ঢাকা ০৯:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাঁ-হাতি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড স্টার্কের এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে পদক লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে পারে ভারত-পাকিস্তান কোকোর নামে বগুড়ায় জাতীয় প্যারা স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কারাবন্দি ও পলাতক আসামিদের জন্য সাধারণ ক্ষমা আইন পাস করল লেবানন মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনের পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত দাবি সিনেটরদের জাপানের দাবিকৃত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর পুতিনের সুদানের রাজধানী খার্তুমে টানা দ্বিতীয় দিন আধাসামরিক বাহিনীর ড্রোন হামলা সকলের মতামত নিয়েই সংবিধান সংশোধন করা হবে: চিফ হুইপ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দু’জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল, ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই: ইসি সচিব রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলকে বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী

এক জাদুকরী ফল : গুয়ারানা

  • আপডেট সময় : ০১:৩৮:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৭
  • / 1424
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ডা : মোহাম্মদ ফ. এ. হাসানঃ  গুয়ারানা হচ্ছে একটি আমাজন জঙ্গলের বিশেষ ফল, যা আমাজন জঙ্গলের আদি জাতি গুয়ারানি সম্প্রদায়ের মাঝে জাদুকরী এবং বিশেষ ফল হিসেবে হাজার বছর ধরে সমাদৃত হয়ে এসেছে। এই ফলটি যখন পেকে ফেটে যায় তখন এটি দেখতে মনে হয় চোখগুলো তাকিয়ে আছে। এ নিয়েও বিভিন্ন কাল্পনিক ধারণা এবং বিশ্বাস তাদের মাঝে বিদ্যমান ছিল।

আমাজন জঙ্গলে বসবাস করতে গুয়ারানি সম্প্রদায়কে অনেক ধরনের শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো , যার মোকাবিলায় গুয়ারানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতো। যেমন : ম্যালেরিয়ায় , জঙ্গলের প্রতিকূলতার সাথে লড়াই করার জন্য প্রয়োজন হতো এক্সট্রা শারীরিক শক্তি , মাংসপেশির ব্যথায়, ডায়রিয়া , মাইগ্রেন , মানসিক শক্তি সহ সৃজনশীলতা বৃদ্ধি ইত্যাদি ক্ষেত্রে গুয়ারানা পানিও এবং বিভিন্ন খাবারের সাথে ব্যবহার করা হতো

সতেরো শতাব্দীতে পশ্চিমা বিশ্ব ধীরে ধীরে গুয়ারানা সম্পর্কে জানতে শুরু করে। ১৯৫৮ দিকে গুয়ারানা বাণিজ্যিক ভাবে ক্রয় বিক্রয় শুরু হয়ে থাকে। ১৯৯০ এর পর থেকে এ নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা শুরু হয় এবং এর উপকারিতা বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত হয়। তারপর থেকে সারা বিশ্বে এর চাহিদা সৃষ্টি হতে থাকে।

গুয়ারানাতে রয়েছে গুয়ারানিন যা যে কোনো ধরণের ক্যাফেইন থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং স্থায়ী। গুয়ারানা হচ্ছে ক্যাফেইনের প্রাকৃতিক উৎস , এছাড়াও এতে রয়েছে কার্ডিয়াক স্টিমুল্যান্ট, থিওফিলিন এবং থিওব্রোমিন। যুক্তরাষ্টের খাদ্য এবং ঔষধ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ( FDA) একে মানব জাতির জন্য নিরাপদ হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে।

গুয়ারানার যে সব উপকারিতা সমূহ প্রমাণিত হয়েছে , তা নিম্ন বর্ণিত:

  • মানসিক সতর্কতা বৃদ্ধি করে।
  • শরীরের ক্লান্তি ভাব দূর করে।
  • তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাব দূর করে।
  • নার্ভাস সিস্টেমে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
  • মাংসপেশির দৃঢ়তা সৃষ্টি করে।
  • যৌন উদ্দীপক।
  • মাথা ব্যথা লাগব করে।
  • বুদ্ধিদীপ্ততা বৃদ্ধি করে।
  • মেদ কমাতে অন্যতম ভূমিকা রাখে।

সকালের নাস্তার পর ,গুয়ারানার চেয়ে অন্যকোনো পানিও উত্তম হতে পারে না , শরীরকে সারা দিনের জন্য চাঙ্গা রাখতে ।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

এক জাদুকরী ফল : গুয়ারানা

আপডেট সময় : ০১:৩৮:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৭

ডা : মোহাম্মদ ফ. এ. হাসানঃ  গুয়ারানা হচ্ছে একটি আমাজন জঙ্গলের বিশেষ ফল, যা আমাজন জঙ্গলের আদি জাতি গুয়ারানি সম্প্রদায়ের মাঝে জাদুকরী এবং বিশেষ ফল হিসেবে হাজার বছর ধরে সমাদৃত হয়ে এসেছে। এই ফলটি যখন পেকে ফেটে যায় তখন এটি দেখতে মনে হয় চোখগুলো তাকিয়ে আছে। এ নিয়েও বিভিন্ন কাল্পনিক ধারণা এবং বিশ্বাস তাদের মাঝে বিদ্যমান ছিল।

আমাজন জঙ্গলে বসবাস করতে গুয়ারানি সম্প্রদায়কে অনেক ধরনের শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো , যার মোকাবিলায় গুয়ারানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতো। যেমন : ম্যালেরিয়ায় , জঙ্গলের প্রতিকূলতার সাথে লড়াই করার জন্য প্রয়োজন হতো এক্সট্রা শারীরিক শক্তি , মাংসপেশির ব্যথায়, ডায়রিয়া , মাইগ্রেন , মানসিক শক্তি সহ সৃজনশীলতা বৃদ্ধি ইত্যাদি ক্ষেত্রে গুয়ারানা পানিও এবং বিভিন্ন খাবারের সাথে ব্যবহার করা হতো

সতেরো শতাব্দীতে পশ্চিমা বিশ্ব ধীরে ধীরে গুয়ারানা সম্পর্কে জানতে শুরু করে। ১৯৫৮ দিকে গুয়ারানা বাণিজ্যিক ভাবে ক্রয় বিক্রয় শুরু হয়ে থাকে। ১৯৯০ এর পর থেকে এ নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা শুরু হয় এবং এর উপকারিতা বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত হয়। তারপর থেকে সারা বিশ্বে এর চাহিদা সৃষ্টি হতে থাকে।

গুয়ারানাতে রয়েছে গুয়ারানিন যা যে কোনো ধরণের ক্যাফেইন থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং স্থায়ী। গুয়ারানা হচ্ছে ক্যাফেইনের প্রাকৃতিক উৎস , এছাড়াও এতে রয়েছে কার্ডিয়াক স্টিমুল্যান্ট, থিওফিলিন এবং থিওব্রোমিন। যুক্তরাষ্টের খাদ্য এবং ঔষধ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ( FDA) একে মানব জাতির জন্য নিরাপদ হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে।

গুয়ারানার যে সব উপকারিতা সমূহ প্রমাণিত হয়েছে , তা নিম্ন বর্ণিত:

  • মানসিক সতর্কতা বৃদ্ধি করে।
  • শরীরের ক্লান্তি ভাব দূর করে।
  • তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাব দূর করে।
  • নার্ভাস সিস্টেমে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
  • মাংসপেশির দৃঢ়তা সৃষ্টি করে।
  • যৌন উদ্দীপক।
  • মাথা ব্যথা লাগব করে।
  • বুদ্ধিদীপ্ততা বৃদ্ধি করে।
  • মেদ কমাতে অন্যতম ভূমিকা রাখে।

সকালের নাস্তার পর ,গুয়ারানার চেয়ে অন্যকোনো পানিও উত্তম হতে পারে না , শরীরকে সারা দিনের জন্য চাঙ্গা রাখতে ।