বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে জবি শিক্ষক সমিতির নানা আয়োজন
- আপডেট সময় : ০৮:৫৯:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
- / 63
বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) বেগম খালেদা জিয়া স্মরণে প্রবন্ধ উপস্থাপন, স্মরণসভা, চিত্র প্রদর্শনী ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সোমবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শিক্ষক সমিতির আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে ‘বেগম খালেদা জিয়া : জাতীয় আস্থা ও নির্ভরতার প্রতিচ্ছবি’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা করেছিলেন এবং বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সেই গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি সুদৃঢ় হয়। ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করার ক্ষেত্রে তাঁর নেতৃত্ব ঐতিহাসিক।
তিনি আরও বলেন, জোর করে মানুষের মনে স্থান করে নেওয়া যায় না। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, জনগণের ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন করেই একজন নেতা চিরস্মরণীয় হন। বেগম খালেদা জিয়া জনগণের হৃদয়ে স্বাভাবিকভাবেই স্থান করে নিয়েছেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার তাঁকে আজীবন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে এবং ভবিষ্যতে তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে একাডেমিক গবেষণা পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে ‘বেগম খালেদা জিয়া : জাতীয় আস্থা ও নির্ভরতার প্রতিচ্ছবি’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. তারেক মুহাম্মদ শামসুল আরেফীন। প্রবন্ধে তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক সংস্কার, সামাজিক নীতিনির্ধারণ এবং নারী শিক্ষার প্রসারে বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের বিস্তারিত আলোচনা করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৯১ সালে গণতান্ত্রিক সরকারের মাধ্যমে জনগণের আস্থার প্রতিদান দেন বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর নেতৃত্বে রাজস্ব ব্যবস্থায় ভ্যাট চালু, অর্থনৈতিক সংস্কার, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, নারী শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং যৌতুক ও এসিড সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। প্রবন্ধে বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও রাজনৈতিক সংগ্রাম নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণা ও স্টাডি সেন্টার গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।
স্মরণসভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন সৎ, দেশপ্রেমিক ও ধৈর্যশীল রাষ্ট্রনায়ক। তাঁর রাজনৈতিক জীবন ছিল ত্যাগ ও সংগ্রামে পরিপূর্ণ। পরিবেশ নীতি প্রণয়ন, জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত উদ্যোগসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতি তাঁর অবিচল অবস্থান জনগণের আস্থার প্রতীক হয়ে থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ উপলক্ষে শহীদ সাজিদ ভবনের নিচতলায় দিনব্যাপী স্থিরচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়, যেখানে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সময়ের আলোকচিত্র প্রদর্শিত হয়। এছাড়া বাদ জোহর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়।
স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন এবং জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন।
অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক রইছ উদ্দীন ও সঞ্চালনা করেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন শিক্ষক সমিতির সদস্য অধ্যাপক ড. নাছির আহমাদ।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, প্রক্টর, হল প্রভোস্ট, দপ্তর প্রধান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিডিসংবাদ/এএইচএস

























