২০২৮ সালের মার্কিন নির্বাচন
- আপডেট সময় : ০৬:১২:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 23
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের এখনো দুই বছরের বেশি সময় বাকি থাকলেও ওয়াশিংটনের রাজনীতিতে নতুন মৌসুমের হাওয়া বইছে। ঋতু পরিবর্তনের পাশাপাশি ২০২৮ সালের নির্বাচনকে ঘিরে আগাম রাজনৈতিক দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুর টানাপড়েনের মধ্যেও নির্বাচন নিয়ে এই আগাম তৎপরতা দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। যদিও ট্রাম্প নিজেই তার ক্ষমতার মেয়াদ প্রসঙ্গে বলেছেন, তিনি আরও আড়াই বছর হোয়াইট হাউসে থাকছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভাষণে ইরানের নেতাদের উদ্দেশে তিনি এই মন্তব্য করেন।
নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতি হিসেবে সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান প্রার্থীরা বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে অংশ নিচ্ছেন। এসব রাজ্যে তারা নিজেদের নীতিগত অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য পথ প্রশস্ত করছেন। সিএনএনের ভাষ্যমতে, ২০২৮ সালের নির্বাচনী দৌড় এবারের মতো বাস্তবধর্মী আগে কখনো মনে হয়নি। ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং ডেমোক্র্যাটদের ২০২৪ সালের পরাজয়ের ধাক্কা সামলে ওঠার প্রচেষ্টাই মূলত এই আগাম সক্রিয়তার কারণ।
ডেমোক্র্যাট শিবিরে কমলা হ্যারিস মিশিগানে দলীয় প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদের পক্ষে কাজ করছেন, যা দলের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ, জন অসফ, জেবি প্রিটজকার, অ্যান্ডি বশিয়ার এবং জশ শাপিরোর নামও জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে। অন্যদিকে রিপাবলিকান শিবিরে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের প্রতিটি রাজনৈতিক পদক্ষেপ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি টেড ক্রুজ এবং র্যান্ড পলের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছে। লুইজিয়ানার সিনেটর জন কেনেডি জানিয়েছেন, তিনি সিনেটে পুনর্র্নিবাচনের লড়াইয়ে নামবেন।
২০২৮ সালের নির্বাচন মার্কিন রাজনীতির জন্য একটি নতুন যুগের সূচনা হতে পারে। দুই প্রধান দলই নতুন নেতৃত্বের সন্ধানে রয়েছে। রিপাবলিকানদের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো ‘মাগা’ রাজনীতির ধারায় চলা, নাকি পুরোনো রক্ষণশীল শিকড়ে ফিরে যাওয়া। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের প্রয়োজন এমন একজন নেতা, যিনি প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থী—উভয় অংশকে একসূত্রে বাঁধতে পারবেন। কেবল ট্রাম্পবিরোধী অবস্থান নয়, বরং নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় ও নেতৃত্বের ধরণ নিয়েও ডেমোক্র্যাটদের নতুন করে ভাবতে হবে, কারণ জো বাইডেন শাসনামলে দলটির প্রতি ভোটারদের আস্থার সংকট এখনো পুরোপুরি কাটেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নানা পরীক্ষার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রয়েছে। এমতাবস্থায় ২০২৮ সালের নির্বাচনের প্রাথমিক প্রস্তুতি রাজনীতিতে নতুন করে সক্রিয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রার্থীরা এখন কেবল দলের সমর্থন অর্জনের চেষ্টা করছেন না, বরং জনমত তৈরির কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি হচ্ছেন। ভোটারদের অসন্তুষ্টি দূর করে নতুন নেতৃত্ব খুঁজে বের করাই হবে উভয় দলের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনে মঙ্গলবার গ্রীষ্মের ভ্যাপসা গরম যেন হঠাৎ করেই বিদায় নিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কেউ প্রকাশ্যেই হোয়াইট হাউসে যাওয়ার আকাক্সক্ষা জানাচ্ছেন, কেউ আবার ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে ভবিষ্যতের জন্য দরজা খোলা রাখছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসছে- এমন বাস্তবতা এমনকি ট্রাম্পকেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে বাধ্য করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি ক্ষমতা ছাড়ার বিষয়টি স্বীকার করতে খুব একটা আগ্রহী নন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সিএনএন বলছে, সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের এই সময়ে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠা অবশ্য অস্বাভাবিক নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মধ্যবর্তী নির্বাচন তাদের দলীয় সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর একটি সুযোগ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাশাপাশি ডেমোক্র্যাটরাও অবশেষে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে।

























