ঢাকা ০৩:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিতে অস্বস্তির কেন্দ্রে আনোয়ার হোসেন খোকন

  • আপডেট সময় : ০৪:০৯:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 25
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকনকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র শাখা বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও অস্বস্তি দানা বেঁধেছে। দলীয় সূত্র ও স্থানীয় একাধিক সিনিয়র নেতার অভিযোগ, দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে খোকন যে ধরনের ভূমিকা পালন করছেন, তাতে দলের তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের অনেকের সঙ্গেই তার দূরত্ব বাড়ছে। বিশেষ করে ওয়ান-ইলেভেনের কঠিন সময়ে যখন তৎকালীন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি রাজপথে সক্রিয় আন্দোলন গড়ে তুলেছিল, সেই সময়কার ত্যাগী নেতাদের অনেককেই এখন দলীয় সিদ্ধান্তে যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। তার তত্ত্বাবধানে নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপি, নিউইয়র্ক মহানগর উত্তর ও দক্ষিণসহ আরও কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে কমিটি গঠিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় নেতা-কর্মীদের একটি অংশের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, বহু বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা সত্ত্বেও প্রবাসী নেতাদের রাজনৈতিক অবদান যথাযথ স্বীকৃতি পাচ্ছে না। তাদের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী নেতাদের মধ্য থেকে কাউকে মনোনয়ন বা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখা যায়নি, যেখানে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী একাধিক নেতা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান পেয়েছেন। তাদের কেউ তাকে মানেন, আবার অনেকেই মানেন না। তাদের ধারণা, তার প্রতিবেদনের কারণেই যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের বিষয়টি বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে।

অভিযোগের তীর মূলত আনোয়ার হোসেন খোকনের কঠোর ও রূঢ় আচরণের দিকে। একাধিক নেতা জানান, মতের অমিল হলেই তিনি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ধমকের সুরে কথা বলেন, যা প্রবীণ নেতাদের জন্য বিব্রতকর। দলের অনেক সিনিয়র নেতা রয়েছেন, যারা খোকনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। অথচ তাদের উপেক্ষা করার প্রবণতা তার মধ্যে প্রবল বলে দাবি করা হচ্ছে। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশন উপলক্ষে নিউইয়র্কে বিএনপির কর্মসূচিগুলোতেও তার এই আচরণের কারণে বেশ কয়েকবার অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

সংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে খোকন দলীয় হাইকমান্ডের কাছে মাঠের সঠিক চিত্র তুলে ধরছেন না বলেও অনেকের অভিযোগ। গত ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার নিউইয়র্কে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মঞ্চে বসার বিষয় নিয়ে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে তার উচ্চবাচ্যের ঘটনা ঘটে। এরপর ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার বিকেলে জেএফকে বিমানবন্দরে দলের শীর্ষ নেতা তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে স্বাগত কর্মসূচি পালনের সময়ও বেশ কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান খোকন। এমন পরিস্থিতিতে দলের অনেক নেতা-কর্মীই ক্ষুব্ধ হয়ে আছেন।

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির প্রবীণ নেতাদের অনেকে স্পষ্ট করে বলেছেন, কমিটি পুনর্গঠন না হলে এবং দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সঠিক বার্তা না পৌঁছালে খোকনের একক কর্তৃত্ব মেনে নিতে তারা প্রস্তুত নন। দলীয় প্রধান তারেক রহমানের বর্তমান সফরকালে যদি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাংগঠনিক কমিটি নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না আসে, তবে খোকনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য সাংগঠনিক বিদ্রোহ আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এসব গুরুতর অভিযোগ ও সাংগঠনিক জটিলতা নিয়ে আনোয়ার হোসেন খোকনের বক্তব্য জানতে ফোন ও খুদে বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময় পর্যন্ত তিনি কোনো সাড়া দেননি। খোকনের এই নীরবতা দলের ভেতরকার চাপা ক্ষোভকে আরও উসকে দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। টেক্সট মেসেজ করে কথা বলার অনুরোধ জানানো হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিতে অস্বস্তির কেন্দ্রে আনোয়ার হোসেন খোকন

আপডেট সময় : ০৪:০৯:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকনকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র শাখা বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও অস্বস্তি দানা বেঁধেছে। দলীয় সূত্র ও স্থানীয় একাধিক সিনিয়র নেতার অভিযোগ, দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে খোকন যে ধরনের ভূমিকা পালন করছেন, তাতে দলের তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের অনেকের সঙ্গেই তার দূরত্ব বাড়ছে। বিশেষ করে ওয়ান-ইলেভেনের কঠিন সময়ে যখন তৎকালীন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি রাজপথে সক্রিয় আন্দোলন গড়ে তুলেছিল, সেই সময়কার ত্যাগী নেতাদের অনেককেই এখন দলীয় সিদ্ধান্তে যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। তার তত্ত্বাবধানে নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপি, নিউইয়র্ক মহানগর উত্তর ও দক্ষিণসহ আরও কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে কমিটি গঠিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় নেতা-কর্মীদের একটি অংশের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, বহু বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা সত্ত্বেও প্রবাসী নেতাদের রাজনৈতিক অবদান যথাযথ স্বীকৃতি পাচ্ছে না। তাদের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী নেতাদের মধ্য থেকে কাউকে মনোনয়ন বা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখা যায়নি, যেখানে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী একাধিক নেতা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান পেয়েছেন। তাদের কেউ তাকে মানেন, আবার অনেকেই মানেন না। তাদের ধারণা, তার প্রতিবেদনের কারণেই যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের বিষয়টি বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে।

অভিযোগের তীর মূলত আনোয়ার হোসেন খোকনের কঠোর ও রূঢ় আচরণের দিকে। একাধিক নেতা জানান, মতের অমিল হলেই তিনি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ধমকের সুরে কথা বলেন, যা প্রবীণ নেতাদের জন্য বিব্রতকর। দলের অনেক সিনিয়র নেতা রয়েছেন, যারা খোকনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। অথচ তাদের উপেক্ষা করার প্রবণতা তার মধ্যে প্রবল বলে দাবি করা হচ্ছে। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশন উপলক্ষে নিউইয়র্কে বিএনপির কর্মসূচিগুলোতেও তার এই আচরণের কারণে বেশ কয়েকবার অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

সংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে খোকন দলীয় হাইকমান্ডের কাছে মাঠের সঠিক চিত্র তুলে ধরছেন না বলেও অনেকের অভিযোগ। গত ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার নিউইয়র্কে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মঞ্চে বসার বিষয় নিয়ে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে তার উচ্চবাচ্যের ঘটনা ঘটে। এরপর ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার বিকেলে জেএফকে বিমানবন্দরে দলের শীর্ষ নেতা তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে স্বাগত কর্মসূচি পালনের সময়ও বেশ কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান খোকন। এমন পরিস্থিতিতে দলের অনেক নেতা-কর্মীই ক্ষুব্ধ হয়ে আছেন।

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির প্রবীণ নেতাদের অনেকে স্পষ্ট করে বলেছেন, কমিটি পুনর্গঠন না হলে এবং দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সঠিক বার্তা না পৌঁছালে খোকনের একক কর্তৃত্ব মেনে নিতে তারা প্রস্তুত নন। দলীয় প্রধান তারেক রহমানের বর্তমান সফরকালে যদি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাংগঠনিক কমিটি নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না আসে, তবে খোকনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য সাংগঠনিক বিদ্রোহ আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এসব গুরুতর অভিযোগ ও সাংগঠনিক জটিলতা নিয়ে আনোয়ার হোসেন খোকনের বক্তব্য জানতে ফোন ও খুদে বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময় পর্যন্ত তিনি কোনো সাড়া দেননি। খোকনের এই নীরবতা দলের ভেতরকার চাপা ক্ষোভকে আরও উসকে দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। টেক্সট মেসেজ করে কথা বলার অনুরোধ জানানো হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।