রমজানের আগেই রাজধানীর বাজারে ছোলার দাম বাড়ল কেজিতে ১৫ টাকা
- আপডেট সময় : ০১:৪৫:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
- / 0
রমজান মাস শুরু হতে এখনো কয়েক মাস বাকি। তবে এরই মধ্যে রাজধানীর বাজারে ছোলার দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি ছোলার দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে প্রতি কেজি ছোলা ১১০ থেকে ১১৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ১০০ টাকার নিচেই ছিল। একই সাথে ছোলার ডালের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি। এর মধ্যেই ছোলার দাম বাড়া পুরোপুরি সিন্ডিকেটের কারসাজি।
মালিবাগ এলাকার ভাই ভাই স্টোরের মালিক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, পাইকারি আড়তদাররা আগেভাগেই ছোলার দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। গত সপ্তাহে তিনি যে ছোলা ৯২ থেকে ৯৫ টাকা কেজি দরে কিনেছিলেন, এখন তা ১০২ থেকে ১০৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে। পাইকারি বাজারের এই বাড়তি দামের সরাসরি প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে। বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী জামিল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রমজান আসার আগেই পরিকল্পিতভাবে ছোলার দাম বাড়ানো হয়েছে। প্রতি বছর রমজানকে কেন্দ্র করে এই অসাধু চক্র সাধারণ মানুষের পকেট কাটার সুযোগ খোঁজে।
নিত্যপণ্যের বাজারের অন্যান্য চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট এখনো কাটেনি। প্রতি কেজি সয়াবিন তেল বর্তমানে ২০৫ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও বাজারে চিনি ১১০ থেকে ১১৫ টাকা এবং মানভেদে মসুর ডাল ৯০ থেকে ১৫৫ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। আদা ও রসুনের দামও এখনো চড়া; প্রতি কেজি রসুন ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা এবং আদা ১৪০ থেকে ১৯০ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। তবে পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে, যা এখন ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
প্রাণিজ আমিষের বাজারে মিশ্র পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
ডিমের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে ১০ টাকা কমে প্রতি ডজন ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় নেমেছে। অন্যদিকে মুরগির বাজারে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন নেই। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৫০ থেকে ৫৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারও বেশ চড়া; পাঙাশ ২২০ থেকে ২৬০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২২০ টাকা, রুই ও কাতলা ৩৬০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং চিংড়ি আকারভেদে ৮০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। সবজি বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় দাম কিছুটা সহনীয় হয়েছে, তবে গাজর, শসা ও বেগুনের দাম এখনো ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় অধিকাংশ সবজির দামও ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে নেমেছে। তবে গ্রীষ্মকালীন সবজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে। বেগুন, শসা ও গাজরের দাম এখনো তুলনামূলক বেশি।
























