ডাকসুতে ৩০ ডিসেম্বরের পুনরাবৃত্তি হয়েছে : ফখরুল
- আপডেট সময় : ০৭:২৩:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মার্চ ২০১৯
- / 169
বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ
গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি হয়েছে সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে। সোমবার বিকেলে রাজধানীর মাতিঝিলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এক বৈঠক শেষে এই মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মতিঝিলের বৈঠক হয়েছে ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ডাকসু নির্বাচন নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব আশাহত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা সরকারি দলের ছাত্র সংগঠনের ভোট ডাকাতি, গুণ্ডামি ও সন্ত্রাসের প্রতিবাদ করেছে বলেও মনে করেন মির্জা ফখরুল। বলেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন রয়েছে ঐক্যফ্রন্টের। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকেও ডাকসু নির্বাচন নিয়ে দায়ী করা হয়। মির্জা ফখরুল আরো অভিযোগ করেন, দেশের সব ধরনের নির্বাচনী ব্যবস্থাই ভেঙে পড়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি আজ জাতি দেখল। সরকারি ছাত্র সংগঠনের যে ভোট ডাকাতি, গুণ্ডামি, সন্ত্রাস তার প্রতিবাদ করেছে (শিক্ষার্থীরা) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অংশগ্রহণ এটার মধ্যে, যেটা তারা দেখতে পেয়েছে এবং তার প্রতিবাদ করেছে। এই অনিয়ম যেটা ঘটেছে আমরা ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে তার নিন্দা জানাচ্ছি, প্রতিবাদ করছি এবং আমরা ছাত্রদের ন্যায্যা দাবির প্রতি সমর্থন জানাচ্ছি।’
এর আগে বহিষ্কার করা গণফোরামের সংসদ সদস্য সুলতান মনসুরের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ, চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কর্ম পরিকল্পনা ঠিক করতে বৈঠকে বসেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্যরা।
বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ড. কামাল হোসেনের মতিঝিলের চেম্বারে এই বৈঠক শুরু হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ড. কামাল হোসেন, ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু প্রমুখ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ এনে ভোট শেষ হওয়ার পৌনে এক ঘণ্টা আগেই ছাত্রলীগ ছাড়া অন্য ছাত্র সংগঠনগুলো ভোট বর্জন করলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মো. আখতারুজ্জামান বলেছেন, উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হয়েছে। সুশৃঙ্খলভাবে ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদও জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার সকাল ৮টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে ভোট গ্রহণ করা হয়। ভিসি মো. আখতারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েদের ধন্যবাদ জানাই। তারা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে একটি উৎসবমুখর পরিবেশে যেভাবে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে এবং গণতান্ত্রিক রীতিনীতি অনুসরণ করেছে, তার ভূয়সী প্রশংসা করি। যতগুলো ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করলাম, অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হয়েছে।’
সকালে কুয়েত মৈত্রী হলে বস্তাভর্তি সিল মারা ব্যালট পাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এসব ব্যালটে ছাত্রলীগের হল সংসদের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট দেয়া ছিল। এরপর এই হলের ভোট গ্রহণ স্থগিত হয়ে গেছে। এ প্রসঙ্গে ভিসি বলেন, কালক্ষেপণ না করে প্রভোস্টকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।
নতুন প্রভোস্ট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কমিটি খতিয়ে দেখবে কে বা কারা জড়িত। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
অনিয়মের ডাকসু নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন ছাত্রলীগ ছাড়া প্রায় সব সংগঠন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। অনিয়মের অভিযোগের পাশাপাশি পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন তারা। এর মধ্যে কয়েকটি সংগঠন মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।
এ বিষয়ে মো. আখতারুজ্জামান বলেন, রীতিনীতি ও গঠনতন্ত্র অনুসরণ করে এগিয়ে যেতে হবে। শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলাবোধ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছেন, যা তাদের অনুপ্রেরণা দেয়। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার কথা জানান।























