ঢাকা ১২:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইসরাইল থেকে ‘অ্যাকিলিস শিল্ড’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনছে গ্রিস শ্রীলঙ্কায় তীব্র খরা ও ভয়াবহ বন্যার শঙ্কা ভারতের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ অব্যাহত ইউক্রেন ও রাশিয়ায় হামলায় নিহত ৭ মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬-এর খসড়া অনুমোদন দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ম্যানিলায় আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামে খলিলুর-জয়শঙ্কর শুভেচ্ছা বিনিময় সাংবাদিকতা পেশা নির্ধারণে যথাযথ কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি : তথ্যমন্ত্রী মেডিকেল শিক্ষার্থীদের দেশসেবায় আত্মনিয়োগের আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করা তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার থামানোর দাবি ইরানের

শ্রীলঙ্কায় তীব্র খরা ও ভয়াবহ বন্যার শঙ্কা

  • আপডেট সময় : ১১:৫৩:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

জলবায়ু পরিস্থিতি এল নিনোর প্রভাবে শ্রীলঙ্কায় তীব্র খরা এবং পরবর্তীতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিতে পারে বলে বৃহস্পতিবার সতর্ক করেছেন দেশটির পরিবেশমন্ত্রী ড. ধাম্মিকা পাতাবেন্দি।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে বৈরী আবহাওয়ার ঘটনা আরো ঘন ঘন ঘটছে এবং প্রকট হয়ে উঠছে।

কলম্বো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেওয়া এল নিনো এ বছর ফিরে আসায় বাতাসের প্রবাহ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত তীব্র শুষ্ক আবহাওয়া থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ কারণে কর্তৃপক্ষ সেচ ও পানীয় জলের মজুত সতর্কতার সঙ্গে ব্যবস্থাপনা করছে।

তিনি বলেন, আগামী দুই মাসে পানির সংকট দেখা দিতে পারে। তাই সবাইকে পানীয় জল সাশ্রয় করে ব্যবহার করতে হবে।

পাতাবেন্দি বলেন, অক্টোবরে শুরু হওয়া উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ‘ব্যাপক বন্যা’ হতে পারে। এ কারণে কৃষকদের নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই সপ্তাহ আগে, অর্থাৎ অক্টোবরের শুরুতেই প্রধান ধান চাষ মৌসুম শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের স্বাভাবিক সময়ের আগেই চাষাবাদ শুরু করতে হবে। বিশেষ করে ধানসহ ফসল রক্ষায় বন্যা ব্যবস্থাপনা আরো ভালোভাবে নিশ্চিত করতে হবে।’

এল নিনোর প্রভাবে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে কী পরিমাণ ক্ষতি হতে পারে, সরকার এখনো তার হিসাব করেনি। তবে এর প্রভাব কমাতে একটি মন্ত্রীপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, দেশের জলবিদ্যুৎ জলাধারগুলো বর্তমানে ৫৭ শতাংশ ধারণক্ষমতায় রয়েছে। দিনের বেলায় বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করা হবে। এতে জলাধারের পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

তারা আরো জানান, ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে পার্বত্য এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। গত নভেম্বরে ঘূর্ণিঝড় দিতওয়া’র আঘাতে এসব এলাকা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

দিতওয়ার তাণ্ডবে ২ কোটি ২০ লাখ মানুষের প্রায় পুরো দ্বীপ দেশটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে প্রায় ৬৫০ জনের প্রাণহানি ঘটে। শুধু অবকাঠামোর ক্ষতির পরিমাণই বিশ্বব্যাংকের হিসাবে প্রায় ৪১০ কোটি মার্কিন ডলার।
বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

শ্রীলঙ্কায় তীব্র খরা ও ভয়াবহ বন্যার শঙ্কা

আপডেট সময় : ১১:৫৩:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

জলবায়ু পরিস্থিতি এল নিনোর প্রভাবে শ্রীলঙ্কায় তীব্র খরা এবং পরবর্তীতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিতে পারে বলে বৃহস্পতিবার সতর্ক করেছেন দেশটির পরিবেশমন্ত্রী ড. ধাম্মিকা পাতাবেন্দি।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে বৈরী আবহাওয়ার ঘটনা আরো ঘন ঘন ঘটছে এবং প্রকট হয়ে উঠছে।

কলম্বো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেওয়া এল নিনো এ বছর ফিরে আসায় বাতাসের প্রবাহ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত তীব্র শুষ্ক আবহাওয়া থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ কারণে কর্তৃপক্ষ সেচ ও পানীয় জলের মজুত সতর্কতার সঙ্গে ব্যবস্থাপনা করছে।

তিনি বলেন, আগামী দুই মাসে পানির সংকট দেখা দিতে পারে। তাই সবাইকে পানীয় জল সাশ্রয় করে ব্যবহার করতে হবে।

পাতাবেন্দি বলেন, অক্টোবরে শুরু হওয়া উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ‘ব্যাপক বন্যা’ হতে পারে। এ কারণে কৃষকদের নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই সপ্তাহ আগে, অর্থাৎ অক্টোবরের শুরুতেই প্রধান ধান চাষ মৌসুম শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের স্বাভাবিক সময়ের আগেই চাষাবাদ শুরু করতে হবে। বিশেষ করে ধানসহ ফসল রক্ষায় বন্যা ব্যবস্থাপনা আরো ভালোভাবে নিশ্চিত করতে হবে।’

এল নিনোর প্রভাবে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে কী পরিমাণ ক্ষতি হতে পারে, সরকার এখনো তার হিসাব করেনি। তবে এর প্রভাব কমাতে একটি মন্ত্রীপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, দেশের জলবিদ্যুৎ জলাধারগুলো বর্তমানে ৫৭ শতাংশ ধারণক্ষমতায় রয়েছে। দিনের বেলায় বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করা হবে। এতে জলাধারের পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

তারা আরো জানান, ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে পার্বত্য এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। গত নভেম্বরে ঘূর্ণিঝড় দিতওয়া’র আঘাতে এসব এলাকা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

দিতওয়ার তাণ্ডবে ২ কোটি ২০ লাখ মানুষের প্রায় পুরো দ্বীপ দেশটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে প্রায় ৬৫০ জনের প্রাণহানি ঘটে। শুধু অবকাঠামোর ক্ষতির পরিমাণই বিশ্বব্যাংকের হিসাবে প্রায় ৪১০ কোটি মার্কিন ডলার।
বিডিসংবাদ/এএইচএস