ঢাকা ১০:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার আগে নতুন প্রতিরোধ হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার নিউজিল্যান্ডের গোয়েন্দা সংস্থার গোয়েন্দাগিরির অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ : চীন ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নয়, যুদ্ধে তেলের দাম কমানোই এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেঞ্চুরি তানজিদের বেগম খালেদা জিয়া : গৃহবধূ থেকে আপসহীন নেত্রী মুরাদনগরে দুই দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে এফটিএ নিয়ে আলোচনা দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আগামীকাল : দলের পক্ষ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলে ঝড়ো হাওয়ার শঙ্কা, ৪ বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত তানজিদ-মোমিনুলের সেঞ্চুরির জুটিতে লিডের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ

ঘরে তালা দিয়ে পালিয়েছে সিরাজের পরিবার

  • আপডেট সময় : ০৯:২৯:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০১৯
  • / 415
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি


সোনাগাজী(ফেনী) প্রতিনিধিঃ


বাড়িটির নাম ‘ফেরদৌসী মঞ্জিল’। ফেনী পৌর এলাকার ১২ নং ওয়ার্ডের চৌধুরী বাড়ি সড়ক। স্ত্রী ফেরদৌস আক্তারের নামেই বাড়িটি নামকরণ করেছেন অধ্যক্ষ সিরাজ। শহরের পাঠানবাড়ি রোড ধরে চৌধুরী বাড়ি হয়ে সড়কটি চলে গেছে মহিপাল পর্যন্ত। এখানকার মকছুদুর রহমান সড়কের একটি বাইলেনের একেবারে শেষপ্রান্তে সিরাজের বাসা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আজ থেকে ৭ থেকে ৮ বছর আগে ২০ লাখ টাকায় সাড়ে চার শতক জমি ক্রয় করেন তিনি। প্রথমে টিনশেড বাসা ছিল। তিন বছর আগে দোতলা পাকা দালান করেন প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যায়ে। ৬ তলা ফাউন্ডেশনের ওপর দোতলা বাড়ি। ওই ভবনের দোতলার রাস্তা লাগোয়া বড় ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন সিরাজ। কয়েকদিন আগে ঘরে তালা দিয়ে গা ঢাকা দেন পরিবারের সদস্যরা। তারা কোন আত্মীয়ের বাড়িতে থাকতে পারেন বলে ধারণা প্রতিবেশীদের।

সিরাজউদ দৌলাহর ফ্ল্যাটের সামনে মুখোমুখি ফ্ল্যাটে বসবাস করেন ফেনী সদরের ফাজিলপুর ইউনিয়নের মো. ইব্রাহিম। তিনি বলেন, দুই বছর আগে ২১ লাখ টাকায় একটি ফ্ল্যাট সাফ কবলায় কিনে নিয়েছি। তিনি জানান, ৪ থেকে ৫ দিন আগে ঘরের লোকজন তালা দিয়ে চলে গেছেন। তারা কোথায় গেছেন-তা বলতে পারেননি ষাটোর্ধ এই প্রতিবেশী। তিনি বলেন, আমরা আসলে এতোকিছু জানতামনা। বাইরে থেকে তাকে সাধারণ বলেই মনে হত। এখন টিভির খবরে আর পত্রিকায় দেখে ওনার সম্পর্কে জানতে পারছি। স্ত্রী আর মেয়ে নিয়ে ওই ভবনের দোতলার একটি ফ্ল্যাটে থাকেন বৃদ্ধ ইব্রাহিম।


নীচতলায় একটি তালা দেয়া ফ্ল্যাট রয়েছে। বাসিন্দারা জানান, এই ফ্ল্যাটটিও সিরাজের। এখানে ভাড়াটে ছিল। কিন্তু কয়েক মাস আগে ভাড়াটে চলে গেলে এটি খালি হয়ে যায়। এখনও ভাড়া হয়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আশপাশের কয়েকজন বাড়ি মালিক ও বাসিন্দা বলেন, মাঝে মাঝে তাকে দেখতাম।

সকালে বেরিয়ে রাতে ফিরতেন। বিভিন্ন সময় তার ব্যাপারে অনেক অভিযোগ শুনেছি। তার পরিবারে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে বলে তারা জানান। মেয়েটি কয়েক বছর পূর্বে চট্রগ্রামের এক ব্যবসায়ীর কাছে বিয়ে দিয়েছেন। ছেলে একটি প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেঅধ্যয়নরত রয়েছে। তারা বলেন, এখন তার এসব অপকর্মের কথা জেনে আমরা প্রতিবেশী হিসেবে লজ্জিত ও বিব্রত।

তাদের মতে, ফেনী শহরের পাঠানবাড়ি রোড ও মকছুদুর রহমান সড়কে জামায়াত কেন্দ্রিক একাধিক প্রতিষ্ঠানের অংশীদার ছিলেন এই সিরাজ। নানাভাবে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি আর্থিকভাবে লাভবানও হন। এসব খাত থেকে পাওয়া অর্থে প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যায়ে দোতলা বাড়ি তৈরী করেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ঘরে তালা দিয়ে পালিয়েছে সিরাজের পরিবার

আপডেট সময় : ০৯:২৯:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০১৯


সোনাগাজী(ফেনী) প্রতিনিধিঃ


বাড়িটির নাম ‘ফেরদৌসী মঞ্জিল’। ফেনী পৌর এলাকার ১২ নং ওয়ার্ডের চৌধুরী বাড়ি সড়ক। স্ত্রী ফেরদৌস আক্তারের নামেই বাড়িটি নামকরণ করেছেন অধ্যক্ষ সিরাজ। শহরের পাঠানবাড়ি রোড ধরে চৌধুরী বাড়ি হয়ে সড়কটি চলে গেছে মহিপাল পর্যন্ত। এখানকার মকছুদুর রহমান সড়কের একটি বাইলেনের একেবারে শেষপ্রান্তে সিরাজের বাসা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আজ থেকে ৭ থেকে ৮ বছর আগে ২০ লাখ টাকায় সাড়ে চার শতক জমি ক্রয় করেন তিনি। প্রথমে টিনশেড বাসা ছিল। তিন বছর আগে দোতলা পাকা দালান করেন প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যায়ে। ৬ তলা ফাউন্ডেশনের ওপর দোতলা বাড়ি। ওই ভবনের দোতলার রাস্তা লাগোয়া বড় ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন সিরাজ। কয়েকদিন আগে ঘরে তালা দিয়ে গা ঢাকা দেন পরিবারের সদস্যরা। তারা কোন আত্মীয়ের বাড়িতে থাকতে পারেন বলে ধারণা প্রতিবেশীদের।

সিরাজউদ দৌলাহর ফ্ল্যাটের সামনে মুখোমুখি ফ্ল্যাটে বসবাস করেন ফেনী সদরের ফাজিলপুর ইউনিয়নের মো. ইব্রাহিম। তিনি বলেন, দুই বছর আগে ২১ লাখ টাকায় একটি ফ্ল্যাট সাফ কবলায় কিনে নিয়েছি। তিনি জানান, ৪ থেকে ৫ দিন আগে ঘরের লোকজন তালা দিয়ে চলে গেছেন। তারা কোথায় গেছেন-তা বলতে পারেননি ষাটোর্ধ এই প্রতিবেশী। তিনি বলেন, আমরা আসলে এতোকিছু জানতামনা। বাইরে থেকে তাকে সাধারণ বলেই মনে হত। এখন টিভির খবরে আর পত্রিকায় দেখে ওনার সম্পর্কে জানতে পারছি। স্ত্রী আর মেয়ে নিয়ে ওই ভবনের দোতলার একটি ফ্ল্যাটে থাকেন বৃদ্ধ ইব্রাহিম।


নীচতলায় একটি তালা দেয়া ফ্ল্যাট রয়েছে। বাসিন্দারা জানান, এই ফ্ল্যাটটিও সিরাজের। এখানে ভাড়াটে ছিল। কিন্তু কয়েক মাস আগে ভাড়াটে চলে গেলে এটি খালি হয়ে যায়। এখনও ভাড়া হয়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আশপাশের কয়েকজন বাড়ি মালিক ও বাসিন্দা বলেন, মাঝে মাঝে তাকে দেখতাম।

সকালে বেরিয়ে রাতে ফিরতেন। বিভিন্ন সময় তার ব্যাপারে অনেক অভিযোগ শুনেছি। তার পরিবারে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে বলে তারা জানান। মেয়েটি কয়েক বছর পূর্বে চট্রগ্রামের এক ব্যবসায়ীর কাছে বিয়ে দিয়েছেন। ছেলে একটি প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেঅধ্যয়নরত রয়েছে। তারা বলেন, এখন তার এসব অপকর্মের কথা জেনে আমরা প্রতিবেশী হিসেবে লজ্জিত ও বিব্রত।

তাদের মতে, ফেনী শহরের পাঠানবাড়ি রোড ও মকছুদুর রহমান সড়কে জামায়াত কেন্দ্রিক একাধিক প্রতিষ্ঠানের অংশীদার ছিলেন এই সিরাজ। নানাভাবে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি আর্থিকভাবে লাভবানও হন। এসব খাত থেকে পাওয়া অর্থে প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যায়ে দোতলা বাড়ি তৈরী করেন তিনি।