ঢাকা ০৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইউরোপে ভুয়া বোমা হামলার হুমকিতে ব্যাহত ৩০ ফ্লাইট জামালগঞ্জে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২ রাজধানীর ক্লিনিকে ইনকিউবেটরের আগুনে নবজাতকের শরীর ঝলসে যাওয়ার অভিযোগ দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার যেকোনো মূল্যে রক্ষা করব: প্রধানমন্ত্রী রান্নার অ্যালুমিনিয়াম পাত্রে সিসার ঝুঁকি: মিলছে না সমাধান সেবায় রূপান্তরই মূল লক্ষ্য, জানালেন তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় ফ্লাই দুবাইয়ের দুই রুটে ফ্লাইট স্থগিত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপনের সঙ্গে বায়োফার্মার এমডির সৌজন্য সাক্ষাৎ ওয়েলিংটনে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের জয় ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রাজশাহী-১ আসনে বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা

  • আপডেট সময় : ০২:১৪:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 90
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহী-১ সংসদীয় আসনে বিএনপি ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

গোদাগাড়ী ও তানোর উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটিতে দুই দলের প্রার্থীর মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তা ও ভোটারদের সাড়া নির্বাচনকে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

রাজশাহী জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে রাজশাহী-১ আসনটি আয়তন ও রাজনৈতিক গুরুত্বের দিক থেকে অন্যতম। অতীতে এই আসন থেকে বিএনপি, বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং জামায়াতে ইসলামী- এই তিন দলের প্রার্থীরা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। একাধিকবার এখান থেকে নির্বাচিত এমপিরা, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন।

পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এই আসনে বিএনপি ও জামায়াত- কোনো দলেরই সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব ছিল না। ফলে এবারের নির্বাচনে আসনটি পুনরুদ্ধারে দুই দলই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

এ আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য পদে মোট চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. শরিফ উদ্দিন, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মীর মো. শাহজাহান এবং এবি পার্টির প্রার্থী আব্দুর রহমান।

তবে স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতের দুই প্রার্থীর মধ্যেই।

নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ও জামায়াত- উভয় দলের প্রার্থী এবং তাদের সমর্থকরা সমান তালে প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। নিয়মিত গণসংযোগ, মতবিনিময় সভা ও দলীয় বৈঠকের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. শরিফ উদ্দিন গোদাগাড়ী ও তানোর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

দলীয় সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি স্থানীয় উন্নয়ন ও জনসম্পৃক্ত বিষয়গুলোকে সামনে রেখে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

অন্যদিকে, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমানও মাঠপর্যায়ে সক্রিয় রয়েছেন। সংগঠনভিত্তিক প্রচারণা ও ভোটার যোগাযোগ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে তার নির্বাচনী তৎপরতা।

এলাকাজুড়ে ব্যানার, ফেস্টুন ও লিফলেটের উপস্থিতি চোখে পড়ছে। নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা জানান, রাজশাহী-১ আসনটি ঐতিহ্যগতভাবেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। এবার বিএনপি ও জামায়াতের আলাদা প্রার্থী থাকায় ভোটের হিসাব আরও জটিল হতে পারে।

বিএনপি প্রার্থী মো. শরিফ উদ্দিন সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হকের ভাই। ব্যারিস্টার আমিনুল হকের দীর্ঘদিনের জনপ্রিয়তার কারণে বিএনপির ভোট ব্যাংকের বড় অংশ নিজের পক্ষে টানতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী।

অন্যদিকে, জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান দলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমির এবং সাবেক একবারের সংসদ সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে তিনি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন বলে দলীয় নেতাকর্মীরা দাবি করছেন।

দীর্ঘ সময় ধরে এই আসন বিএনপির দখলে থাকলেও এবার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা। পাশাপাশি তরুণ ভোটারদের সমর্থন পেতে উভয় দলই বিভিন্ন কৌশল গ্রহণ করেছে।

সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মী ও ভোটারদের মতে, আওয়ামী লীগের ভোট যে প্রার্থীর দিকে বেশি যাবে, সেই প্রার্থীই বিজয়ের কাছাকাছি থাকবেন।

এই দুই প্রার্থী ছাড়াও অপর দুই প্রার্থী প্রচার চালালেও ভোটারদের মধ্যে তাদের নিয়ে তেমন আলোচনা বা উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়নি। কে হবেন তানোর-গোদাগাড়ীবাসীর আগামী দিনের অভিভাবক, তা নিয়েই চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

নির্বাচন কমিশন সূত্রমতে, রাজশাহী-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৪ হাজার ৭৮ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৯৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন তিনজন। মোট ১৫৯টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

রাজশাহীর পুলিশ সুপার নাঈমুল হাছান বাসস’কে বলেন, সুষ্ঠুভাবে প্রচার-প্রচারণা ও ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নিয়মিত নজরদারি রাখা হচ্ছে। আশা করছি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হবে।

বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

রাজশাহী-১ আসনে বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা

আপডেট সময় : ০২:১৪:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহী-১ সংসদীয় আসনে বিএনপি ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

গোদাগাড়ী ও তানোর উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটিতে দুই দলের প্রার্থীর মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তা ও ভোটারদের সাড়া নির্বাচনকে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

রাজশাহী জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে রাজশাহী-১ আসনটি আয়তন ও রাজনৈতিক গুরুত্বের দিক থেকে অন্যতম। অতীতে এই আসন থেকে বিএনপি, বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং জামায়াতে ইসলামী- এই তিন দলের প্রার্থীরা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। একাধিকবার এখান থেকে নির্বাচিত এমপিরা, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন।

পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এই আসনে বিএনপি ও জামায়াত- কোনো দলেরই সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব ছিল না। ফলে এবারের নির্বাচনে আসনটি পুনরুদ্ধারে দুই দলই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

এ আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য পদে মোট চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. শরিফ উদ্দিন, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মীর মো. শাহজাহান এবং এবি পার্টির প্রার্থী আব্দুর রহমান।

তবে স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতের দুই প্রার্থীর মধ্যেই।

নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ও জামায়াত- উভয় দলের প্রার্থী এবং তাদের সমর্থকরা সমান তালে প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। নিয়মিত গণসংযোগ, মতবিনিময় সভা ও দলীয় বৈঠকের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. শরিফ উদ্দিন গোদাগাড়ী ও তানোর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

দলীয় সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি স্থানীয় উন্নয়ন ও জনসম্পৃক্ত বিষয়গুলোকে সামনে রেখে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

অন্যদিকে, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমানও মাঠপর্যায়ে সক্রিয় রয়েছেন। সংগঠনভিত্তিক প্রচারণা ও ভোটার যোগাযোগ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে তার নির্বাচনী তৎপরতা।

এলাকাজুড়ে ব্যানার, ফেস্টুন ও লিফলেটের উপস্থিতি চোখে পড়ছে। নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা জানান, রাজশাহী-১ আসনটি ঐতিহ্যগতভাবেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। এবার বিএনপি ও জামায়াতের আলাদা প্রার্থী থাকায় ভোটের হিসাব আরও জটিল হতে পারে।

বিএনপি প্রার্থী মো. শরিফ উদ্দিন সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হকের ভাই। ব্যারিস্টার আমিনুল হকের দীর্ঘদিনের জনপ্রিয়তার কারণে বিএনপির ভোট ব্যাংকের বড় অংশ নিজের পক্ষে টানতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী।

অন্যদিকে, জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান দলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমির এবং সাবেক একবারের সংসদ সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে তিনি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন বলে দলীয় নেতাকর্মীরা দাবি করছেন।

দীর্ঘ সময় ধরে এই আসন বিএনপির দখলে থাকলেও এবার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা। পাশাপাশি তরুণ ভোটারদের সমর্থন পেতে উভয় দলই বিভিন্ন কৌশল গ্রহণ করেছে।

সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মী ও ভোটারদের মতে, আওয়ামী লীগের ভোট যে প্রার্থীর দিকে বেশি যাবে, সেই প্রার্থীই বিজয়ের কাছাকাছি থাকবেন।

এই দুই প্রার্থী ছাড়াও অপর দুই প্রার্থী প্রচার চালালেও ভোটারদের মধ্যে তাদের নিয়ে তেমন আলোচনা বা উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়নি। কে হবেন তানোর-গোদাগাড়ীবাসীর আগামী দিনের অভিভাবক, তা নিয়েই চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

নির্বাচন কমিশন সূত্রমতে, রাজশাহী-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৪ হাজার ৭৮ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৯৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন তিনজন। মোট ১৫৯টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

রাজশাহীর পুলিশ সুপার নাঈমুল হাছান বাসস’কে বলেন, সুষ্ঠুভাবে প্রচার-প্রচারণা ও ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নিয়মিত নজরদারি রাখা হচ্ছে। আশা করছি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হবে।

বিডিসংবাদ/এএইচএস