ঢাকা ১১:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
উখিয়ায় গভীর নলকূপের অগ্নিকাণ্ড: ৪০ ঘণ্টাতেও জ্বলছে গ্যাসের শিখা নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিশ্চিত করে টেকসই অর্থনীতির রূপকল্পে বুয়েটে উৎসব জাপান সফরে চার সমঝোতা স্মারকসহ একাধিক চুক্তিতে সই বাংলাদেশের পাবনায় ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন কৃষি কর্মকর্তা ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৯ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি প্রায় দুই হাজার ভিয়েতনামের লং থান বিমানবন্দরে সপ্তাহে ৩৬৬ ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা লক্ষ্মীপুরে মাটি ব্যবসায়ীকে মৃত্যুর ঘটনায়, চাঞ্চল্য বাংলাদেশের পাঁচ খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর আইইডিসিআর পরিচালকের কার্যালয়ে ঢুকে মারধরের অভিযোগ ড্যাব কর্মীদের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জে মশার কয়েল থেকে অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব বৃদ্ধ গুটু শেখ

নিষেধাজ্ঞার মুখেও সচল ইরানের আন্তর্জাতিক আকাশপথ

  • আপডেট সময় : ১০:৫৮:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • / 13
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা সত্ত্বেও ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। দেশটির প্রধান আন্তর্জাতিক আকাশপথ হিসেবে পরিচিত তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এখনো কার্যকর রয়েছে। আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্সের তথ্যমতে, ইরান থেকে বিদেশগামী মোট ফ্লাইটের প্রায় ৭৫ শতাংশই এই বিমানবন্দর ব্যবহার করে পরিচালিত হচ্ছে। রোববারের ফ্লাইট সূচক পর্যালোচনায় দেখা যায়, ইরানি বিমান সংস্থাগুলো ১৯টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যের মধ্যে অন্তত ১১টিতে যাত্রী পরিবহন করেছে, যেখানে আসা-যাওয়া মিলিয়ে মোট ২৪টি ফ্লাইট ছিল।

ইরানের আন্তর্জাতিক রুটের তালিকায় বর্তমানে আফগানিস্তান, আর্মেনিয়া, চীন, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, ম্যাকাও, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, রাশিয়া, থাইল্যান্ড, তিউনিসিয়া, তুরস্ক, উজবেকিস্তান ও ভিয়েতনাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আজারবাইজান, জর্জিয়া, ইরাক, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিমানবন্দরগুলো ইরানি এয়ারলাইনগুলোর ফ্লাইট বাতিল করেছে। বিমানবন্দরের প্রধান নির্বাহী রামিন কাশেফ আজারের দাবি, সব মিলিয়ে ইরানি এয়ারলাইনগুলো ৩০টির বেশি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা ধরে রেখেছে।

গত ৮ সেপ্টেম্বর মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের বেসামরিক বিমান খাত সংশ্লিষ্ট ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এর মধ্যে ২৭টি ইরানি এয়ারলাইন ছাড়াও বিমান চলাচল খাতে সহায়তা প্রদানকারী বেশ কিছু বিদেশি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরান তার বেসামরিক বিমান পরিবহন ব্যবস্থাকে অবৈধ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের কাজে ব্যবহার করছে। এছাড়া কিছু প্রতিষ্ঠান তেহরানকে বিমান ও সংবেদনশীল প্রযুক্তি সংগ্রহে সরাসরি সহযোগিতা করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সতর্ক করে বলেছিলেন, ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ইরানি এয়ারলাইনগুলোকে কোনো ধরনের সহযোগিতা প্রদান করলে সংশ্লিষ্ট দেশ বা প্রতিষ্ঠান বৈশ্বিক মার্কিন ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। এই বিধিনিষেধের আওতায় জ্বালানি সরবরাহ, টিকিট বিক্রয় কিংবা বিমানবন্দরে অবতরণের অনুমতি দেওয়ার মতো সেবাগুলোও অন্তর্ভুক্ত।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী তেহরান থেকে চীনের গুয়াংজু, সাংহাই এবং তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বিমান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে এই পরিস্থিতি অত্যন্ত অনিশ্চিত এবং পরিবর্তনশীল। ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র গন্তব্য দেশের অনুমতিই যথেষ্ট নয়, বরং মাঝপথের দেশগুলোর আকাশসীমা ব্যবহারের ছাড়পত্রও আবশ্যক। সম্প্রতি তুর্কমেনিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না মেলায় তেহরান থেকে দুশানবেগামী একটি ফ্লাইট মাঝপথ থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছিল, যা ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগের বর্তমান নাজুক অবস্থাকেই নির্দেশ করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

নিষেধাজ্ঞার মুখেও সচল ইরানের আন্তর্জাতিক আকাশপথ

আপডেট সময় : ১০:৫৮:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা সত্ত্বেও ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। দেশটির প্রধান আন্তর্জাতিক আকাশপথ হিসেবে পরিচিত তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এখনো কার্যকর রয়েছে। আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্সের তথ্যমতে, ইরান থেকে বিদেশগামী মোট ফ্লাইটের প্রায় ৭৫ শতাংশই এই বিমানবন্দর ব্যবহার করে পরিচালিত হচ্ছে। রোববারের ফ্লাইট সূচক পর্যালোচনায় দেখা যায়, ইরানি বিমান সংস্থাগুলো ১৯টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যের মধ্যে অন্তত ১১টিতে যাত্রী পরিবহন করেছে, যেখানে আসা-যাওয়া মিলিয়ে মোট ২৪টি ফ্লাইট ছিল।

ইরানের আন্তর্জাতিক রুটের তালিকায় বর্তমানে আফগানিস্তান, আর্মেনিয়া, চীন, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, ম্যাকাও, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, রাশিয়া, থাইল্যান্ড, তিউনিসিয়া, তুরস্ক, উজবেকিস্তান ও ভিয়েতনাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আজারবাইজান, জর্জিয়া, ইরাক, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিমানবন্দরগুলো ইরানি এয়ারলাইনগুলোর ফ্লাইট বাতিল করেছে। বিমানবন্দরের প্রধান নির্বাহী রামিন কাশেফ আজারের দাবি, সব মিলিয়ে ইরানি এয়ারলাইনগুলো ৩০টির বেশি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা ধরে রেখেছে।

গত ৮ সেপ্টেম্বর মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের বেসামরিক বিমান খাত সংশ্লিষ্ট ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এর মধ্যে ২৭টি ইরানি এয়ারলাইন ছাড়াও বিমান চলাচল খাতে সহায়তা প্রদানকারী বেশ কিছু বিদেশি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরান তার বেসামরিক বিমান পরিবহন ব্যবস্থাকে অবৈধ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের কাজে ব্যবহার করছে। এছাড়া কিছু প্রতিষ্ঠান তেহরানকে বিমান ও সংবেদনশীল প্রযুক্তি সংগ্রহে সরাসরি সহযোগিতা করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সতর্ক করে বলেছিলেন, ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ইরানি এয়ারলাইনগুলোকে কোনো ধরনের সহযোগিতা প্রদান করলে সংশ্লিষ্ট দেশ বা প্রতিষ্ঠান বৈশ্বিক মার্কিন ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। এই বিধিনিষেধের আওতায় জ্বালানি সরবরাহ, টিকিট বিক্রয় কিংবা বিমানবন্দরে অবতরণের অনুমতি দেওয়ার মতো সেবাগুলোও অন্তর্ভুক্ত।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী তেহরান থেকে চীনের গুয়াংজু, সাংহাই এবং তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বিমান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে এই পরিস্থিতি অত্যন্ত অনিশ্চিত এবং পরিবর্তনশীল। ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র গন্তব্য দেশের অনুমতিই যথেষ্ট নয়, বরং মাঝপথের দেশগুলোর আকাশসীমা ব্যবহারের ছাড়পত্রও আবশ্যক। সম্প্রতি তুর্কমেনিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না মেলায় তেহরান থেকে দুশানবেগামী একটি ফ্লাইট মাঝপথ থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছিল, যা ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগের বর্তমান নাজুক অবস্থাকেই নির্দেশ করছে।