ঢাকা ০২:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গ্রামপুলিশের বেতন ও অবসর সুবিধা বাড়ালেন প্রধানমন্ত্রী ভোলায় ১৬ বছর ধরে জরাজীর্ণ ব্রিজে চলাচলে ঝুঁকি ৭ নভেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ম্যাগনা কার্টা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাবে সরকার, জানালেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী সেন্টমার্টিনের পথে কক্সবাজার থেকে যাত্রা করল পর্যটকবাহী ৩টি জাহাজ অধ্যক্ষকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম মরিশাসে কাচের বাক্স চাপায় তিন বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু দেশের মাটিতে প্রথম ফাইফার, ইতিহাস গড়ে উচ্ছ্বসিত হাসান মাহমুদ রমজানের আগেই রাজধানীর বাজারে ছোলার দাম বাড়ল কেজিতে ১৫ টাকা দলের পারফরম্যান্সে খুশি কোচ থমাস ডুলি

ভোলায় ১৬ বছর ধরে জরাজীর্ণ ব্রিজে চলাচলে ঝুঁকি

  • আপডেট সময় : ০২:৫৮:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভোলার লালমোহন উপজেলার মোতাহার নগর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গণেশপুর এলাকার নয়া ভাঙ্গানী খালের ওপর নির্মিত ১২ মিটার দীর্ঘ গার্ডার ব্রিজটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ২০০৯ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে নির্মিত এই সেতুটি নির্মাণের মাত্র এক বছরের মাথায় ২০১০ সালের দিকেই পূর্ব ও মাঝের অংশের স্লাব ধসে খালে পড়ে যায়। এরপর থেকে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে এই জরাজীর্ণ অবস্থা চললেও সেতুটি সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ১২ মিটার দৈর্ঘ্যে একটি গার্ডার ব্রিজ, অথচ সেই ব্রিজ দিয়েই নেই চলাচলের নিরাপদ ব্যবস্থা। পশ্চিম পাশের অংশটি এখন রাস্তার তুলনায় অনেক উঁচু।

সেতুটির ভাঙা অংশ দিয়ে চলাচলের কোনো উপায় না থাকায় স্থানীয়রা বাঁশ, কাঠ এবং সুপারি গাছ ফেলে সাঁকো ও মই তৈরি করে নিয়েছেন। বর্তমানে সাঁকো দিয়ে পারাপারের সময় ব্রিজটি থরথর করে কাঁপতে থাকে। এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়েই প্রতিদিন শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী, গর্ভবতী নারী ও বয়োবৃদ্ধসহ শতশত মানুষ যাতায়াত করেন। এখন পর্যন্ত ব্রিজ থেকে খালে পড়ে শিশুসহ অনেকে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হয় অসুস্থ রোগী, বয়োবৃদ্ধ ও গর্ভবতী নারীদের। এতে রোগীর স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

এলাকাবাসীর দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে স্থানীয় বাসিন্দা বাচ্চু মাতাব্বর, শাহে আলম ও শামছুল হক সিকদার জানান, ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে অটোরিকশাসহ কোনো ধরনের যানবাহন এ পথে চলতে পারে না। কোনো রোগীকে জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে নিতে হলে বাঁশ দিয়ে পালকি তৈরি করে পার করতে হয়, যা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। তারা ব্রিজটি দ্রুত সংস্কার অথবা পুনরায় নির্মাণের জন্য ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী শান্ত, আব্দুল্লাহ ও ইব্রাহিম জানায়, জরাজীর্ণ এই ব্রিজটি পার হতে তাদের প্রচণ্ড ভয় লাগে। তাদের মনে হয়, যেকোনো সময় ব্রিজটি ভেঙে খালে পড়ে যেতে পারে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রতিনিয়ত চরম আতঙ্কের মধ্যেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে। সামান্য অসতর্ক হলেই খালে পড়ে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেন, উপজেলাজুড়ে যতগুলো ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ ব্রিজ রয়েছে, সেগুলোর তালিকা প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, সরকারের পক্ষ থেকে বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই এই ব্রিজসহ ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য অবকাঠামো সংস্কার কিংবা নতুন নির্মাণের জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ভোলায় ১৬ বছর ধরে জরাজীর্ণ ব্রিজে চলাচলে ঝুঁকি

আপডেট সময় : ০২:৫৮:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

ভোলার লালমোহন উপজেলার মোতাহার নগর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গণেশপুর এলাকার নয়া ভাঙ্গানী খালের ওপর নির্মিত ১২ মিটার দীর্ঘ গার্ডার ব্রিজটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ২০০৯ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে নির্মিত এই সেতুটি নির্মাণের মাত্র এক বছরের মাথায় ২০১০ সালের দিকেই পূর্ব ও মাঝের অংশের স্লাব ধসে খালে পড়ে যায়। এরপর থেকে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে এই জরাজীর্ণ অবস্থা চললেও সেতুটি সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ১২ মিটার দৈর্ঘ্যে একটি গার্ডার ব্রিজ, অথচ সেই ব্রিজ দিয়েই নেই চলাচলের নিরাপদ ব্যবস্থা। পশ্চিম পাশের অংশটি এখন রাস্তার তুলনায় অনেক উঁচু।

সেতুটির ভাঙা অংশ দিয়ে চলাচলের কোনো উপায় না থাকায় স্থানীয়রা বাঁশ, কাঠ এবং সুপারি গাছ ফেলে সাঁকো ও মই তৈরি করে নিয়েছেন। বর্তমানে সাঁকো দিয়ে পারাপারের সময় ব্রিজটি থরথর করে কাঁপতে থাকে। এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়েই প্রতিদিন শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী, গর্ভবতী নারী ও বয়োবৃদ্ধসহ শতশত মানুষ যাতায়াত করেন। এখন পর্যন্ত ব্রিজ থেকে খালে পড়ে শিশুসহ অনেকে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হয় অসুস্থ রোগী, বয়োবৃদ্ধ ও গর্ভবতী নারীদের। এতে রোগীর স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

এলাকাবাসীর দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে স্থানীয় বাসিন্দা বাচ্চু মাতাব্বর, শাহে আলম ও শামছুল হক সিকদার জানান, ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে অটোরিকশাসহ কোনো ধরনের যানবাহন এ পথে চলতে পারে না। কোনো রোগীকে জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে নিতে হলে বাঁশ দিয়ে পালকি তৈরি করে পার করতে হয়, যা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। তারা ব্রিজটি দ্রুত সংস্কার অথবা পুনরায় নির্মাণের জন্য ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী শান্ত, আব্দুল্লাহ ও ইব্রাহিম জানায়, জরাজীর্ণ এই ব্রিজটি পার হতে তাদের প্রচণ্ড ভয় লাগে। তাদের মনে হয়, যেকোনো সময় ব্রিজটি ভেঙে খালে পড়ে যেতে পারে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রতিনিয়ত চরম আতঙ্কের মধ্যেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে। সামান্য অসতর্ক হলেই খালে পড়ে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেন, উপজেলাজুড়ে যতগুলো ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ ব্রিজ রয়েছে, সেগুলোর তালিকা প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, সরকারের পক্ষ থেকে বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই এই ব্রিজসহ ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য অবকাঠামো সংস্কার কিংবা নতুন নির্মাণের জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।