ঢাকা ১২:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিরাপত্তা উদ্বেগে সৌদি আরবে বাড়ছে প্রাইভেট জেটের ভাড়া

  • আপডেট সময় : ১২:৩১:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার পরবর্তী পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে বিমান চলাচল ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ও তীব্র নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই অস্থিরতার কারণে ধনী যাত্রী, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে নিয়মিত ফ্লাইটের পরিবর্তে ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ বা প্রাইভেট জেটে দেশ ছাড়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে বেশ কিছু রুটে প্রাইভেট জেটের ভাড়া ৫০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

অক্টোবরের শুরুর দিকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ঘটে, যার দায় স্বীকার করে হুথি বিদ্রোহীরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণের দাবি করেছিল। এই ঘটনার পরপরই বিমানবন্দরটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থবির হয়ে পড়ে এবং লুফথানসা, এয়ার ইন্ডিয়া ও ইন্ডিগোর মতো আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলো তাদের ফ্লাইট স্থগিত বা বাতিল করতে বাধ্য হয়। যদিও পরবর্তী সময়ে বিমানবন্দরটি সীমিত পরিসরে সচল হয়েছে, তবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।

ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ ভাড়াদাতা প্রতিষ্ঠান ‘লাক্স জেটস’-এর তথ্য অনুযায়ী, ভাড়ার এই উল্লম্ফন বেশ স্পষ্ট। উদাহরণস্বরূপ, সৌদি আরবের আল-কাসিম বিমানবন্দর থেকে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ১৪ আসনের একটি বোম্বার্ডিয়ার উড়োজাহাজের ভাড়া এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৬০ হাজার ইউরো থেকে বেড়ে ৯৪ হাজার ইউরোতে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে ভাড়া প্রায় ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশ বা ৩৪ হাজার ইউরো বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া ইউরোপগামী কিছু ফ্লাইটের ভাড়া ১ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত পৌঁছানোর নজির পাওয়া গেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো নিকটবর্তী গন্তব্যগুলোতে যাতায়াতের জন্য বর্তমানে ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত ব্যয় করতে হচ্ছে।

এই ভাড়া বৃদ্ধির পেছনে নিরাপত্তাঝুঁকি, ফ্লাইট পরিচালনায় বিধিনিষেধ এবং উড়োজাহাজের সীমিত প্রাপ্যতা প্রধানত দায়ী। সংঘাতপূর্ণ এলাকায় উড়োজাহাজ পরিচালনার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বিমা কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত ‘ওয়ার রিস্ক প্রিমিয়াম’ আরোপ করছে। পাশাপাশি, নিরাপত্তার খাতিরে অনেক পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ফ্লাইট কমিয়ে দিয়েছে, যার ফলে আকাশপথে উড়োজাহাজের সংকট তৈরি হয়েছে। অনেক বিদেশি কোম্পানি এখন তাদের কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যক্তিগত জেটের ওপর নির্ভর করে বিকল্প পরিকল্পনা সাজাচ্ছে। তবে সৌদি আরব থেকে বিদেশি নাগরিকদের ব্যাপক হারে দেশত্যাগের কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া নির্ভর করছে সামগ্রিক নিরাপত্তার ওপর, যা দীর্ঘায়িত হলে এই বাড়তি ভাড়ার চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

নিরাপত্তা উদ্বেগে সৌদি আরবে বাড়ছে প্রাইভেট জেটের ভাড়া

আপডেট সময় : ১২:৩১:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার পরবর্তী পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে বিমান চলাচল ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ও তীব্র নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই অস্থিরতার কারণে ধনী যাত্রী, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে নিয়মিত ফ্লাইটের পরিবর্তে ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ বা প্রাইভেট জেটে দেশ ছাড়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে বেশ কিছু রুটে প্রাইভেট জেটের ভাড়া ৫০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

অক্টোবরের শুরুর দিকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ঘটে, যার দায় স্বীকার করে হুথি বিদ্রোহীরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণের দাবি করেছিল। এই ঘটনার পরপরই বিমানবন্দরটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থবির হয়ে পড়ে এবং লুফথানসা, এয়ার ইন্ডিয়া ও ইন্ডিগোর মতো আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলো তাদের ফ্লাইট স্থগিত বা বাতিল করতে বাধ্য হয়। যদিও পরবর্তী সময়ে বিমানবন্দরটি সীমিত পরিসরে সচল হয়েছে, তবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।

ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ ভাড়াদাতা প্রতিষ্ঠান ‘লাক্স জেটস’-এর তথ্য অনুযায়ী, ভাড়ার এই উল্লম্ফন বেশ স্পষ্ট। উদাহরণস্বরূপ, সৌদি আরবের আল-কাসিম বিমানবন্দর থেকে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ১৪ আসনের একটি বোম্বার্ডিয়ার উড়োজাহাজের ভাড়া এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৬০ হাজার ইউরো থেকে বেড়ে ৯৪ হাজার ইউরোতে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে ভাড়া প্রায় ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশ বা ৩৪ হাজার ইউরো বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া ইউরোপগামী কিছু ফ্লাইটের ভাড়া ১ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত পৌঁছানোর নজির পাওয়া গেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো নিকটবর্তী গন্তব্যগুলোতে যাতায়াতের জন্য বর্তমানে ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত ব্যয় করতে হচ্ছে।

এই ভাড়া বৃদ্ধির পেছনে নিরাপত্তাঝুঁকি, ফ্লাইট পরিচালনায় বিধিনিষেধ এবং উড়োজাহাজের সীমিত প্রাপ্যতা প্রধানত দায়ী। সংঘাতপূর্ণ এলাকায় উড়োজাহাজ পরিচালনার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বিমা কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত ‘ওয়ার রিস্ক প্রিমিয়াম’ আরোপ করছে। পাশাপাশি, নিরাপত্তার খাতিরে অনেক পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ফ্লাইট কমিয়ে দিয়েছে, যার ফলে আকাশপথে উড়োজাহাজের সংকট তৈরি হয়েছে। অনেক বিদেশি কোম্পানি এখন তাদের কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যক্তিগত জেটের ওপর নির্ভর করে বিকল্প পরিকল্পনা সাজাচ্ছে। তবে সৌদি আরব থেকে বিদেশি নাগরিকদের ব্যাপক হারে দেশত্যাগের কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া নির্ভর করছে সামগ্রিক নিরাপত্তার ওপর, যা দীর্ঘায়িত হলে এই বাড়তি ভাড়ার চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।