ঢাকা ০৮:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মুরাদনগরে দুই দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে এফটিএ নিয়ে আলোচনা দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আগামীকাল : দলের পক্ষ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলে ঝড়ো হাওয়ার শঙ্কা, ৪ বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত তানজিদ-মোমিনুলের সেঞ্চুরির জুটিতে লিডের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় ‘লালা’র আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা ‘এক সংস্কৃতির’ আহ্বান প্রত্যাখ্যান অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তীব্র গরমে দুর্বিষহ দিন কাটছে পাকিস্তানের খেজুর শ্রমিকদের বাঁ-হাতি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড স্টার্কের এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে পদক লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে পারে ভারত-পাকিস্তান

ইডেন কলেজে এক নেত্রীর কোপে অপর নেত্রী আহত

  • আপডেট সময় : ০৫:৩৩:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ নভেম্বর ২০১৯
  • / 219
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক

রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজে এক নেত্রীকে কুপিয়ে আহত করেছেন আরেক নেত্রী। হলে বহিরাগত ছাত্রী রাখা নিয়ে শনিবার ভোরে ছাত্রলীগের দুই নেত্রীর মধ্যে সংঘর্ষের সময় উভয়ের মধ্যে কোপানোর এ ঘটনা ঘটে। একই সংঘর্ষে আরো কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর কলেজ ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

হলের শিক্ষার্থীরা জানান, ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবা নাসরিন রূপা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের ২১৯ নং কক্ষে নাবিলা নামের একজন বহিরাগত শিক্ষার্থীকে (প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের) টাকার বিনিময়ে রাখতেন। তাকে রাখাকে কেন্দ্র করে হলে অন্য নেত্রীদের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে রূপা তার অনুসারীদের নিয়ে অন্য নেত্রীদের ওপর হামলা করেন। এ সময় রূপা সাবিকুন্নাহার তামান্নার হাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেন।

মাহবুবা নাসরিন রূপা ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক। তার বাড়ি ঝিনাইদহ জেলায়। সাবিকুন্নাহার তামান্না ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য, তার বাড়ি বরগুনা জেলায়।

সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে চাইলে ইডেন কালেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রূপা সাংবাদিকদের বলেন, আমরা এমন কোনো সমর্থক তৈরি করিনি, যারা শিক্ষার্থীদের মারধর করবে। ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আঞ্জুমান আরা অনুর সর্মথকরা বঙ্গমাতা হলে গিয়ে আমার কর্মীদের ওপর হামলা করেছে। পরে হলের ২০৮ নম্বর কক্ষে গিয়ে আমার আইফোন এবং সাত হাজার পাঁচশত টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায়।

নাবিলার ব্লকের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রী বলেন, ইডেনে প্রচুর সিট বাণিজ্য হয়, এটা সবার জানা। তবে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, আজকের ঘটনার মূল হোতা সেই নাবিলা মেয়েটি একজন বহিরাগত। সে টাকার বিনিময়ে হলে থাকে এবং হলের মেয়েদের শাসন করে বেড়ায়। আমরা শুধু নিজেদের সেফটির জন্য এসব বলিনা।

জানা যায়, নাবিলাকে হলে রাখা নিয়ে অনেকদিন যাবৎ সমস্যা হচ্ছিল। শনিবার ভোরে ইডেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আঞ্জুমান আরা অনুর নেতৃত্বে তার অনুসারীরা ওই হলের ২১৯ নম্বর কক্ষে গিয়ে নাবিলাকে বের হয়ে যেতে বলে এবং তাকে হুমকি দেয়। অনুর অনুসারীদের একজন ছিলেন সাবিকুন্নাহার তামান্না। এসময় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। খবর পেয়ে ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রুপা দৌড়ে যান ২১৯ নম্বর কক্ষে। রুপা সেখানে গেলে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সাবিকুন তামান্নাকে ছুরি দিয়ে কোপ দেয় রুপা। পরে অন্যপক্ষ রুপার গ্রুপের কর্মীদের ওপর পাল্টা হামলা করে।

এ ঘটনায় বহিরাগত নাবিলাকে লালবাগ থানায় হল প্রশাসনের মাধ্যমে সোপর্দ করা হয়। অন্যদিকে রুপার রুম ভাঙচুর করে তাকে মেরে হল থেকে বের করে দেয়ারও অভিযোগ উঠেছে।

এ ব্যাপারে ইডেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রুপা সাংবাদিকদের বলেন, ‘২১৯ নম্বর রুমে নাবিলা নামে এক শিক্ষার্থী ছিলো। ডিগ্রিতে পড়ে, সে বহিরাগত না। তাকে নিয়ে ঝামেলা শুরু করে অনুর নেতৃত্বে তার অনুসারীরা। তিনি বলেন, ওই সময় ২১৯ নম্বর রুমে অনুর অনুসারীরা গিয়ে ওই রুমের মেয়েদেরকে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করেছিল এবং তাদের মারধরও করেছে। এসময় তারা আমার রুম ভাঙচুর করেছে। আমাকে হল থেকে বের করে দিয়েছে। তবে তামান্নাকে ছুরি দিয়ে কোপ দেয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে বলেন, আমি কাউকে মারিনি। কাউকে ছুরি দিয়ে আঘাত করিনি’।

এ ব্যাপারে রুপা বলেন, ‘২১৯ নম্বর রুমে নাবিলা নামে এক শিক্ষার্থী ছিলো। সে ডিগ্রিতে পড়ে। সে বহিরাগত না। তাকে নিয়ে ঝামেলা শুরু করে অনুর নেতৃত্বে তার অনুসারীরা। ২১৯ নম্বর রুমে অনুর অনুসারীরা গিয়ে ওই রুমের মেয়েদের কাপড় খুলে ছবি তুলেছে। তাদের মারধর করেছে। তারা আমার রুম ভাঙচুর করেছে। আমাকে হল থেকে বের করে দিয়েছে। আমি কাউকে মারিনি। কাউকে ছুরি দিয়ে আঘাত করিনি।’

লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আশরাফ উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, আমরা শুনেছি হলে মেয়েদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর থেকে ইডেন কলেজের ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ইডেন কলেজে এক নেত্রীর কোপে অপর নেত্রী আহত

আপডেট সময় : ০৫:৩৩:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ নভেম্বর ২০১৯

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক

রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজে এক নেত্রীকে কুপিয়ে আহত করেছেন আরেক নেত্রী। হলে বহিরাগত ছাত্রী রাখা নিয়ে শনিবার ভোরে ছাত্রলীগের দুই নেত্রীর মধ্যে সংঘর্ষের সময় উভয়ের মধ্যে কোপানোর এ ঘটনা ঘটে। একই সংঘর্ষে আরো কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর কলেজ ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

হলের শিক্ষার্থীরা জানান, ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবা নাসরিন রূপা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের ২১৯ নং কক্ষে নাবিলা নামের একজন বহিরাগত শিক্ষার্থীকে (প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের) টাকার বিনিময়ে রাখতেন। তাকে রাখাকে কেন্দ্র করে হলে অন্য নেত্রীদের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে রূপা তার অনুসারীদের নিয়ে অন্য নেত্রীদের ওপর হামলা করেন। এ সময় রূপা সাবিকুন্নাহার তামান্নার হাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেন।

মাহবুবা নাসরিন রূপা ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক। তার বাড়ি ঝিনাইদহ জেলায়। সাবিকুন্নাহার তামান্না ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য, তার বাড়ি বরগুনা জেলায়।

সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে চাইলে ইডেন কালেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রূপা সাংবাদিকদের বলেন, আমরা এমন কোনো সমর্থক তৈরি করিনি, যারা শিক্ষার্থীদের মারধর করবে। ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আঞ্জুমান আরা অনুর সর্মথকরা বঙ্গমাতা হলে গিয়ে আমার কর্মীদের ওপর হামলা করেছে। পরে হলের ২০৮ নম্বর কক্ষে গিয়ে আমার আইফোন এবং সাত হাজার পাঁচশত টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায়।

নাবিলার ব্লকের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রী বলেন, ইডেনে প্রচুর সিট বাণিজ্য হয়, এটা সবার জানা। তবে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, আজকের ঘটনার মূল হোতা সেই নাবিলা মেয়েটি একজন বহিরাগত। সে টাকার বিনিময়ে হলে থাকে এবং হলের মেয়েদের শাসন করে বেড়ায়। আমরা শুধু নিজেদের সেফটির জন্য এসব বলিনা।

জানা যায়, নাবিলাকে হলে রাখা নিয়ে অনেকদিন যাবৎ সমস্যা হচ্ছিল। শনিবার ভোরে ইডেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আঞ্জুমান আরা অনুর নেতৃত্বে তার অনুসারীরা ওই হলের ২১৯ নম্বর কক্ষে গিয়ে নাবিলাকে বের হয়ে যেতে বলে এবং তাকে হুমকি দেয়। অনুর অনুসারীদের একজন ছিলেন সাবিকুন্নাহার তামান্না। এসময় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। খবর পেয়ে ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রুপা দৌড়ে যান ২১৯ নম্বর কক্ষে। রুপা সেখানে গেলে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সাবিকুন তামান্নাকে ছুরি দিয়ে কোপ দেয় রুপা। পরে অন্যপক্ষ রুপার গ্রুপের কর্মীদের ওপর পাল্টা হামলা করে।

এ ঘটনায় বহিরাগত নাবিলাকে লালবাগ থানায় হল প্রশাসনের মাধ্যমে সোপর্দ করা হয়। অন্যদিকে রুপার রুম ভাঙচুর করে তাকে মেরে হল থেকে বের করে দেয়ারও অভিযোগ উঠেছে।

এ ব্যাপারে ইডেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রুপা সাংবাদিকদের বলেন, ‘২১৯ নম্বর রুমে নাবিলা নামে এক শিক্ষার্থী ছিলো। ডিগ্রিতে পড়ে, সে বহিরাগত না। তাকে নিয়ে ঝামেলা শুরু করে অনুর নেতৃত্বে তার অনুসারীরা। তিনি বলেন, ওই সময় ২১৯ নম্বর রুমে অনুর অনুসারীরা গিয়ে ওই রুমের মেয়েদেরকে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করেছিল এবং তাদের মারধরও করেছে। এসময় তারা আমার রুম ভাঙচুর করেছে। আমাকে হল থেকে বের করে দিয়েছে। তবে তামান্নাকে ছুরি দিয়ে কোপ দেয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে বলেন, আমি কাউকে মারিনি। কাউকে ছুরি দিয়ে আঘাত করিনি’।

এ ব্যাপারে রুপা বলেন, ‘২১৯ নম্বর রুমে নাবিলা নামে এক শিক্ষার্থী ছিলো। সে ডিগ্রিতে পড়ে। সে বহিরাগত না। তাকে নিয়ে ঝামেলা শুরু করে অনুর নেতৃত্বে তার অনুসারীরা। ২১৯ নম্বর রুমে অনুর অনুসারীরা গিয়ে ওই রুমের মেয়েদের কাপড় খুলে ছবি তুলেছে। তাদের মারধর করেছে। তারা আমার রুম ভাঙচুর করেছে। আমাকে হল থেকে বের করে দিয়েছে। আমি কাউকে মারিনি। কাউকে ছুরি দিয়ে আঘাত করিনি।’

লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আশরাফ উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, আমরা শুনেছি হলে মেয়েদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর থেকে ইডেন কলেজের ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।