স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নতুন কৌশলে জামায়াত ও এনসিপি
- আপডেট সময় : ০৩:০১:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
- / 0
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে নতুন রাজনৈতিক কৌশলে হাঁটছে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। যদিও দল দুটি ১১ দলীয় জোটের অংশ, তবুও সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তারা জোটবদ্ধভাবে না লড়ে এককভাবে প্রার্থী দিয়ে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোটের ভেতরে দূরত্ব কিংবা ভাঙনের গুঞ্জন তৈরি হলেও দল দুটির নেতারা একে নেতিবাচকভাবে দেখতে নারাজ। তাদের দাবি, এটি কোনো ভাঙন নয়, বরং নিজ দলের সাংগঠনিক শক্তি ও স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় সুদৃঢ় করার একটি কৌশল মাত্র। এমন অবস্থায় বেশ কয়েক মাস ধরেই রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ঐক্যের ভেতরে আসলে কি ফাটল ধরেছে বা দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের মধ্যে যা কিছু দৃশ্যমান হচ্ছে তা মূলত রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কৌশল মাত্র। ঠিক তেমনি জামায়াতও তাদের নিজস্ব কৌশল ও আদর্শ নিয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করবে। ফলে এনসিপি দিন দিন শক্তিশালী হয়ে উঠছে। সেটিকে জোটের দূরত্ব কিংবা ভাঙন হিসাবে দেখানোটা সংবাদমাধ্যমের অতিরঞ্জন। অনেকে হয়তো ভাবছেন জোটগত নির্বাচন হলে ভালো, কেউ আবার তা ভাবছেন না।
নির্বাচনের তারিখ এখনো ঘোষিত না হলেও জামায়াতে ইসলামী ইতিমধ্যেই নিজেদের সম্ভাব্য একক প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করে মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতির নির্দেশনা দিয়েছে। একইভাবে এনসিপিও স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে নির্বাচনি কার্যক্রম পুরোদমে শুরু করেছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াত ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিনকে প্রার্থী করছে। অন্যদিকে এনসিপি ঢাকা উত্তরে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে মনোনয়ন দিয়েছে। উল্লেখ্য, সেপ্টেম্বরে আসিফ মাহমুদ উত্তর এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দক্ষিণের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম।
জোটের শরিক হয়েও পৃথক নির্বাচনে লড়ার এই সিদ্ধান্ত ঘিরে তৈরি হওয়া গুঞ্জনকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধারণ করে ফ্যাসিবাদের বিলোপ, গণহত্যার বিচার এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রশ্নে তাদের ঐক্য অটুট রয়েছে। বরং দলীয় স্বার্থে এবং জনগণের কাছাকাছি পৌঁছাতে নিজস্ব রণকৌশল অবলম্বন করছে এনসিপি। তার মতে, চক্রান্তকারীরাই জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে দূরত্বের নকশা আঁকছে। ‘জুলাই সনদ যারা বাস্তবায়ন করতে চায় না, গণভোটের রায় যারা উপেক্ষা করছে, তারাই জামায়াত-এনসিপির মধ্যে ফাটল, দূরত্ব দেখছে।
সম্প্রতি জোটের লংমার্চে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের অনুপস্থিতি নিয়ে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, অসুস্থতা বা ব্যক্তিগত কারণে যেকোনো নেতা কর্মসূচিতে থাকতে না পারেন, এটি স্বাভাবিক। তিনি বলেন, এনসিপির সঙ্গে জামায়াতের বিন্দুমাত্র দূরত্ব নেই; বরং সংসদে ও রাজপথে তারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন। আলোচনার পথ সবসময় খোলা রয়েছে এবং প্রয়োজনে আলোচনার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ প্রার্থীও দেওয়া সম্ভব। বিশেষ করে নাহিদ ইসলাম লংমার্চে যুক্ত হননি, এটা নিয়ে কিছু মিডিয়া এবং সরকারদলীয় লোকজন ও জুলাই বিরোধীরা ইস্যু খুঁজে বেড়াচ্ছে। তাছাড়া আলোচনার দরজা তো সব সময় উন্মুক্ত।
দলের ভেতরে ভিন্নমতের বিষয়ে এনসিপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মনিরা শারমিন দক্ষিণ কোরিয়া থেকে জানান, দলের মধ্যে বিভিন্ন মত থাকাটা স্বাভাবিক এবং তা ইতিবাচক। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এনসিপি একাই নির্বাচনে লড়বে। এছাড়া রাজনৈতিক পর্যালোচকরা বলছেন, এনসিপি সম্প্রতি তাদের কমিটি পুনর্গঠন ও নিষ্ক্রিয় নেতাদের সক্রিয় করার মাধ্যমে নিজেদের ভিত্তি মজবুত করছে। এককভাবে নির্বাচন কিংবা বড় ধরনের সভা-সমাবেশ আয়োজন তাদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে, যাকে জোটের ফাটল হিসেবে দেখা অতিরঞ্জিত হতে পারে। শীর্ষ নেতাদের পদ-পদবি পরিবর্তন করেছে। যেসব প্রথম সারির নেতারা নিষ্ক্রিয় ছিলেন, দল থেকে দূরে ছিলেন-তাদেরও দলে সংযুক্ত, সক্রিয় করা হচ্ছে।
তবে জোটের অন্যান্য শরিক দলগুলোর অন্দরে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, জোটের প্রধানরা বড় কর্মসূচিতে অনুপস্থিত থাকলে আস্থার সংকট তৈরি হয়। ঢাকা সিটি নির্বাচনে জোটগতভাবে প্রার্থী দিলে জয়ের সম্ভাবনা বেশি ছিল বলেও অনেকের ধারণা। তবুও বর্তমান পরিস্থিতিতে সব ধরনের মতামতকে সম্মান জানিয়েই জামায়াত-এনসিপি তাদের নিজস্ব নির্বাচনি রণকৌশল বাস্তবায়নে অটল রয়েছে। আসন সমঝোতা বা ভোটের অঙ্কে দলগুলোর নিজস্ব রণনীতি থাকতেই পারে।























