ঢাবির হলে রাতভর ছাত্রলীগের কাণ্ড!
- আপডেট সময় : ১২:৪৪:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ মার্চ ২০১৭
- / 227
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের বিভিন্ন কক্ষে গতকাল সোমবার গভীর রাতে দলীয় কর্মীদের তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেছে শাখা ছাত্রলীগ। পরে শিক্ষার্থীদের বাধা পেয়ে প্রাধ্যক্ষের কক্ষে ভাংচুর ও রাতভর বিক্ষোভ দেখিয়েছেন হল ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা।
এ সময় সিট দখলে বাধা দেওয়ায় একটি বার্তা সংস্থার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে আজ মঙ্গলবার ভোররাত সাড়ে চারটা পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে।
আবাসিক শিক্ষার্থীরা জানান, হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফকির রাসেল ও সাধারণ সম্পাদক নয়ন হাওলাদারের অনুসারীরা রাত ১২টার পর পদ্মা ব্লকের বিভিন্ন কক্ষে জোর করে নিজেদের কর্মীদের তুলতে চাইলে বাধার মুখে পড়েন। এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা হাউজ টিউটরকে বিষয়টি অবগত করেন। খবর পেয়ে হাউজ টিউটররা ছাত্রলীগকর্মীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলেও উল্টো ক্ষেপে যায় তারা। এক পর্যায়ে শিক্ষকদের বাধার মুখে রাত সোয়া ১টার দিকে তারা হল প্রাধ্যক্ষের রুমের জানালার কাচ ভেঙে দেয় এবং হলে হট্টগোল সৃষ্টি করে।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে হলের পদ্মা ব্লকের এক ছাত্র জানান, হঠাৎ করে ছাত্রলীগ বিভিন্ন রুমে নিজেদের কর্মী তুলে দিতে যায়। একইভাবে আমাদের রুমেও আসে। আমরা রুমের ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে স্যারদের খবর দিই। কিন্তু তারা রুমে দরজা ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে খুলতে বাধ্য হই।
তিনি জানান, হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নয়ন হওলাদারের অনুসারীরা ৫০০৩ নম্বর কক্ষে গেলে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ইমরান বিজয়ের সঙ্গে তাদের বাদানুবাদ হয়। এ সময় ইমরানকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। রাতে প্রাধ্যক্ষ অফিস থেকে বের হয়ে ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আবিদ আল হাসান হলের কর্মীদের সঙ্গে ইমরানের বিষয়টি মিটমাট করে দেন। এরপর রাত সাড়ে ৩টার দিকে ইমরান নিজের কক্ষে যাওয়ায় সময় নয়নের অনুসারী ১০-১২ জন তাকে মারধর করে বলে জানান ওই শিক্ষার্থী।
পরে প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক এম আমজাদ আলী এবং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান এসে পরিস্থিত শান্ত করেন। আবিদ আল হাসান বিভিন্ন কক্ষে জোর করে তোলা কর্মীদের সরিয়ে নিতে বললে হল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাদের ফিরিয়ে নেন বলে শিক্ষার্থীরা জানান।
সার্বিক বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এ জে এম শফিউল আলম ভূঁঁইয়া বলেন, যারা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করেছে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান বলেন, হল প্রাধ্যক্ষের রুম ভাঙচুরের ঘটনায় যদি ছাত্রলীগের কেউ জড়িত থাকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ বিষয়ে ছাত্রলীগ বিজয় একাত্তর হল শাখার সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য জানা যায়নি।




















