ঢাকা ০২:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জাপানে ভারী বৃষ্টিতে ৫ জনের মৃত্যু পরমাণু অস্ত্র ঠেকানো নয়, তেলের দাম কম রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য : জেডি ভ্যান্স ১০ কোটি ভিউ পার করলো ইমরান-পড়শীর ‘জনম জনম’ যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার আগে নতুন প্রতিরোধ হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার নিউজিল্যান্ডের গোয়েন্দা সংস্থার গোয়েন্দাগিরির অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ : চীন ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নয়, যুদ্ধে তেলের দাম কমানোই এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেঞ্চুরি তানজিদের বেগম খালেদা জিয়া : গৃহবধূ থেকে আপসহীন নেত্রী মুরাদনগরে দুই দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে এফটিএ নিয়ে আলোচনা

স্বার্থের সঙ্ঘাতে মুখোশ উন্মোচন

  • আপডেট সময় : ০১:৩৭:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ অগাস্ট ২০২২
  • / 274
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

আগের দিন সাদা মনে সব মেনে নেয়া রাসেল ডমিঙ্গো লাল-সবুজ মানচিত্রের বাইরে পা রেখেই দেখালেন ভিন্নরূপ। প্রশ্ন তোলে ধরলেন, ছুঁড়ে দিলেন শত অভিযোগ। হাসিমুখের আড়ালে এত দুঃখ লুকিয়ে, তা কেইবা বুঝেছিল কবে৷

যাহোক অভিযোগে ফিরি, স্বাধীন দেশে পরাধীনতা আর মানসিক অস্থিরতার গল্প বলেছিলেন গতকাল। ধারাবাহিকতায় আজও মুখ খুললেন, ফের ক্রিকেটপাড়া টালমাটাল। খেলোয়াড়দের ওপর বর্বরতা, মানসিক অস্থিরতা, অভিজ্ঞদের সুযোগ নেয়া, তরুণদের দমিয়ে রাখা, পরিকল্পনায় হস্তক্ষেপ, অল্প ভুলেই খোঁচা আর কটুক্তি… আরো কত অভিযোগ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তথা বিসিবি’র প্রতি।

বিসিবির অভিযোগের তীরও বেশ বিষাক্ত। ক্রিকেটারদের সাথে দূরত্ব, সিনিয়রদের সাথে মনোমালিন্য, স্টাফদের সাথে বাজে ব্যবহার, বোলিং কোচ কিংবদন্তী অ্যালান ডোনাল্ডের সাথে তিক্ত সম্পর্ক, ব্যাটিং কোচ জেমি সিডন্স থেকে পরিকল্পনা দূরে রাখা; এককথায় একক কর্তৃত্ব আর ব্যাপক উদাসীনতা। আর সব থেকে বড় টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যর্থতা।

প্রশ্ন এবার উঠতেই পারে, এত বিস্তর অভিযোগ কিভাবে রইল চাপা? কেনই আরো আগেই মুখ খুললেন না তারা! স্বার্থের সঙ্ঘাত না হলে কি কখনো অভিযোগগুলো আসত সামনে, আর বিসিবিও তো ডমিঙ্গোর দোষগুলো রেখে দিতো আঁধারে। অনেকটা ছোট বেলার সেই ছড়ার মতো, ‘আমরা দুই ভাই, মিলে মিশে খাই।’ অর্থাৎ একে অপরকে ছায়া দিয়ে গেছে, দোষগুলো আগলে রেখেছে, বন্ধুর মতো পথ চলেছে। কিন্তু যখন স্বার্থে টান দিলো, বের হয়ে এলো সব অভিযোগ। যদি স্বার্থের টান না পড়ত, তবে…

স্বার্থের সঙ্ঘাতে মুখোশ উন্মোচনের দিনে বাংলাদেশ ক্রিকেটের কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরেছে ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা। “কে অধিনায়ক, কে কোচ দেখার প্রয়োজন নেই, বাংলাদেশ ক্রিকেটে ‘হাসান রাজা’।” শিরোনামে তারা লিখেছে-

‘তিনি চাইলে খেলতে না চাওয়া ক্রিকেটারকে খেলিয়ে দিতে পারেন। তিনি চাইলে দেশের অধিনায়ক পাল্টে যেতে পারে। তিনি চাইলে এশিয়া কাপের মতো প্রতিযোগিতায় কোচ ছাড়া যেতে পারে দল। বাংলাদেশ ক্রিকেটে কান পাতলে শোনা যায়, সবই তার ইচ্ছা। তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান।’

তারা কি ভুল বলেছে? ক্রিকেটার, ক্রিকেটবোদ্ধা আর সমর্থকদের ইচ্ছার বাইরে গিয়ে কোন এক অজানা কারণে, ‘কোচ পাওয়া যাবে না’- এই শিশুসুলভ অজুহাতে আরো দুই বছর চুক্তি তো তিনিই বাড়িয়ে ছিলেন। বাড়িয়ে দিয়েছিলেন বেতনও। তবুও যখন রাসেল ডমিঙ্গোই বুড়ো আঙুল দেখালেন, তখন বিসিবি বলতেই পারে ‘দুধ কলা দিয়ে কালসাপ পুষলাম!’ তবে ডমিঙ্গোরই বা দোষ কী, নিয়মিত দুধ কলা খাওয়া সাপের হঠাৎ খাবার বন্ধ হয়ে গেলে হিংস্র তো সে হয়েই উঠবে।

বিপরীতে একটা দলের প্রধান কোচ হিসেবে থাকাকালে একটা টুর্নামেন্ট চলাকালে রাসেল ডমিঙ্গোর এমন হা-হুতাশ কি আপনার মনে সামান্য সংশয়ের জন্ম দেয় না? তার এমন বক্তব্য কি ক্রিকেটারদের মানসিকতায় প্রভাব ফেলবে না? তিনি যে ইচ্ছা করেই এমন করছেন না, তাই বা বলি কিভাবে?

তাছাড়া, সংবাদ মাধ্যমকে যেভাবে ব্যবহার করছেন তিনি, তাকে ‘অপব্যবহার’ হিসেবেই আখ্যা দেয়া যায়। কখনো বলছেন যে সিনিয়ররা বন্ধু, কখনো বলছেন তারা শত্রু। আবার কখনো বলছেন, তিনি বাংলাদেশকে বিদায় বলেছেন, ফিরবেন না কখনো। আবার কখনো ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে দোষটা চাপিয়ে দিচ্ছেন সংবাদমাধ্যমের ঘাড়ে।

তবে দিনশেষে দুই পক্ষই আছে দোষে। বিসিবি অনেক ক্ষেত্রেই দোষী, তা জানি, মানি, বিশ্বাস করি। কিন্তু প্রশ্ন একটাই, এত ক্ষোভ, এত অভিযোগ এত দিন কেন প্রকাশ করলেন না ডমিঙ্গো? স্বার্থের টানে সত্য লুকানোয় তো তিনিও অপরাধী। তবে তো বলাই যায় : ‘স্বার্থের সঙ্ঘাতে মুখোশ উন্মোচন!’

বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

স্বার্থের সঙ্ঘাতে মুখোশ উন্মোচন

আপডেট সময় : ০১:৩৭:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ অগাস্ট ২০২২

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

আগের দিন সাদা মনে সব মেনে নেয়া রাসেল ডমিঙ্গো লাল-সবুজ মানচিত্রের বাইরে পা রেখেই দেখালেন ভিন্নরূপ। প্রশ্ন তোলে ধরলেন, ছুঁড়ে দিলেন শত অভিযোগ। হাসিমুখের আড়ালে এত দুঃখ লুকিয়ে, তা কেইবা বুঝেছিল কবে৷

যাহোক অভিযোগে ফিরি, স্বাধীন দেশে পরাধীনতা আর মানসিক অস্থিরতার গল্প বলেছিলেন গতকাল। ধারাবাহিকতায় আজও মুখ খুললেন, ফের ক্রিকেটপাড়া টালমাটাল। খেলোয়াড়দের ওপর বর্বরতা, মানসিক অস্থিরতা, অভিজ্ঞদের সুযোগ নেয়া, তরুণদের দমিয়ে রাখা, পরিকল্পনায় হস্তক্ষেপ, অল্প ভুলেই খোঁচা আর কটুক্তি… আরো কত অভিযোগ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তথা বিসিবি’র প্রতি।

বিসিবির অভিযোগের তীরও বেশ বিষাক্ত। ক্রিকেটারদের সাথে দূরত্ব, সিনিয়রদের সাথে মনোমালিন্য, স্টাফদের সাথে বাজে ব্যবহার, বোলিং কোচ কিংবদন্তী অ্যালান ডোনাল্ডের সাথে তিক্ত সম্পর্ক, ব্যাটিং কোচ জেমি সিডন্স থেকে পরিকল্পনা দূরে রাখা; এককথায় একক কর্তৃত্ব আর ব্যাপক উদাসীনতা। আর সব থেকে বড় টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যর্থতা।

প্রশ্ন এবার উঠতেই পারে, এত বিস্তর অভিযোগ কিভাবে রইল চাপা? কেনই আরো আগেই মুখ খুললেন না তারা! স্বার্থের সঙ্ঘাত না হলে কি কখনো অভিযোগগুলো আসত সামনে, আর বিসিবিও তো ডমিঙ্গোর দোষগুলো রেখে দিতো আঁধারে। অনেকটা ছোট বেলার সেই ছড়ার মতো, ‘আমরা দুই ভাই, মিলে মিশে খাই।’ অর্থাৎ একে অপরকে ছায়া দিয়ে গেছে, দোষগুলো আগলে রেখেছে, বন্ধুর মতো পথ চলেছে। কিন্তু যখন স্বার্থে টান দিলো, বের হয়ে এলো সব অভিযোগ। যদি স্বার্থের টান না পড়ত, তবে…

স্বার্থের সঙ্ঘাতে মুখোশ উন্মোচনের দিনে বাংলাদেশ ক্রিকেটের কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরেছে ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা। “কে অধিনায়ক, কে কোচ দেখার প্রয়োজন নেই, বাংলাদেশ ক্রিকেটে ‘হাসান রাজা’।” শিরোনামে তারা লিখেছে-

‘তিনি চাইলে খেলতে না চাওয়া ক্রিকেটারকে খেলিয়ে দিতে পারেন। তিনি চাইলে দেশের অধিনায়ক পাল্টে যেতে পারে। তিনি চাইলে এশিয়া কাপের মতো প্রতিযোগিতায় কোচ ছাড়া যেতে পারে দল। বাংলাদেশ ক্রিকেটে কান পাতলে শোনা যায়, সবই তার ইচ্ছা। তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান।’

তারা কি ভুল বলেছে? ক্রিকেটার, ক্রিকেটবোদ্ধা আর সমর্থকদের ইচ্ছার বাইরে গিয়ে কোন এক অজানা কারণে, ‘কোচ পাওয়া যাবে না’- এই শিশুসুলভ অজুহাতে আরো দুই বছর চুক্তি তো তিনিই বাড়িয়ে ছিলেন। বাড়িয়ে দিয়েছিলেন বেতনও। তবুও যখন রাসেল ডমিঙ্গোই বুড়ো আঙুল দেখালেন, তখন বিসিবি বলতেই পারে ‘দুধ কলা দিয়ে কালসাপ পুষলাম!’ তবে ডমিঙ্গোরই বা দোষ কী, নিয়মিত দুধ কলা খাওয়া সাপের হঠাৎ খাবার বন্ধ হয়ে গেলে হিংস্র তো সে হয়েই উঠবে।

বিপরীতে একটা দলের প্রধান কোচ হিসেবে থাকাকালে একটা টুর্নামেন্ট চলাকালে রাসেল ডমিঙ্গোর এমন হা-হুতাশ কি আপনার মনে সামান্য সংশয়ের জন্ম দেয় না? তার এমন বক্তব্য কি ক্রিকেটারদের মানসিকতায় প্রভাব ফেলবে না? তিনি যে ইচ্ছা করেই এমন করছেন না, তাই বা বলি কিভাবে?

তাছাড়া, সংবাদ মাধ্যমকে যেভাবে ব্যবহার করছেন তিনি, তাকে ‘অপব্যবহার’ হিসেবেই আখ্যা দেয়া যায়। কখনো বলছেন যে সিনিয়ররা বন্ধু, কখনো বলছেন তারা শত্রু। আবার কখনো বলছেন, তিনি বাংলাদেশকে বিদায় বলেছেন, ফিরবেন না কখনো। আবার কখনো ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে দোষটা চাপিয়ে দিচ্ছেন সংবাদমাধ্যমের ঘাড়ে।

তবে দিনশেষে দুই পক্ষই আছে দোষে। বিসিবি অনেক ক্ষেত্রেই দোষী, তা জানি, মানি, বিশ্বাস করি। কিন্তু প্রশ্ন একটাই, এত ক্ষোভ, এত অভিযোগ এত দিন কেন প্রকাশ করলেন না ডমিঙ্গো? স্বার্থের টানে সত্য লুকানোয় তো তিনিও অপরাধী। তবে তো বলাই যায় : ‘স্বার্থের সঙ্ঘাতে মুখোশ উন্মোচন!’

বিডিসংবাদ/এএইচএস