ঢাকা ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জাপানে ভারী বৃষ্টিতে ৫ জনের মৃত্যু পরমাণু অস্ত্র ঠেকানো নয়, তেলের দাম কম রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য : জেডি ভ্যান্স ১০ কোটি ভিউ পার করলো ইমরান-পড়শীর ‘জনম জনম’ যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার আগে নতুন প্রতিরোধ হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার নিউজিল্যান্ডের গোয়েন্দা সংস্থার গোয়েন্দাগিরির অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ : চীন ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নয়, যুদ্ধে তেলের দাম কমানোই এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেঞ্চুরি তানজিদের বেগম খালেদা জিয়া : গৃহবধূ থেকে আপসহীন নেত্রী মুরাদনগরে দুই দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে এফটিএ নিয়ে আলোচনা

হরমুজ প্রণালী নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠক ডাকছে যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স

  • আপডেট সময় : ০৪:৩৬:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
  • / 20
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে মঙ্গলবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক আয়োজন করবে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। ব্রিটিশ সরকার এ তথ্য জানিয়েছে।

ইরানের পক্ষ থেকে লন্ডন ও প্যারিসকে ওই অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ না পাঠানোর সতর্কবার্তা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর এ ঘোষণা আসে।

লন্ডন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

রোববার ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বহুজাতিক এ মিশনের প্রথম প্রতিরক্ষামন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে ৪০টির বেশি দেশের অংশগ্রহণ থাকবে। বৈঠকে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করবেন যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি ও ফরাসি প্রতিরক্ষামন্ত্রী মন্ত্রী ক্যাথরিন ভোট্রিন।

গত এপ্রিলে লন্ডনে দুই দিনব্যাপী সামরিক পরিকল্পনাবিদদের বৈঠকের পর এ ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ওই বৈঠকে টেকসই যুদ্ধবিরতির পর, গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের নেতৃত্বে বহুজাতিক মিশনের বাস্তব পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

জন হিলি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের আস্থা ফিরিয়ে আনতে আমরা কূটনৈতিক সমঝোতাকে বাস্তব সামরিক পরিকল্পনায় রূপ দিচ্ছি।’

এদিকে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে।

ফ্রান্স অঞ্চলটিতে তাদের পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী শার্ল দ্য গল মোতায়েন করেছে।

যুক্তরাজ্য শনিবার জানায়, তারা ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ এইচএমএস ড্রাগন পাঠাচ্ছে।

দুই দেশই বলেছে, আন্তর্জাতিক কোনো মিশনের মাধ্যমে জাহাজ চলাচল সুরক্ষায় সহায়তার প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এ মোতায়েন করা হয়েছে।

-ইরানের হুঁশিয়ারি-
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এএফপিকে বলেন, এইচএমএস ড্রাগন মোতায়েন ‘সতর্ক পরিকল্পনার’ অংশ। পরিস্থিতি অনুকূলে এলে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে যুক্তরাজ্যকে প্রস্তুত রাখতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবে রোববারই ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি সতর্ক করে বলেন, প্রণালীতে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের যুদ্ধজাহাজ অথবা অন্য যে কোনো দেশের জাহাজ তাৎক্ষণিক ও কঠোর জবাবের মুখে পড়বে।

তিনি বলেন, ‘এ প্রণালীতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে শুধু ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান।’

পরে রোববার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বলেন, ফ্রান্স কখনোই হরমুজ প্রণালীতে নৌবাহিনী মোতায়েনের কথা ভাবেনি। বরং তারা এমন একটি নিরাপত্তা মিশনের পক্ষে, যা ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচালিত হবে।

তিনি নাইরোবিতে সাংবাদিকদের বলেন, কোনো পক্ষের অবরোধের বিরোধিতার অবস্থানে তিনি অনড় রয়েছেন।

পাশাপাশি কৌশলগত এ নৌপথে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে ‘কোনো ধরনের টোল আদায়ও’ প্রত্যাখ্যান করেন তিনি।

গত মাসে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স জানিয়েছিল, প্রণালীটির নিরাপত্তা নিশ্চিতে পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এইচএমএস ড্রাগন মোতায়েনের ফলে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে আস্থা বাড়বে এবং সংঘাত শেষ হলে মাইন অপসারণ কার্যক্রমেও সহায়তা মিলবে।
বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

হরমুজ প্রণালী নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠক ডাকছে যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স

আপডেট সময় : ০৪:৩৬:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে মঙ্গলবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক আয়োজন করবে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। ব্রিটিশ সরকার এ তথ্য জানিয়েছে।

ইরানের পক্ষ থেকে লন্ডন ও প্যারিসকে ওই অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ না পাঠানোর সতর্কবার্তা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর এ ঘোষণা আসে।

লন্ডন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

রোববার ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বহুজাতিক এ মিশনের প্রথম প্রতিরক্ষামন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে ৪০টির বেশি দেশের অংশগ্রহণ থাকবে। বৈঠকে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করবেন যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি ও ফরাসি প্রতিরক্ষামন্ত্রী মন্ত্রী ক্যাথরিন ভোট্রিন।

গত এপ্রিলে লন্ডনে দুই দিনব্যাপী সামরিক পরিকল্পনাবিদদের বৈঠকের পর এ ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ওই বৈঠকে টেকসই যুদ্ধবিরতির পর, গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের নেতৃত্বে বহুজাতিক মিশনের বাস্তব পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

জন হিলি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের আস্থা ফিরিয়ে আনতে আমরা কূটনৈতিক সমঝোতাকে বাস্তব সামরিক পরিকল্পনায় রূপ দিচ্ছি।’

এদিকে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে।

ফ্রান্স অঞ্চলটিতে তাদের পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী শার্ল দ্য গল মোতায়েন করেছে।

যুক্তরাজ্য শনিবার জানায়, তারা ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ এইচএমএস ড্রাগন পাঠাচ্ছে।

দুই দেশই বলেছে, আন্তর্জাতিক কোনো মিশনের মাধ্যমে জাহাজ চলাচল সুরক্ষায় সহায়তার প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এ মোতায়েন করা হয়েছে।

-ইরানের হুঁশিয়ারি-
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এএফপিকে বলেন, এইচএমএস ড্রাগন মোতায়েন ‘সতর্ক পরিকল্পনার’ অংশ। পরিস্থিতি অনুকূলে এলে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে যুক্তরাজ্যকে প্রস্তুত রাখতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবে রোববারই ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি সতর্ক করে বলেন, প্রণালীতে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের যুদ্ধজাহাজ অথবা অন্য যে কোনো দেশের জাহাজ তাৎক্ষণিক ও কঠোর জবাবের মুখে পড়বে।

তিনি বলেন, ‘এ প্রণালীতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে শুধু ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান।’

পরে রোববার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বলেন, ফ্রান্স কখনোই হরমুজ প্রণালীতে নৌবাহিনী মোতায়েনের কথা ভাবেনি। বরং তারা এমন একটি নিরাপত্তা মিশনের পক্ষে, যা ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচালিত হবে।

তিনি নাইরোবিতে সাংবাদিকদের বলেন, কোনো পক্ষের অবরোধের বিরোধিতার অবস্থানে তিনি অনড় রয়েছেন।

পাশাপাশি কৌশলগত এ নৌপথে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে ‘কোনো ধরনের টোল আদায়ও’ প্রত্যাখ্যান করেন তিনি।

গত মাসে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স জানিয়েছিল, প্রণালীটির নিরাপত্তা নিশ্চিতে পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এইচএমএস ড্রাগন মোতায়েনের ফলে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে আস্থা বাড়বে এবং সংঘাত শেষ হলে মাইন অপসারণ কার্যক্রমেও সহায়তা মিলবে।
বিডিসংবাদ/এএইচএস