ঢাকা ০১:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

দেশজুড়ে অস্ত্রের ব্যবহার ও অপরাধ নিয়ে জনমনে বাড়ছে শঙ্কা

  • আপডেট সময় : ০১:০২:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে সম্প্রতি লক্ষ্যভিত্তিক গুলির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। চায়ের দোকান, মসজিদ কিংবা নিজ বাসভবনের সামনে প্রকাশ্যে এভাবে মানুষ হত্যার ঘটনা জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি করেছে। মোটরসাইকেলে হেলমেট পরে আসা হামলাকারীরা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এসব সহিংসতা ঘটিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করছে। মোটরসাইকেলে এসে হেলমেট পরা হামলাকারীরা খুব কাছ থেকে গুলি ছুড়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি ঘটনায় প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে হামলাকারীদের পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি ভাবিয়ে তুলছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারীদের। রাজধানীতেও থামছে না লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড।

তদন্তকারী ও সংশ্লিষ্টদের মতে, আধিপত্য বিস্তার, স্থানীয় বিরোধ, চাঁদাবাজি এবং মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করেই মূলত এই হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটছে। এ ধরনের অপরাধের পেছনে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রের উৎস নিয়েও বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্থাপনা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনও অপরাধীদের হাতে রয়েছে। এছাড়া সীমান্তপথে চোরাচালানের মাধ্যমেও অবৈধ অস্ত্রের অনুপ্রবেশ ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে অস্ত্রের উৎস শনাক্ত, সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া এবং অপরাধ সংঘটনের আগেই অস্ত্রধারীদের শনাক্ত করার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকে’ নামে একটি ফেসবুক পেজে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধ নিয়ে লেখালেখি করতেন। চট্টগ্রামে গত আগস্টে এক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তারের অভিযানে পুলিশের দিকে ছোড়া গুলিতে ব্যবহৃত পিস্তল পরীক্ষা করে সেটি ২০২৪ সালে কোতোয়ালি থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র হিসেবে শনাক্ত করা হয়। অন্যদিকে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা দিয়ে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র প্রবেশের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

সাম্প্রতিক সহিংসতার চিত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৫ অক্টোবর রাতে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে চায়ের দোকানের সামনে গুলি করে হত্যা করা হয়। কয়েক দিনের ব্যবধানে একের পর এক গুলি করে হত্যা।

এ ঘটনায় ১৮ অক্টোবর একজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

তার রেশ কাটতে না কাটতেই ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজবাড়ী শহরের সজ্জনকান্দায় পিয়ারুল সরদারকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

পুলিশ জানায়, নিহত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র ও খুনের অভিযোগে মোট ১৩টি মামলা ছিল। একই দিন গভীর রাতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে তারেক হোসেন বাপ্পি নামে এক যুবক নিহত হন। সেই ঘটনায় তাফসির আলম শাওন নামে আরেকজন গুলিবিদ্ধ হন, যারা অলিনগর এলাকায় অতর্কিত হামলার শিকার হয়েছিলেন। বুকে গুলিবিদ্ধ পিয়ারুলকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর সঙ্গে থাকা আরেক ব্যক্তিও গুলিবিদ্ধ হন।

খুলনার রূপসা উপজেলায় গত ৫ অক্টোবর আক্তার ঢালীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর প্রায় ৫০ দিন আগে তাঁর ছেলে জয় ঢালীকেও একইভাবে হত্যা করা হয়েছিল। ছেলের হত্যা মামলার বাদীকে গুলি করে হত্যার ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দাদের আতঙ্কিত করেছে। এর একদিন আগে ৪ অক্টোবর খুলনার দিঘলিয়ায় নাসিমুল গণি করিম নামে একজনকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। এছাড়া ১৭ অক্টোবর খুলনা নগরীর পশ্চিম টুটপাড়া এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা শেখ জুম্মান রহমান বিশালকে গুলি করে মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়।

রাজধানী ও এর আশেপাশেও একই ধরণের লক্ষ্যভিত্তিক সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর কেরানীগঞ্জের আরশীনগরে ফরহাদ হোসেন নামে এক যুবককে সেলুনে ঢুকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এর আগে ১২ জুন রামপুরা-হাতিরঝিল এলাকায় সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান পলাশ গুলিবিদ্ধ হন এবং ২০ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি কাওরান বাজারে বসুন্ধরা সিটির পেছনেও ঘটে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি রাজধানীর কাওরান বাজারে বসুন্ধরা সিটি শপিং মলের পেছনে গুলি করে হত্যা করা হয় ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মোসাব্বিরকে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে দেশে ২ হাজার ৬৫৯টি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে হয়েছে ৮৮১টি। অস্ত্রের উৎস সন্ধানে পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, ৫ আগস্টের পর ৫ হাজার ৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়েছিল। ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪ হাজার ৪৫৭টি উদ্ধার হলেও এখনও ১ হাজার ৩০৬টি অস্ত্র নিখোঁজ রয়েছে। চট্টগ্রাম ও মিরপুরে উদ্ধার হওয়া কিছু অস্ত্রের সঙ্গে থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের মিল পাওয়ার তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে। শুধু অস্ত্র নয়, একই সময়ে লুট হওয়া ৬ লাখ ৫২ হাজার ৮টি গোলাবারুদের মধ্যে ২ লাখ ৫৭ হাজার ১১৩টি উদ্ধার হয়নি। দুই বছরের বেশি সময় পরও বিপুলসংখ্যক আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নিয়মিত অভিযান জোরদার করা হয়েছে। রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম এবং তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান জানান, অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, অপরাধীদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের সমন্বয়ের দায়িত্ব পাওয়া স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানিয়েছেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে তাদের সমন্বিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সাবেক আইজিপি বাহারুল আল বলেন, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার এখন বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জ। তিনি অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করার তাগিদ দেন। তিনি বেসরকারি আইপিটিভি চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি ছিলেন।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. কুদরাত-ই-খুদা বলেন, দলীয় অবস্থান ও আধিপত্য বিস্তারের প্রবণতা সহিংসতাকে উসকে দিচ্ছে। আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ঘটনাগুলো নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযানের পাশাপাশি বিচারিক কার্যক্রমের গতি বাড়ানো প্রয়োজন। অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের মাথাচাড়া দেওয়ার পথ বন্ধ করতে কঠোর নজরদারি ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

দেশজুড়ে অস্ত্রের ব্যবহার ও অপরাধ নিয়ে জনমনে বাড়ছে শঙ্কা

আপডেট সময় : ০১:০২:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে সম্প্রতি লক্ষ্যভিত্তিক গুলির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। চায়ের দোকান, মসজিদ কিংবা নিজ বাসভবনের সামনে প্রকাশ্যে এভাবে মানুষ হত্যার ঘটনা জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি করেছে। মোটরসাইকেলে হেলমেট পরে আসা হামলাকারীরা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এসব সহিংসতা ঘটিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করছে। মোটরসাইকেলে এসে হেলমেট পরা হামলাকারীরা খুব কাছ থেকে গুলি ছুড়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি ঘটনায় প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে হামলাকারীদের পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি ভাবিয়ে তুলছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারীদের। রাজধানীতেও থামছে না লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড।

তদন্তকারী ও সংশ্লিষ্টদের মতে, আধিপত্য বিস্তার, স্থানীয় বিরোধ, চাঁদাবাজি এবং মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করেই মূলত এই হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটছে। এ ধরনের অপরাধের পেছনে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রের উৎস নিয়েও বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্থাপনা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনও অপরাধীদের হাতে রয়েছে। এছাড়া সীমান্তপথে চোরাচালানের মাধ্যমেও অবৈধ অস্ত্রের অনুপ্রবেশ ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে অস্ত্রের উৎস শনাক্ত, সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া এবং অপরাধ সংঘটনের আগেই অস্ত্রধারীদের শনাক্ত করার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকে’ নামে একটি ফেসবুক পেজে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধ নিয়ে লেখালেখি করতেন। চট্টগ্রামে গত আগস্টে এক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তারের অভিযানে পুলিশের দিকে ছোড়া গুলিতে ব্যবহৃত পিস্তল পরীক্ষা করে সেটি ২০২৪ সালে কোতোয়ালি থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র হিসেবে শনাক্ত করা হয়। অন্যদিকে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা দিয়ে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র প্রবেশের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

সাম্প্রতিক সহিংসতার চিত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৫ অক্টোবর রাতে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে চায়ের দোকানের সামনে গুলি করে হত্যা করা হয়। কয়েক দিনের ব্যবধানে একের পর এক গুলি করে হত্যা।

এ ঘটনায় ১৮ অক্টোবর একজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

তার রেশ কাটতে না কাটতেই ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজবাড়ী শহরের সজ্জনকান্দায় পিয়ারুল সরদারকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

পুলিশ জানায়, নিহত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র ও খুনের অভিযোগে মোট ১৩টি মামলা ছিল। একই দিন গভীর রাতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে তারেক হোসেন বাপ্পি নামে এক যুবক নিহত হন। সেই ঘটনায় তাফসির আলম শাওন নামে আরেকজন গুলিবিদ্ধ হন, যারা অলিনগর এলাকায় অতর্কিত হামলার শিকার হয়েছিলেন। বুকে গুলিবিদ্ধ পিয়ারুলকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর সঙ্গে থাকা আরেক ব্যক্তিও গুলিবিদ্ধ হন।

খুলনার রূপসা উপজেলায় গত ৫ অক্টোবর আক্তার ঢালীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর প্রায় ৫০ দিন আগে তাঁর ছেলে জয় ঢালীকেও একইভাবে হত্যা করা হয়েছিল। ছেলের হত্যা মামলার বাদীকে গুলি করে হত্যার ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দাদের আতঙ্কিত করেছে। এর একদিন আগে ৪ অক্টোবর খুলনার দিঘলিয়ায় নাসিমুল গণি করিম নামে একজনকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। এছাড়া ১৭ অক্টোবর খুলনা নগরীর পশ্চিম টুটপাড়া এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা শেখ জুম্মান রহমান বিশালকে গুলি করে মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়।

রাজধানী ও এর আশেপাশেও একই ধরণের লক্ষ্যভিত্তিক সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর কেরানীগঞ্জের আরশীনগরে ফরহাদ হোসেন নামে এক যুবককে সেলুনে ঢুকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এর আগে ১২ জুন রামপুরা-হাতিরঝিল এলাকায় সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান পলাশ গুলিবিদ্ধ হন এবং ২০ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি কাওরান বাজারে বসুন্ধরা সিটির পেছনেও ঘটে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি রাজধানীর কাওরান বাজারে বসুন্ধরা সিটি শপিং মলের পেছনে গুলি করে হত্যা করা হয় ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মোসাব্বিরকে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে দেশে ২ হাজার ৬৫৯টি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে হয়েছে ৮৮১টি। অস্ত্রের উৎস সন্ধানে পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, ৫ আগস্টের পর ৫ হাজার ৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়েছিল। ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪ হাজার ৪৫৭টি উদ্ধার হলেও এখনও ১ হাজার ৩০৬টি অস্ত্র নিখোঁজ রয়েছে। চট্টগ্রাম ও মিরপুরে উদ্ধার হওয়া কিছু অস্ত্রের সঙ্গে থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের মিল পাওয়ার তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে। শুধু অস্ত্র নয়, একই সময়ে লুট হওয়া ৬ লাখ ৫২ হাজার ৮টি গোলাবারুদের মধ্যে ২ লাখ ৫৭ হাজার ১১৩টি উদ্ধার হয়নি। দুই বছরের বেশি সময় পরও বিপুলসংখ্যক আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নিয়মিত অভিযান জোরদার করা হয়েছে। রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম এবং তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান জানান, অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, অপরাধীদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের সমন্বয়ের দায়িত্ব পাওয়া স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানিয়েছেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে তাদের সমন্বিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সাবেক আইজিপি বাহারুল আল বলেন, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার এখন বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জ। তিনি অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করার তাগিদ দেন। তিনি বেসরকারি আইপিটিভি চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি ছিলেন।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. কুদরাত-ই-খুদা বলেন, দলীয় অবস্থান ও আধিপত্য বিস্তারের প্রবণতা সহিংসতাকে উসকে দিচ্ছে। আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ঘটনাগুলো নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযানের পাশাপাশি বিচারিক কার্যক্রমের গতি বাড়ানো প্রয়োজন। অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের মাথাচাড়া দেওয়ার পথ বন্ধ করতে কঠোর নজরদারি ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।