ঢাকা ১২:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাঁ-হাতি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড স্টার্কের এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে পদক লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে পারে ভারত-পাকিস্তান কোকোর নামে বগুড়ায় জাতীয় প্যারা স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কারাবন্দি ও পলাতক আসামিদের জন্য সাধারণ ক্ষমা আইন পাস করল লেবানন মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনের পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত দাবি সিনেটরদের জাপানের দাবিকৃত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর পুতিনের সুদানের রাজধানী খার্তুমে টানা দ্বিতীয় দিন আধাসামরিক বাহিনীর ড্রোন হামলা সকলের মতামত নিয়েই সংবিধান সংশোধন করা হবে: চিফ হুইপ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দু’জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল, ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই: ইসি সচিব রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলকে বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী

জাপানের দাবিকৃত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর পুতিনের

  • আপডেট সময় : ০৮:৪৮:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / 1
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো দেশটির দূরপ্রাচ্যের কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর করেছেন। এ ঘটনায় দ্বীপপুঞ্জটির দাবিদার জাপান ‘তীব্র’ প্রতিবাদ জানিয়েছে।

বিতর্কিত দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে রাশিয়া ও জাপানের সম্পর্কে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা রয়েছে। জাপানে এসব দ্বীপ ‘উত্তরাঞ্চলীয় ভূখণ্ড’ নামে পরিচিত। ১৯৪৫ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্বীপগুলো দখল করে নেয়।

মস্কো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

ক্রেমলিন কুরিল দ্বীপপুঞ্জে পুতিনের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। রুশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তিনি সেখানে একটি মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা পরিদর্শন করেন। সেখানে তাকে ক্যাভিয়ার পরিবেশন করা হয়।

পুতিন কাছের রুশ দ্বীপ সাখালিন সফরের পর কুরিল দ্বীপপুঞ্জে যান। সাখালিনে রাশিয়ার নৌবাহিনী সামরিক মহড়া চালাচ্ছিল।

রাশিয়ার আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রিয়া নভোস্তি জানিয়েছে, সাখালিনে পুতিন ‘রাশিয়ার পূর্ব সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা’ নিয়ে একটি বৈঠক করেন।

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও অবনতি হয়েছে। একই সময়ে চীন ও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে মস্কোর সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে জাপান পুতিনের সফরের তীব্র প্রতিবাদ জানায়।

জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘উত্তরাঞ্চলীয় ভূখণ্ড ঐতিহাসিকভাবে এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীনেও জাপানের ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই সফরের বিরুদ্ধে জাপান সরকার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।’

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন হোক্কাইডোর উত্তরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আগ্নেয় দ্বীপপুঞ্জটি দখল করে নেয়। এরপর থেকেই সেখানে সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে মস্কো।

২০১০ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ বিতর্কিত ভূখণ্ডটি সফরকারী প্রথম রুশ নেতা। পরে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালেও তিনি সেখানে কয়েকবার সফর করেন।

বিতর্কিত চারটি দ্বীপ আগ্নেয় কুরিল দ্বীপপুঞ্জের অংশ। এই দ্বীপপুঞ্জ রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপ থেকে দক্ষিণে জাপানের প্রধান উত্তরাঞ্চলীয় দ্বীপ হোক্কাইডো পর্যন্ত বিস্তৃত একটি প্রশস্ত বাঁক তৈরি করেছে।

১৯৪৫ সালের ৮ আগস্ট সোভিয়েত ইউনিয়ন জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এর মাত্র তিন দিন আগে হিরোশিমায় পরমাণু বোমা ফেলা হয়েছিল। যুদ্ধ শেষ হওয়ার ছয় দিন আগে সোভিয়েত ইউনিয়ন এ যুদ্ধ ঘোষণা করে।

দুই দেশেই দ্বীপগুলোর নাম প্রায় একই। রুশ ভাষায় এগুলো কুনাশির, হাবোমাই, শিকোতান ও ইতুরুপ। জাপানি ভাষায় এগুলো কুনাশিরি, হাবোমাই, শিকোতান ও এতোর্ফু নামে পরিচিত।

প্রায় ২০ হাজার রুশ নাগরিক কঠোর আবহাওয়ার মধ্যে এসব দ্বীপে বসবাস করেন। তবে দ্বীপগুলোতে সোনা ও রুপাসহ খনিজ সম্পদ রয়েছে। রয়েছে সমৃদ্ধ মৎস্যসম্পদও।

১৯৪৫ সালে দ্বীপগুলো দখলের পর মস্কো সেখানে বসবাসকারী প্রায় ১৭ হাজার জাপানি নাগরিককে বিতাড়িত করে।

এরপর স্নায়ুযুদ্ধের সময় দ্বীপগুলো কৌশলগত গুরুত্ব পায়। যুক্তরাষ্ট্র এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তার ঘনিষ্ঠ মিত্র জাপানের মুখোমুখি অবস্থানে সোভিয়েত ইউনিয়ন সেখানে বিমান ও নৌঘাঁটি স্থাপন করে।

বিভিন্ন সময়ে টোকিও ও মস্কোর মধ্যে চলমান আলোচনা এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল। ১৯৫৬ সালে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার সময় সোভিয়েত নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভ শান্তিচুক্তির আওতায় বিতর্কিত দ্বীপগুলোর দুটি জাপানের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর আলোচনা আবার শুরু হলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি।

বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

জাপানের দাবিকৃত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর পুতিনের

আপডেট সময় : ০৮:৪৮:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো দেশটির দূরপ্রাচ্যের কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর করেছেন। এ ঘটনায় দ্বীপপুঞ্জটির দাবিদার জাপান ‘তীব্র’ প্রতিবাদ জানিয়েছে।

বিতর্কিত দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে রাশিয়া ও জাপানের সম্পর্কে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা রয়েছে। জাপানে এসব দ্বীপ ‘উত্তরাঞ্চলীয় ভূখণ্ড’ নামে পরিচিত। ১৯৪৫ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্বীপগুলো দখল করে নেয়।

মস্কো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

ক্রেমলিন কুরিল দ্বীপপুঞ্জে পুতিনের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। রুশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তিনি সেখানে একটি মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা পরিদর্শন করেন। সেখানে তাকে ক্যাভিয়ার পরিবেশন করা হয়।

পুতিন কাছের রুশ দ্বীপ সাখালিন সফরের পর কুরিল দ্বীপপুঞ্জে যান। সাখালিনে রাশিয়ার নৌবাহিনী সামরিক মহড়া চালাচ্ছিল।

রাশিয়ার আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রিয়া নভোস্তি জানিয়েছে, সাখালিনে পুতিন ‘রাশিয়ার পূর্ব সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা’ নিয়ে একটি বৈঠক করেন।

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও অবনতি হয়েছে। একই সময়ে চীন ও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে মস্কোর সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে জাপান পুতিনের সফরের তীব্র প্রতিবাদ জানায়।

জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘উত্তরাঞ্চলীয় ভূখণ্ড ঐতিহাসিকভাবে এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীনেও জাপানের ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই সফরের বিরুদ্ধে জাপান সরকার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।’

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন হোক্কাইডোর উত্তরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আগ্নেয় দ্বীপপুঞ্জটি দখল করে নেয়। এরপর থেকেই সেখানে সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে মস্কো।

২০১০ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ বিতর্কিত ভূখণ্ডটি সফরকারী প্রথম রুশ নেতা। পরে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালেও তিনি সেখানে কয়েকবার সফর করেন।

বিতর্কিত চারটি দ্বীপ আগ্নেয় কুরিল দ্বীপপুঞ্জের অংশ। এই দ্বীপপুঞ্জ রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপ থেকে দক্ষিণে জাপানের প্রধান উত্তরাঞ্চলীয় দ্বীপ হোক্কাইডো পর্যন্ত বিস্তৃত একটি প্রশস্ত বাঁক তৈরি করেছে।

১৯৪৫ সালের ৮ আগস্ট সোভিয়েত ইউনিয়ন জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এর মাত্র তিন দিন আগে হিরোশিমায় পরমাণু বোমা ফেলা হয়েছিল। যুদ্ধ শেষ হওয়ার ছয় দিন আগে সোভিয়েত ইউনিয়ন এ যুদ্ধ ঘোষণা করে।

দুই দেশেই দ্বীপগুলোর নাম প্রায় একই। রুশ ভাষায় এগুলো কুনাশির, হাবোমাই, শিকোতান ও ইতুরুপ। জাপানি ভাষায় এগুলো কুনাশিরি, হাবোমাই, শিকোতান ও এতোর্ফু নামে পরিচিত।

প্রায় ২০ হাজার রুশ নাগরিক কঠোর আবহাওয়ার মধ্যে এসব দ্বীপে বসবাস করেন। তবে দ্বীপগুলোতে সোনা ও রুপাসহ খনিজ সম্পদ রয়েছে। রয়েছে সমৃদ্ধ মৎস্যসম্পদও।

১৯৪৫ সালে দ্বীপগুলো দখলের পর মস্কো সেখানে বসবাসকারী প্রায় ১৭ হাজার জাপানি নাগরিককে বিতাড়িত করে।

এরপর স্নায়ুযুদ্ধের সময় দ্বীপগুলো কৌশলগত গুরুত্ব পায়। যুক্তরাষ্ট্র এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তার ঘনিষ্ঠ মিত্র জাপানের মুখোমুখি অবস্থানে সোভিয়েত ইউনিয়ন সেখানে বিমান ও নৌঘাঁটি স্থাপন করে।

বিভিন্ন সময়ে টোকিও ও মস্কোর মধ্যে চলমান আলোচনা এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল। ১৯৫৬ সালে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার সময় সোভিয়েত নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভ শান্তিচুক্তির আওতায় বিতর্কিত দ্বীপগুলোর দুটি জাপানের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর আলোচনা আবার শুরু হলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি।

বিডিসংবাদ/এএইচএস