ঢাকা ০১:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলে ঝড়ো হাওয়ার শঙ্কা, ৪ বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত তানজিদ-মোমিনুলের সেঞ্চুরির জুটিতে লিডের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় ‘লালা’র আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা ‘এক সংস্কৃতির’ আহ্বান প্রত্যাখ্যান অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তীব্র গরমে দুর্বিষহ দিন কাটছে পাকিস্তানের খেজুর শ্রমিকদের বাঁ-হাতি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড স্টার্কের এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে পদক লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে পারে ভারত-পাকিস্তান কোকোর নামে বগুড়ায় জাতীয় প্যারা স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কারাবন্দি ও পলাতক আসামিদের জন্য সাধারণ ক্ষমা আইন পাস করল লেবানন মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনের পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত দাবি সিনেটরদের

দ্রব্যমূল্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে প্রথম আলোর সাংবাদিককে তুলে নেয়ার অভিযোগ

  • আপডেট সময় : ০৭:৫১:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ মার্চ ২০২৩
  • / 135
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

স্বাধীনতা দিবসে দ্রব্যমূল্য নিয়ে করা একটি সংবাদের জের ধরে প্রথম আলো পত্রিকার এক সাংবাদিককে মধ্যরাতে সাদা পোশাকের একদল ব্যক্তি দিয়ে ধরে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সাংবাদিক শামসুজ্জামান শামস দৈনিক প্রথম আলোর সাভার প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন।

প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরীফ এ ঘটনা নিশ্চিত করে বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ‘আমাদের সাভার প্রতিনিধিকে গতকাল মধ্যরাতে সিআইডি পরিচয় দিয়ে সাদা পোশাকে ধরে নিয়ে গেছে। এরপর থেকে এখনো আমরা তার কোনো খোঁজ পাইনি। এ বিষয়ে আমরা আইনানুগভাবে যেসব পদক্ষেপ নেয়ার সেভাবেই পদক্ষেপ নেব।’

তবে সিআইডি বা স্থানীয় পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছে, এ আটকের বিষয়টি তাদের জানা নেই।

ওই সময় জাহাঙ্গীরনগরের আমবাগান এলাকায় শামসের বাসায় ছিলেন ঢাকার আরেকটি পত্রিকার আরেকজন সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম সাব্বির।

তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, রাত ৪টার দিকে তিনটি মাইক্রোবাস নিয়ে সাদা পোশাকের একদল লোক বাসা থেকে শামসুজ্জামান শামসকে ধরে নিয়ে যায়। তারা তার ল্যাপটপ, দুটি মোবাইল ফোন, পেনড্রাইভ, কম্পিউটারের হার্ডডিস্কও নিয়ে যায়। সেই সময় সাব্বিরকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারা নিজেদের সিআইডির টিম বলে পরিচয় দিয়ে জানিয়েছে যে তারা ঢাকা থেকে এসেছে।

প্রথম দফায় তাকে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরে ওই দলটি আবার বাসায় ফিরে আসে। এরপর তারা বাসায় এসে একটি জব্দ তালিকায় সাব্বির ও বাড়িওয়ালার স্বাক্ষর নিয়ে যায়। এরপর থেকে শামসুজ্জামান শামসের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।

তবে দ্বিতীয়বার বাসায় যাওয়ার সময় আশুলিয়া থানার একজন উপ-পরিদর্শক ওই টিমের সাথে ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোন করে পাওয়া যায়নি।

সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম সাব্বির বলেন, ‘আটকের সময় সাদা পোশাকের ব্যক্তিরা বলেছেন, রাষ্ট্রবিরোধী মাছ-ভাতের সংবাদের কারণে তাকে আটক করা হয়েছে।’

২৬ মার্চ দৈনিক প্রথম আলোয় প্রকাশিত একটি সংবাদে একজন দিনমজুরের বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছিল, সেখানে উদ্বৃত করা হয়, ‘পেটে ভাত না জুটলে স্বাধীনতা দিয়া কী করুম। বাজারে গেলে ঘাম ছুটে যায়। আমাগো মাছ, মাংস আর চাইলের স্বাধীনতা লাগব।’

ওই সংবাদের সাথে একটি শিশুর ছবি ছিল, যে গ্রিলের ফাঁকা দিয়ে স্মৃতিসৌধের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হলে প্রথম আলো ওই খবরটি সংশোধন করে।

প্রথম আলোর পক্ষ থেকে একটি বিবৃতিতে বলা হয়, প্রথমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম ও ব্যবহার করা ছবির মধ্যে অসঙ্গতি থাকায় ছবিটি তুলে নেয়া হয়েছে এবং শিরোনাম সংশোধন করা হয়েছে।

ঢাকায় সিআইডি সদর দফতরে যোগাযোগ করা হলে এই গ্রেফতার বা আটকের বিষয়ে কোনো তথ্য জানাতে পারেননি কর্মকর্তারা।

সূত্র : বিবিসি

বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

দ্রব্যমূল্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে প্রথম আলোর সাংবাদিককে তুলে নেয়ার অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৭:৫১:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ মার্চ ২০২৩

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

স্বাধীনতা দিবসে দ্রব্যমূল্য নিয়ে করা একটি সংবাদের জের ধরে প্রথম আলো পত্রিকার এক সাংবাদিককে মধ্যরাতে সাদা পোশাকের একদল ব্যক্তি দিয়ে ধরে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সাংবাদিক শামসুজ্জামান শামস দৈনিক প্রথম আলোর সাভার প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন।

প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরীফ এ ঘটনা নিশ্চিত করে বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ‘আমাদের সাভার প্রতিনিধিকে গতকাল মধ্যরাতে সিআইডি পরিচয় দিয়ে সাদা পোশাকে ধরে নিয়ে গেছে। এরপর থেকে এখনো আমরা তার কোনো খোঁজ পাইনি। এ বিষয়ে আমরা আইনানুগভাবে যেসব পদক্ষেপ নেয়ার সেভাবেই পদক্ষেপ নেব।’

তবে সিআইডি বা স্থানীয় পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছে, এ আটকের বিষয়টি তাদের জানা নেই।

ওই সময় জাহাঙ্গীরনগরের আমবাগান এলাকায় শামসের বাসায় ছিলেন ঢাকার আরেকটি পত্রিকার আরেকজন সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম সাব্বির।

তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, রাত ৪টার দিকে তিনটি মাইক্রোবাস নিয়ে সাদা পোশাকের একদল লোক বাসা থেকে শামসুজ্জামান শামসকে ধরে নিয়ে যায়। তারা তার ল্যাপটপ, দুটি মোবাইল ফোন, পেনড্রাইভ, কম্পিউটারের হার্ডডিস্কও নিয়ে যায়। সেই সময় সাব্বিরকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারা নিজেদের সিআইডির টিম বলে পরিচয় দিয়ে জানিয়েছে যে তারা ঢাকা থেকে এসেছে।

প্রথম দফায় তাকে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরে ওই দলটি আবার বাসায় ফিরে আসে। এরপর তারা বাসায় এসে একটি জব্দ তালিকায় সাব্বির ও বাড়িওয়ালার স্বাক্ষর নিয়ে যায়। এরপর থেকে শামসুজ্জামান শামসের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।

তবে দ্বিতীয়বার বাসায় যাওয়ার সময় আশুলিয়া থানার একজন উপ-পরিদর্শক ওই টিমের সাথে ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোন করে পাওয়া যায়নি।

সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম সাব্বির বলেন, ‘আটকের সময় সাদা পোশাকের ব্যক্তিরা বলেছেন, রাষ্ট্রবিরোধী মাছ-ভাতের সংবাদের কারণে তাকে আটক করা হয়েছে।’

২৬ মার্চ দৈনিক প্রথম আলোয় প্রকাশিত একটি সংবাদে একজন দিনমজুরের বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছিল, সেখানে উদ্বৃত করা হয়, ‘পেটে ভাত না জুটলে স্বাধীনতা দিয়া কী করুম। বাজারে গেলে ঘাম ছুটে যায়। আমাগো মাছ, মাংস আর চাইলের স্বাধীনতা লাগব।’

ওই সংবাদের সাথে একটি শিশুর ছবি ছিল, যে গ্রিলের ফাঁকা দিয়ে স্মৃতিসৌধের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হলে প্রথম আলো ওই খবরটি সংশোধন করে।

প্রথম আলোর পক্ষ থেকে একটি বিবৃতিতে বলা হয়, প্রথমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম ও ব্যবহার করা ছবির মধ্যে অসঙ্গতি থাকায় ছবিটি তুলে নেয়া হয়েছে এবং শিরোনাম সংশোধন করা হয়েছে।

ঢাকায় সিআইডি সদর দফতরে যোগাযোগ করা হলে এই গ্রেফতার বা আটকের বিষয়ে কোনো তথ্য জানাতে পারেননি কর্মকর্তারা।

সূত্র : বিবিসি

বিডিসংবাদ/এএইচএস