প্রধান শিক্ষকের কানের পর্দা ফাটালেন আ.লীগ নেতা
- আপডেট সময় : ০১:২৮:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ এপ্রিল ২০১৭
- / 204
রাজশাহীর দুর্গাপুরে স্কুলে ঢুকে প্রধান শিক্ষকসহ তিন জনকে হাতুড়ি পেটা করেছেন স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা। পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে বুধবার দুপুরে উপজেলার কালীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।
আহতরা হলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেন (৫৫), সহকারী শিক্ষক (শরীর চর্চা) সাইফুল ইসলাম (৪০) ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল গফুর শাহর ছেলে রবিউল ইসলাম (৪২)।
এদের মধ্যে মকবুল হোসেনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। অন্য দুইজন উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দুর্গাপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. দেওয়ান নাজমুল আলম জানান, আহতদের মধ্যে প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেনের ডান চোখের নিচে হাতুড়ির আঘাত রয়েছে। এছাড়া ডান কানের পর্দা ফেটে রক্ত বের হচ্ছে তার। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। এছাড়া রবিউল ইসলামের বাম হাতের আঙ্গুলে চারটি সেলাই দেয়া হয়েছে। মারপিটে আহত হয়েছে সাইফুল ইসলামও। তারা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন।
আহতদের অভিযোগ, পিস্তল ঠেকিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল মজিদ সরদার দলবল নিয়ে এ তাণ্ডব চালিয়েছেন। এনিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আইনত ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানিয়েছে পুলিশ।
আহত প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেন জানান, কয়েকদিন আগে বিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্যে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডে তালিকা পাঠানো হয়। তাকে না জানিয়ে ওই তালিকা কেন পাঠানো হলো এমন অভিযোগ নিয়ে বুধবার বিদ্যালয়ে দলবল নিয়ে প্রবেশ করেন আব্দুল মজিদ।
অফিস কক্ষে ঢুকে তাকে মারপিট করতে করতে টেনে হিঁচড়ে বের করেন অফিস থেকে। এসময় তাকে বাঁচাতে সহকারী শিক্ষক সাইফুল ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির ছেলে রবিউল ইসলাম এগিয়ে এলে পিস্তল ঠেকিয়ে তাদের সরিয়ে দেন। পরে জিম্মি করে তিনজনকেই বেধড়ক লাঠি ও হাতুড়ি পেটা করেন মজিদ ও তার লোকজন।
দুর্গাপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে গেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ নিয়ে আইনত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।


























