ঢাকা ১২:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জাপানে ভারী বৃষ্টিতে ৫ জনের মৃত্যু পরমাণু অস্ত্র ঠেকানো নয়, তেলের দাম কম রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য : জেডি ভ্যান্স ১০ কোটি ভিউ পার করলো ইমরান-পড়শীর ‘জনম জনম’ যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার আগে নতুন প্রতিরোধ হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার নিউজিল্যান্ডের গোয়েন্দা সংস্থার গোয়েন্দাগিরির অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ : চীন ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নয়, যুদ্ধে তেলের দাম কমানোই এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেঞ্চুরি তানজিদের বেগম খালেদা জিয়া : গৃহবধূ থেকে আপসহীন নেত্রী মুরাদনগরে দুই দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে এফটিএ নিয়ে আলোচনা

দক্ষিণ আফ্রিকায় মর্মান্তিকভাবে নিহত সোনাগাজীর ২ সহোদর সহ ৪ বাংলাদেশীর দাফন সম্পন্ন

  • আপডেট সময় : ০১:১৫:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ অক্টোবর ২০১৮
  • / 235
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ ডেস্কঃ  দক্ষিণ আফ্রিকায় চাঁদার দাবিতে সন্ত্রাসিদের লাগিয়ে দেয়া আগুনে পুড়ে ফেনীর একই পরিবারের দু’জনসহ তিনজনের লাশ দাফন করা হয়েছে। বাংলাদেশ বিমান যোগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ৪ নিহতের মরদেহ বাংলাদেশ বিমান বন্দরে এসে পৌঁছায়। সেখানে নিহতদের স্বজনেরা লাশগুলো গ্রহন করে।

রাত ২টার দিকে ফেনীর সোনাগাজী ও দাগনভূঞার ৩জনের লাশ নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছায়। নিহদের লাশ আসার খবরে পুরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। আত্মীয়- স্বজন ও এলাকবাসী লাশগুলো দেখতে ছুটে আসে তাদের বাড়িতে। কিন্তু লাশের কফিন ছাড়া দেখার কোন উপায় ছিলনা তাদের।

তারপরও কফিনে মোড়া  আগুনে দ্বগ্ধ লাশগুলো একনজর দেখতে ভিড় জমায় হাজারো মানুষ। বিলাপ করতে করতে পিতা-মাতা, ভাই-বোন এবং আত্মীয়-স্বজনদের চোখের পানি শুকিয়ে গেছে। পিতার কাঁদে সন্তানের লাশ কত যে ভারী তা ভুক্তভোগী ছাড়া অন্যদের বুঝার উপায় নেই। স্বজনদের একটাই বিলাপ টাকার জন্য বুঝি প্রিয়জনেরা জীবনটা দিয়ে দিল। সবাই যেন তাদেরকে সান্তনা দেয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেছে। পরিবারের সবার মুখে একটাই দাবি আমাদের কলিজার টুকরা মামা ও ভাইদের মাফ করে দেন। সারিবদ্ধ ৩টি লাশ। সকাল১০টায় দাগনভূঞা উপজেলার ফাজিলের ঘাট জামে মসজিদ মাঠে একই সাথে মামা-ভাগ্নে ৩জনের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার নামাজে অংশ নেন সোনাগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান জেডএম কামরুল আনাম, দাগনভূঞা থানার ওসি আবু সালেহ পাঠান, পৌর মেয়র মো. ওমর ফারুক খান,

দাগনভূঞা সদর ইউপি চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন স্বপন, সমাজসেবক জসিম উদ্দিন সহ হাজারো মুসল্লী। জানাজার নামাজ পড়ান প্রিন্সিপাল মাও. গোলাম সারওয়ার। নামাজে জানাজা শেষে তাদেরকে স্ব-স্ব পারিবারিক কবরাস্থানে দাফন করা হয়।
শনিবার ভোরে দক্ষিণ আফ্রিকার নর্থওয়েস্ট প্রভিন্সের ব্রিটস শহরে দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে সন্ত্রাসিরা দোকানে অগ্নিসংযোগ করে। দোকানের দ্বিতীয় তলায় অবস্থান কারী ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে নিহতরা হলেন- ফেনীর দাগনভূঞা পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের জগতপুর গ্রামের খান বাড়ির বজলের রহমান খানের ছেলে মমিনুল হক (৫০), সোনাগাজী উপজেলার চরমজলিশপুর গ্রামের আবুল খায়ের সওদাগরের নতুন বাড়ির আবুল খায়ের ছেলে আনোয়ার হোসেন (২৫) ও মোশাররফ হোসেন (২৮)। তারা সম্পর্কে মামা-ভাগ্নে।
নিহত মমিনুল হকের বড় ভাই নবিউল হক খান জানান, শনিবার সকালে তার অপর ভাগ্নে আমজাদ হোসেন মুঠোফোনে আফ্রিকা থেকে জানান, বাংলাদেশ সময় গত শনিবার ভোরে স্থানীয় সন্ত্রাসিরা চাঁদার দাবিতে নর্থওয়েস্ট প্রভিন্সের ব্রিটস শহরে অবস্থিত তাদের দোকানে আগুন লাগিয়ে দেয়। এ সময় দোকানে দগ্ধ হয়ে ভাই মমিনুল হক (৫০) ও অপর দুই ভাগ্নে আনোয়ার হোসেন (২৫) ও মোশাররফ হোসেন (২৮) নিহত হয়। এক বছর আগে আনোয়ার হোসেন পার্শ্ববর্তী কাটাখিলা গ্রামে বিয়ে করে দক্ষিণ আফ্রিকা পাড়ি দেন। আবুল খায়েরের ৪ ছেলে ও ৪ মেয়ের মধ্যে আনোয়ার ও মোশাররফ সবার ছোট।
জীবিকার তাগিদে দীর্ঘ ৯ বছর তারা সেখানে অবস্থান করছিল। তারা একসাথে ওখানে ব্যবসা করত।
অপরদিকে এ ঘটনায় জামালপুরের মোহাম্মদ ইব্রাহীম নামে অপর একজন নিহত হয়েছে। তার লাশও একই সাথে এনে তার বাড়িতে নেয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

দক্ষিণ আফ্রিকায় মর্মান্তিকভাবে নিহত সোনাগাজীর ২ সহোদর সহ ৪ বাংলাদেশীর দাফন সম্পন্ন

আপডেট সময় : ০১:১৫:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ অক্টোবর ২০১৮

বিডিসংবাদ ডেস্কঃ  দক্ষিণ আফ্রিকায় চাঁদার দাবিতে সন্ত্রাসিদের লাগিয়ে দেয়া আগুনে পুড়ে ফেনীর একই পরিবারের দু’জনসহ তিনজনের লাশ দাফন করা হয়েছে। বাংলাদেশ বিমান যোগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ৪ নিহতের মরদেহ বাংলাদেশ বিমান বন্দরে এসে পৌঁছায়। সেখানে নিহতদের স্বজনেরা লাশগুলো গ্রহন করে।

রাত ২টার দিকে ফেনীর সোনাগাজী ও দাগনভূঞার ৩জনের লাশ নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছায়। নিহদের লাশ আসার খবরে পুরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। আত্মীয়- স্বজন ও এলাকবাসী লাশগুলো দেখতে ছুটে আসে তাদের বাড়িতে। কিন্তু লাশের কফিন ছাড়া দেখার কোন উপায় ছিলনা তাদের।

তারপরও কফিনে মোড়া  আগুনে দ্বগ্ধ লাশগুলো একনজর দেখতে ভিড় জমায় হাজারো মানুষ। বিলাপ করতে করতে পিতা-মাতা, ভাই-বোন এবং আত্মীয়-স্বজনদের চোখের পানি শুকিয়ে গেছে। পিতার কাঁদে সন্তানের লাশ কত যে ভারী তা ভুক্তভোগী ছাড়া অন্যদের বুঝার উপায় নেই। স্বজনদের একটাই বিলাপ টাকার জন্য বুঝি প্রিয়জনেরা জীবনটা দিয়ে দিল। সবাই যেন তাদেরকে সান্তনা দেয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেছে। পরিবারের সবার মুখে একটাই দাবি আমাদের কলিজার টুকরা মামা ও ভাইদের মাফ করে দেন। সারিবদ্ধ ৩টি লাশ। সকাল১০টায় দাগনভূঞা উপজেলার ফাজিলের ঘাট জামে মসজিদ মাঠে একই সাথে মামা-ভাগ্নে ৩জনের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার নামাজে অংশ নেন সোনাগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান জেডএম কামরুল আনাম, দাগনভূঞা থানার ওসি আবু সালেহ পাঠান, পৌর মেয়র মো. ওমর ফারুক খান,

দাগনভূঞা সদর ইউপি চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন স্বপন, সমাজসেবক জসিম উদ্দিন সহ হাজারো মুসল্লী। জানাজার নামাজ পড়ান প্রিন্সিপাল মাও. গোলাম সারওয়ার। নামাজে জানাজা শেষে তাদেরকে স্ব-স্ব পারিবারিক কবরাস্থানে দাফন করা হয়।
শনিবার ভোরে দক্ষিণ আফ্রিকার নর্থওয়েস্ট প্রভিন্সের ব্রিটস শহরে দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে সন্ত্রাসিরা দোকানে অগ্নিসংযোগ করে। দোকানের দ্বিতীয় তলায় অবস্থান কারী ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে নিহতরা হলেন- ফেনীর দাগনভূঞা পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের জগতপুর গ্রামের খান বাড়ির বজলের রহমান খানের ছেলে মমিনুল হক (৫০), সোনাগাজী উপজেলার চরমজলিশপুর গ্রামের আবুল খায়ের সওদাগরের নতুন বাড়ির আবুল খায়ের ছেলে আনোয়ার হোসেন (২৫) ও মোশাররফ হোসেন (২৮)। তারা সম্পর্কে মামা-ভাগ্নে।
নিহত মমিনুল হকের বড় ভাই নবিউল হক খান জানান, শনিবার সকালে তার অপর ভাগ্নে আমজাদ হোসেন মুঠোফোনে আফ্রিকা থেকে জানান, বাংলাদেশ সময় গত শনিবার ভোরে স্থানীয় সন্ত্রাসিরা চাঁদার দাবিতে নর্থওয়েস্ট প্রভিন্সের ব্রিটস শহরে অবস্থিত তাদের দোকানে আগুন লাগিয়ে দেয়। এ সময় দোকানে দগ্ধ হয়ে ভাই মমিনুল হক (৫০) ও অপর দুই ভাগ্নে আনোয়ার হোসেন (২৫) ও মোশাররফ হোসেন (২৮) নিহত হয়। এক বছর আগে আনোয়ার হোসেন পার্শ্ববর্তী কাটাখিলা গ্রামে বিয়ে করে দক্ষিণ আফ্রিকা পাড়ি দেন। আবুল খায়েরের ৪ ছেলে ও ৪ মেয়ের মধ্যে আনোয়ার ও মোশাররফ সবার ছোট।
জীবিকার তাগিদে দীর্ঘ ৯ বছর তারা সেখানে অবস্থান করছিল। তারা একসাথে ওখানে ব্যবসা করত।
অপরদিকে এ ঘটনায় জামালপুরের মোহাম্মদ ইব্রাহীম নামে অপর একজন নিহত হয়েছে। তার লাশও একই সাথে এনে তার বাড়িতে নেয়া হয়েছে।