বিদায় বার্সা, গ্রুপ সেরা বায়ার্ন
- আপডেট সময় : ১১:০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অক্টোবর ২০২২
- / 126
বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ
মাঠে নামার আগেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায় ঘণ্টা বেজে যায় বার্সেলোনার, ইউরোপা লিগে নেমে যাওয়ার সান্ত্বনাটুকুও পেল না বার্সা। কেবলই আনুষ্ঠানিকতার ম্যাচে জয় তো দূরে থাক ন্যূনতম লড়াইও করতে পারেনি তারা। পুরোটা সময় আধিপত্য ধরে রেখে দারুণ জয় তুলে নেয়ার পাশাপাশি গ্রুপ সেরাও হয়ে গেল বায়ার্ন মিউনিখ।
ক্যাম্প ন্যু’তে বুধবার রাতে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে বার্সেলোনাকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। গোল তিনটি করেছেন সাদিও মানে, এরিক মাক্সিম চুপো-মোটিং ও বেঞ্জামিন পাভার্ড। তিনটি গোলেই অবদান রেখে অ্যাসিস্টের হ্যাটট্রিক করেন সের্গে গিনাব্রি।
দিনের আগের ম্যাচে ভিক্টোরিয়া প্লাজেনকে ৪-০ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্বের টিকেট নিশ্চিত করে ইন্টার মিলান। সেই সাথে শেষ হয়ে যায় বার্সেলোনার পরের ধাপে ওঠার ক্ষীণ আশাটুকু।
বায়ার্নের জন্য ম্যাচটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিপক্ষের মলিনতার সুযোগে আসরে জয়ের ধারা ধরে রাখার পাশাপাশি নিশ্চিত করল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ-১৬’তে খেলবে তারা।
ম্যাচের দশম মিনিটে দারুণ এক প্রতি-আক্রমণে এগিয়ে যায় বায়ার্ন মিউনিখ। মাঝমাঠ থেকে থ্রু বল বাড়ান গিনাব্রি। গতিতে বার্সার এক ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে বল ধরে ডি-বক্সে ঢুকে কোনাকুনি শটে আগুয়ান গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন সেনেগালের ফরোয়ার্ড সাদিও মানে।
৩১তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এরিক মাক্সিম চুপো-মোটিং। এখানেও অ্যাসিস্টের ভূমিকায় গিনাব্রি। তার দারুণ পাস অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বক্সে ঢুকে গোলরক্ষক মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেনের দু’পায়ের ফাঁক দিয়ে বার্সার জালে বল পাঠান চুপো-মোটিং।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এই নিয়ে টানা তিন ম্যাচে গোলের দেখা পেলেন ক্যামেরুনের এই ফরোয়ার্ড।
বায়ার্ন খুব যে আগ্রাসী ফুটবল খেলছিল, তা নয়। কিন্তু বার্সেলোনা কোনোভাবেই সুবিধা করতে পারছিল না। প্রথম ৪০ মিনিটে উল্লেখযোগ্য কোনো আক্রমণই করতে পারেনি তারা, নিতে পারেনি গোলের উদ্দেশ্যে কোনো শট!
৪৩তম মিনিটে ব্যবধান আরো বাড়তে পারত। মানের চিপ শট গোলরক্ষককে ফাঁকি দিলেও ছিল না গতি, রক্ষণে প্রতিহত হওয়ার পর খুব কাছ থেকে চেষ্টা করেন জামাল মুসিয়ালা। সেটাও প্রতিহত হয়।
ওখান থেকেই শাণানো প্রতি-আক্রমণে গোল পেতে পারতেন রবার্ট লেভানডফস্কি। বায়ার্নের বক্সে তাদের ডিফেন্ডার মাটাইস ডি লিখটের চ্যালেঞ্জে পোলিশ তারকা পড়ে গেলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। তবে ভিএআর মনিটরে দেখে সিদ্ধান্ত পাল্টান রেফারি। ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় সফরকারী দল।
দ্বিতীয়ার্ধের দশম মিনিটে দারুণ বাঁকানো শটে দূরের পোস্ট দিয়ে বার্সার জালে বল পাঠান গিনাব্রি। তবে অফসাইডে থাকার কারণে গোলটি বাতিল হয়ে যায়।
এরপর বায়ার্নের ওপর কিছুক্ষণ চাপ দিতেও সক্ষম হয় স্বাগতিকরা। কিন্তু পুরো ম্যাচে লক্ষ্যে কেউ কোনো শট রাখতে পারেনি! তাদের ৯ শটের সবগুলোই লক্ষ্যভ্রষ্ট। অবশ্য প্রতিপক্ষকে তেমন ভাবাতেও পারেনি নিজেদের খুঁজে ফেরা দলটি।
যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে কর্নার থেকে বল পেয়ে দূরের পোস্টে বল বাড়ান গিনাব্রি। ফাঁকায় বল পেয়ে নিখুঁত টোকায় বার্সার জালে শেষ পেরেক ঠুকেন ফরাসি ডিফেন্ডার বেঞ্জামিন পাভার্ড। ইউরোপা লিগে অবনমনের পাশাপাশি ৩-০ গোলের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে জাভির শিষ্যরা।
লা লিগার শিরোপা লড়াইয়ে রিয়াল মাদ্রিদকে চ্যালেঞ্জ জানানো এই বার্সেলোনাই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সবশেষ চার ম্যাচে জয়শূন্য। ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে ৫-১ গোলের জয়ে আসর শুরুর পর হেরে বসে বায়ার্ন ও ইন্টারের মাঠে। এরপর ইতালিয়ান ক্লাবটির বিপক্ষে ঘরের মাঠে ড্র করার পর আবার হেরে বসল জার্মান চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে।
ইউরোপ সেরা প্রতিযোগিতার মতো বায়ার্নের বিপক্ষে তাদের বিবর্ণ পথচলা আরো দীর্ঘ হলো। এই নিয়ে ১৩ বারের দেখায় ১০টিতেই হারল বার্সেলোনা। এর মধ্যে সবশেষ ৬টিই হারল তারা। বাকি তিন ম্যাচে বার্সেলোনার জয় দুটি, অন্যটি ড্র।
পাঁচ রাউন্ডে শতভাগ সাফল্যে বায়ার্নের পয়েন্ট ১৫। ১০ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে ইন্টার। তৃতীয় হয়ে ইউরোপা লিগে অবনমিত বার্সেলোনার পয়েন্ট ৪।
‘ডি’ গ্রুপের জমজমাট লড়াই
শেষ হয়ে গেছে পাঁচ রাউন্ডের খেলা। কিন্তু এখনো এই গ্রুপ থেকে কারো নিশ্চিত হয়নি পরের ধাপের টিকেট। চার দলের সামনেই আছে নকআউট পর্বের সম্ভাবনা, আবার ছিটকে পড়ার শঙ্কাও।
এ দিন টটেনহ্যাম হটস্পারকে তাদের মাঠে ১-১ গোলে রুখে দিয়েছে স্পোর্টিং লিসবন। আর অলিম্পিক মার্শেইকে ২-১ গোলে হারিয়েছে আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট।
৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে টটেনহ্যাম। স্পোর্টিং ও ফ্রাঙ্কফুর্টের পয়েন্ট সমান ৭ করে। ৬ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে মার্শেই।
বিডিসংবাদ/এএইচএস

























