ ঘুরে ফ্লাইট পরিচালনার ফলে অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ হচ্ছে, যা সামাল দিতে শেষ মুহূর্তে টিকিট কেনা যাত্রীদের ওপর বাড়তি ভাড়ার বোঝা চাপাতে হয়। তাদের যুক্তি, বেসরকারি খাতে টিকিটের দাম নিয়ন্ত্রণ করা হলে ব্যবসা পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।
সমাজকর্মী এস এল লক্ষ্মীনারায়ণনের দায়ের করা জনস্বার্থ মামলায় বিমান সংস্থাগুলোর বৈষম্যমূলক আচরণের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়, একই ফ্লাইটের একই গন্তব্যের যাত্রীদের কাছ থেকে ভিন্ন ভিন্ন ভাড়া আদায় করা হচ্ছে, যা যাত্রীদের সমতার অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করে। এর পাশাপাশি চেক-ইন ব্যাগের ওজন হ্রাস এবং পছন্দের আসনে বসার জন্য অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়টিও আদালতকে অবহিত করা হয়েছে। এখন কেন্দ্রের নতুন বিধি প্রকাশের পর বিমান ভাড়া নির্ধারণে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, তা নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে কৌতূহল রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এ ধরনের বৈষম্য যাত্রীদের সমান অধিকারের প্রশ্ন তৈরি করে।

























